আসাদ মান্নান এর কবিতা : পুরাণের প্রাতিস্বিক পরিলেখ

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৭, ২০২১

আসাদ মান্নান এর কবিতা : পুরাণের প্রাতিস্বিক পরিলেখ

রাহিমা আকতার বীথি

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে আসাদ মান্নান (জ.১৯৫৭) একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর কবিতায় পুরাণ বা মিথ ব্যবহার-কৌশল প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি সময়, জীবন-বাস্তবতা ও জ্ঞানের প্রাখর্যে পুরাণকে করে তোলেন বৈচিত্র্যময়, মূর্ত করে তোলেন বিমূর্তকে। বহুস্তরবিশিষ্ট চৈতন্যের সঙ্গে কবি মানুষের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক তৈরি করেন।

চেতনাই মানুষের জ্ঞান নির্দেশক মানদণ্ড। মানুষ তার চৈতন্যের সক্রিয়তা দিয়ে জগতের আবর্তনচক্রে নিজেকে অভিযোজন করতে সমর্থ হয়। কবিরা তো সেক্ষেত্রে আরো অগ্রসর। কবি তাঁর সর্বজ্ঞ-দৃষ্টি দিয়ে চৈতন্যকে শানিত করেন। মা-মাটি-দেশের মতো কবি ইতিহাস-ঐতিহ্য-পুরাণকে সত্তায় ধারণ করেন। আবার ইতিহাস-ঐতিহ্য-সংস্কৃতির মতো মিথ-পুরাণও তাৎপর্যপূর্ণ। অভিন্ন এক পথ-পরিক্রমায় মানব মনে ক্রিয়াশীল হয় মিথ-ইতিহাস-ঐতিহ্য। এই ক্রিয়াশীলতার মধ্যদিয়ে পুরাণ স্বচ্ছন্দে জীবন-সম্পৃক্ত হয়। তাই সাহিত্যেও রেখে যায় তার বহুমাত্রিক প্রভাব।

আধুনিক বাংলা সাহিত্যে আসাদ মান্নান (জ.১৯৫৭) একজন গুরুত্বপূর্ণ কবি। তাঁর কবিতায় পুরাণ বা মিথ ব্যবহার-কৌশল প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি সময়, জীবন-বাস্তবতা ও জ্ঞানের প্রাখর্যে পুরাণকে করে তোলেন বৈচিত্র্যময়, মূর্ত করে তোলেন বিমূর্তকে। বহুস্তরবিশিষ্ট চৈতন্যের সঙ্গে কবি মানুষের দ্বান্দ্বিক সম্পর্ক তৈরি করেন। ফলে পুরাণের পূর্বজ সংজ্ঞার্থই পরিবর্তিত হয়ে যায়। কবির ভগ্ন-চূর্ণপ্রায় জীবন, নৈঃসঙ্গ্যবোধ, বেদনা-বিহ্বলতা, পরাভবের যন্ত্রণা ইত্যাদি পুরাণের স্মৃতি-আধারে মিশে যায়।

অনেক সময় পুরাণ ও মিথকে সমভাবে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু এ-বিষয় দুটো এক নয়। পুরাণ বলতে সাধারণত ধর্মীয় শাস্ত্র, উপশাস্ত্র, গ্রন্থ প্রভৃতিকে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে মিথ শব্দটি স্মৃতি ও অভিজ্ঞতার মতো বিষয়কে প্রস্ফুটিত করে। তবুও, ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটাতে মিথ ও পুরাণ পরস্পরের প্রতিশব্দ বলেই প্রতিভাত হয়। রোঁলা বার্তের [Roland Barthes (1915-1980)] বক্তব্য-অনুযায়ী : সামাজিক, মানবিক জীবনধারণের ক্ষেত্রে মিথ বা পুরাণ সেই সুপ্রাচীন কাল থেকে অদ্যাবধি নিরন্তর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে স্থিত হয়। (Roland Barthes 2000 : 109)

২.

স্রষ্টা, সৃষ্টি ও তাঁদের মধ্যে বিরাজমান আন্তঃসম্পর্ক, দেবতাদের অলৌকিক ক্রিয়াকর্ম, রাজাকেন্দ্রিক সমাজ-রাজনৈতিক ব্যবস্থা—সমস্তকিছু ঘিরে সাধারণ মানুষের যে প্রাত্যহিক জীবনাচরণ, তার ভেতর থেকেই পুরাণের উন্মেষ ও বিকাশ সাধিত হতে থাকে। অবশ্য ধীরে ধীরে এই ভাবনা ক্রমবিবর্তিত রূপ লাভ করে। রোঁলা বার্ত মিথকে বুর্জোয়া সমাজের অনুষঙ্গ হিসেবেও দ্যাখেন ( Roland Barthes 2000 : 142)|

শাস্ত্রের আচার-আচরণ মানুষ সৃষ্টির প্রারম্ভলগ্ন থেকেই লালন-পালন করে আসছে। এই পালন-প্রবণতা মানুষের অস্থিমজ্জায় নিগূঢ়ভাবে প্রোথিত। ফলে আধুনিকযুগে মানুষ বিজ্ঞানমনস্ক হলেও ধর্মীয় আচার-আচরণ, শাস্ত্রজ্ঞান, পুরাণকথা তথা মিথ সম্বন্ধে নির্বিকার থাকতে পারে না। কেননা পুরাণকথা প্রকৃতির অমোঘ নিয়মে বিবর্তমান কালের পিঠে সওয়ার হয়।

৩.

বাংলা সাহিত্যে পুরাণকে বিবিধভাবে ব্যবহার করা হয়। আধুনিক সাহিত্যে পুরাণ নতুনভাবে হাজির হয়। মূলত কবি-সাহিত্যিকরা তাঁদের অস্মিতা ও প্রজ্ঞা দিয়ে পুরাণকে ভিন্নমাত্রিক করে তোলেন। কবি আসাদ মান্নানও এক্ষেত্রে ব্যতিক্রম নন। তাঁর কবিতায়ও মিথের স্বতন্ত্র উপস্থিতি দৃষ্টিগোচর হয়। মূলত তাঁর কবিতা-আবহে মিথিকতা বিদ্যমান। বাস্তব-অভিজ্ঞতা, মননশীল পরিচর্যা এবং ঐতিহ্যের ধারক মিথ—এই তিনের সমন্বয়ে তাঁর কবিতা সৃষ্টি হয়। ফলে তাঁর কবিতা আধুনিক হয়েও, হয়ে ওঠে পুরাণগন্ধী।

রোঁলা বার্ত, ক্লদ লেভি স্ট্রস, কলিংউড প্রমুখ মিথের নবরূপায়ণ করেছেন। বাংলাসাহিত্যেও তা অদৃষ্টগোচর নয়। মননশীল কবির হাতে সৃজিত কবিতা থেকে তা সহজেই অনুমেয়। মানবসভ্যতার বিবর্তনের ধারায় আদিস্মৃতির রূপান্তর সাধিত হয়। কবি পুরাণ-প্রতিমার নবরূপ নির্মাণে লিপ্ত হন। আত্ম-অন্বেষণ উন্মুখ কবি স্বদেশ-ভাবনার উদ্বেলিত হন। আর চিন্তাসূত্রে তিনি গ্রথিত করেন পুরাণকথাকে।

ইতিহাসের বাস্তবতা ও মনস্তাত্ত্বিক অন্বেষাকেও কবি গুরুত্ব দেন। সবকিছুর সংমিশ্রণে অভিন্ন এক পুরাণ কবির হাতে ব্যঞ্জনায় ঋদ্ধ হয়। পুরাণকে ব্যবচ্ছেদ করলে এর অভ্যন্তরে তিনটি পৃথক বিষয় পরিদৃষ্ট হয়। প্রথমটি, অন্তর্লীন প্রেক্ষিত। অর্থাৎ, কোনো পরিপ্রেক্ষিতের আধারে মিথের উদ্ভব হয়। দ্বিতীয়টি, মূল উপজীব্য—যার মাধ্যমে কোনো ঘটনা ও ফলাফলের যোগসাজশে মিথ পরিণত হয়ে ওঠে। আর তৃতীয়টি হলো বহির্বিন্যাস—এ-পর্যায়েই মিথ কবির মনন-সান্নিধ্যে এসে নবরূপা হয়ে ওঠে। যাকে কিনা পুরাণের পুনর্জন্ম হিসেবেও অভিহিত করা যায়। অন্যভাবে বলা যায়—অন্তর্লীন প্রেক্ষিত হলো পুরাণের শিকড়, মূল উপজীব্য বা কাহিনি হলো ঐতিহ্যিক ভিত্তি আর বহির্বিন্যাস হলো পুরাণের আধুনিক রূপান্তর। এই তৃতীয় স্তরেই কবি সবচেয়ে বেশি অভিনিবেশ-আবিষ্ট হন। নিজস্ব প্রজ্ঞায় অভিষিক্ত হয়ে ওঠেন। ফলে একটি নবমাত্রা নিয়ে পুরাণের আবাহন হয়। কবি প্রাত্যহিক প্রাকৃত ঘটনাকেই পুরাণ-সৌকর্যে স্বতন্ত্র করে তোলেন। অর্থাৎ কবির ভাবপ্রকাশের বাহন তথা ধরনই হয় পুরাণ। আর কবিতার ভাষা হয়ে ওঠে পৌরাণিক। এভাবেই পুরাণকথা কবির যাপিতজীবনের সংস্পর্শে আসে। আধুনিক সময়ের সঙ্গে তা একাত্ম হয়ে ওঠে। সমাজ, স্বদেশ, নিসর্গ, নারী, প্রেম-বিরহ সমূহবিষয় মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় কবিতায়। পুরাণের নতুন রূপ, নতুন আবহ, নতুন ব্যাখ্যা সৃজন করেন কবি। কখনো প্রতীকে, আবার কখনো পদ্ধতিতেই তাৎপর্যবাহী হয়ে ওঠে পুরাণ। আসাদ মান্নানের কবিতায়ও রয়েছে এমন বৈশিষ্ট্য। যেমন তোমার কীর্তন (২০০৬) কাব্যে কবির ভাষ্য :

বিরহ আমার জন্য বসে আছে আকাশ বিছিয়ে—

দুপুর পরেছে তাই ছাইমাখা মলিন পোশাক;

পরানে বেঁধেছি আমি জলহীন অগ্নিজলাশয়।

নথির বিকল্পে যদি পাঠ করো বিরহপুরাণ

মেঘের দীঘিতে একা স্নান করে শূণ্যতার দেবী:

সেখানে কি শুনতে পাবে বৃষ্টিভেজা ময়ূরের ডাক?

সব নারী মুথা ঘাস শুধু তুমি নিটোল হরিণী—

আমার মনের বনে কী নির্ভয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছ।

(আসাদ মান্নান ২০০৬ : ৪৭)

মূলত কবিতায় পুরাণ-উপস্থাপনের ক্ষেত্রে কবিরা কৌশলী মননধর্মিতার প্রয়োগ ঘটান। যেখানে পুরাণের অনুষঙ্গ বা ঘটনাকে অতিক্রম করে কবিরা উত্তরকালকে স্পর্শ করেন। আর এভাবে কবিরা পুরাণকে তাঁদের চৈতন্যপ্রবাহে ক্রমবিবর্ধিত করতে করতে অগ্রসর হন। তারপর এমন এক স্তরে উপনীত হন, যেখানে তাঁদের সমস্ত উপলব্ধি পুরাণের সাথে লীন হয়ে যায়। আসাদ মান্নানের পুরাণচর্যা বা যাপন-সম্পর্কেও এমন ধারণা অমূলক নয়। কবি এই পৃথিবীতে সাম্য-শান্তি-মানবতার জয়ধ্বনি শুনতে অধীর আগ্রহী। অথচ কবির সামনে শ্রেয়বোধের বিপরীতে দণ্ডায়মান তথাকথিত সভ্যসমাজের মুখোশ-মানব। এই মুখোশ খসিয়ে দিতেই কবি পুরাণকে জাগ্রত করে তোলেন। রিরংসা-পীড়িত সময়ে কবি মূক, বধির থাকতে পারেন না। বরং মানবতা-প্রত্যাশী কবির অক্ষমতাজনিত বেদনাবোধ উৎসারিত হয় কবিতায়। সৈয়দ বংশের ফুল (১৯৮৩) কাব্যে কবির ব্যক্ত মনোভাব :

চেয়েছি ঈভের মতো পেতে তাকে আদিম নেশায়,

যে-নেশা ঈভের জন্য আদমের রক্তে আনে ঢেউ:

উলঙ্গ আদম-হাওয়া যৌবনের চাষাবাদ করে

এনেছে মানববীজ-কর্মজীবী উত্তরাধিকার:

দ্বিতীয় আদম আমি-সে আমার অদ্বিতীয়া ঈভ;

আমার বিরুদ্ধে তবে কেন সব সামাজিক জীব!

(আসাদ মান্নান ১৯৮৩ : ৩৩)

কবিচিত্তে প্রকৃতিচেতনার সূত্রেই সময় ও ইতিহাসচেতনার রূপ নির্মিত হয়। এর সঙ্গে দ্যোতক হিসেবে সন্নিবেশিত থাকে পুরাণের আবহ।

৪.

আসাদ মান্নান কবিতায় সমকালকে পুরাণ-আবহে উজ্জ্বল করে তোলেন। তাঁর দার্ঢ্য মনন প্রাখর্যেই এমনটা সম্ভব হয়। আবদুল মান্নান সৈয়দ যেমন বলেন : ‘আমার কবিতা সব সময়ই বস্তুভেদী, সব সময় সমকালভেদী। আমার কবিতা আমার আত্মার ইতিহাস।’ (অনু হোসেন ২০১০ : ১৫)। আসাদ মান্নানের মধ্যেও এমন মনন ও মনোভাব সক্রিয় থাকে। কেননা আত্মার সাথে স্বদেশ-স্মৃতি-ঐতিহ্য-পুরাণ ওতপ্রোতভাবে যুক্ত থাকে।

কবির তীব্র সাহসী উচ্চারণ কবিতায় বিষয়-সংকেতের (objective correlative) অনুভূতিময়তা লাভ করে। এই অনুভব আধুনিকতাবাদী চৈতন্যজাত। মনন ও বুদ্ধির মাধ্যমে তাতে ক্রমাগত চলে নিরীক্ষা। কবির এই নিরীক্ষা প্রকরণ-প্রবণতার দিকে ধাবিত। এ-পর্যায়েই কবিতায় স্পষ্ট হয়ে ওঠে মিথিক আবহ, পুরাণশৈলীর আভাস। অন্যদিকে পূর্বজ-সূত্রে প্রাপ্ত পৌরাণিক-ঐতিহ্য কবি লালন করেন মর্মে, আত্মায়। কবির অবিমিশ্র অনুভূতি এক অভিনব বিষয়-সংকেতে তাৎপর্যমণ্ডিত হয়ে কবিতায় ধৃত হয়। ‘সহসা আগুন জ্বলে যমুনার জলে’ কবিতা থেকে উদ্ধৃত করা যেতে পারে :

১. অতঃপর ছায়া কথা বলে :

স্বদেশী কুত্তার পিঠে বিদেশী শকুন

বেশ্যার ছেলের হাতে ইতিহাস খুন

আগুন লেগেছে তাই যমুনার জলে

আগে আগে হনুমান রাম পিছে চলে

সীতাকে হরণ করে রাক্ষস রাবণ

টুঙ্গিপাড়াই হবে বঙ্গভবন

২. পিতা, তুমি বলো—ইতিহাস কাকে বলে

কাকে বলে স্বাধীনতা—

কী আমার জন্ম পরিচয়!

মহাকাল! নির্বাক তাকিয়ে রয় :

সহসা আগুন জ্বলে যমুনার জলে

পাশে জলে দ্রৌপদীর শাড়ির আঁচল…

(আসাদ মান্নান ২০১৭ : ১৬)

কোনো বিষয় বা বস্তু মূলত মিথ বা পুরাণ নয়, অথবা স্মৃতিও নয়। বরং এসবের অভ্যন্তরীণ নির্যাস থেকে যে-ভাবের অবতারণা হয়, সেগুলোই জীবনে তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে। এই অনুভূতি ও ভাবের শৌভিক সংলিপ্ততায় জন্ম নেয় মিথ বা পুরাণ। বহুমানবের মন একক মানবে সঞ্চারিত হয়ে সৃষ্টি হয় একীভূত শক্তির। অভিজ্ঞানপ্রাপ্ত বোধের সমীকরণে কবিসত্তায় প্রকৃতি, স্মৃতি ও জীবনসম্পৃক্ত বাস্তববীক্ষণ মূর্ত হয়ে ওঠে। কবিতার প্রতীকে প্রতীকে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কবির এই প্রতীকী-শক্তি ও ভাববোধের অন্তঃপুরেই অনুরণিত হয় মিথস্পন্দন। আসাদ মান্নানের কবিতায় তো এমন বোধেরই বিকাশ পরিদৃষ্ট। যেখানে কেবল পুরাণ-অনুষঙ্গের কারণে নয়, বরং কবিতার ভাবের মধ্যেই পুরাণাবহ সৃষ্টি হয়। ‘নিঃসঙ্গ নদীর যীশু’ কবিতার ভাব-দ্যোতনা এক্ষেত্রে অনুধাবনযোগ্য :

নক্ষত্রের রূপালি নদীর চরে কালজয়ী মহান জনক

কুমারী মায়ের নামে কুড়োলেন ভালোবাসা সময়ের ফেনা।

ফেনার মহলে সূর্যে কে বাজায় তার নামে অর্ফিয়সী বাঁশি!

তরুণ গ্রীসের মতো যে পুরুষ বুকে জ্বালে অগ্নি ভালোবাসা। (আসাদ মান্নান ২০১১ : ৩৩)

উদ্ধৃতি থেকে অনুমিত যে, মানুষের অভিজ্ঞতাজাত বহুবিধ ঘটনার নির্যাসের আধারই হলো মিথ। তাই এ-অবস্থায় সহজাতভাবেই মিথের আক্ষরিক অর্থ আমাদের কাছে দুর্ভেদ্য বলে প্রতীয়মান হয়। অর্থাৎ কবিতায় এমন মিথিক আবহ কোনো নির্দিষ্ট অর্থবহ নয়, যা সরাসরি বাক্যে প্রস্ফুটিত করা যায়। বরং কবিতার মিথিক আবহ বহুমাত্রিকতা নিয়েই কবিতায় আবির্ভূত হয়। বহুজনের কাছে বহুভাবে তা বিশ্লেষিত হয়। অর্থাৎ : ‘মিথের কাজ দৈনন্দিন ব্যবহারিক প্রয়োজন মেটানো নয়। বরং মানব প্রজন্মের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার যৌথ অনুভূতি প্রকাশের আকাঙ্ক্ষা মূর্ত হয়ে ওঠে মিথে।’ (শিমুল মাহমুদ ২০১২ : ১৯১)।

আসাদ মান্নানের কবিতায় রয়েছে এমন আকাঙ্ক্ষারই প্রকাশ। আমাদের বদ্ধবোধের দ্বারে তা আঘাত করে। মানবিক বোধকে তা সজীব-সক্রিয় করে তুলতে সমর্থ হয়। ‘সুন্দর দক্ষিণে থাকে’ (২০০৪) কাব্যে কবির স্বনামে রচিত ‘আসাদ মান্নান’ শীর্ষক কবিতায় রয়েছে মানব-মনীষার দীর্ঘপথ :

আমি এ বন্দুক কাঁধে সাত লক্ষ নক্ষত্রের ছায়ার ভেতর

পৃথিবীর সর্বশেষ কুমারীর চুলের খোঁপায় হেঁটে যায় :

একেকটি বুলেট থেকে বের হবে সাত লক্ষ মানুষের ঘর

প্রত্যেক ঘরের মধ্যে জন্ম নেবে মুহম্মদ সক্রেটিস যীশু

প্রত্যেক যীশুর বুকে বন্দুকের নলাঘাতে গোলাপ ফোটাব

প্রত্যেক গোলাপ থেকে জন্ম নেবে পৃথিবীর সর্বশেষ শিশু

এবং এ শিশু হবে ঈশ্বরের একমাত্র উত্তরাধিকারী,

মানবমনীষা জুড়ে এই নামে তৈরি হবে কবিতার বাড়ি।

(আসাদ মান্নান ২০০৭ : ১১)

এভাবেই ঐতিহ্যিক-সূত্রে প্রাপ্ত পটভূমি কবির প্রজ্ঞার সাথে লীন হয়ে যায়। এক অনবদ্য ভাবের উন্মেষ ঘটে কবিতায়। আসাদ মান্নানের কবি-ব্যক্তিত্বে বিশ্বকাব্য-ঐতিহ্য লালিত হয়। তাঁর কবিতায় প্রতীকরূপে স্থান পায় বিশ্বখ্যাত ব্যক্তিত্ব এবং প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের মিথ। সেসব অনুষঙ্গ কবিতাকে নিগূঢ় তাৎপর্যমণ্ডিত ও ব্যঞ্জনাময় করে তোলে। মননলব্ধ বৈশ্বিক পুরাণ-প্রজ্ঞার ছাপ তাঁর কবিতায় এভাবেই প্রতিফলিত হয় :

নতুন দ্রাক্ষার রসে ভাসমান সূর্যের উত্তাপ নিয়ে কুমারী মাতার গর্ভে

ওরা আসছে—সব ধর্মালয়ে জন্মালয়ে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে

হ্যাঁ, ওরাই তো আসছে, সুখ ও শান্তির গায়েবি পতাকা হাতে

মুহম্মদ যীশু আর বুদ্ধের বিদীর্ণ আত্মা থেকে। (আসাদ মান্নান ২০১৬ : ১১)

এখানে ‘ভাসমান সূর্যের উত্তাপ নিয়ে কুমারী মাতার গর্ভে’ রয়েছে মহাভারত-এর কুমারী মাতা কুন্তীর আভাস। ঋষি দুর্বাসাকে পরিতুষ্ট করে মন্ত্রপ্রাপ্ত বরে তিনি দেবসন্তান গর্ভে ধারণ করবেন। কর্ণ তার প্রথম সন্তান, যাকে কুমারী মাতা সূর্যদেবতার রশ্মি থেকে গর্ভে ধারণ করেন। অন্যদিকে কবিমনন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে অসাম্প্রদায়িক পুরাণ-চেতনাধারী। কবি একটি নিরপেক্ষ মানবিক পুরাণাবহ নির্মাণ করেন কবিতায়।

৫.

মানুষের স্মৃতিচৈতন্য হাজার বছরের ঐতিহ্য-সূত্রজাত প্রজ্ঞাকে ধারণ করতে সক্ষম। এভাবে সে হয়ে ওঠে সর্বজ্ঞ সত্তার অধিকারী। তার মনন-সৃজনের মিলিত সংবেদে সম্পূর্ণ নতুন পুরাণাবহ সৃষ্টি হয়। আসাদ মান্নানের কবিতায় বিষয়-ভাবনায় অতীত-সমকাল-ভবিষ্যত সমীকৃত হয়। সে-সঙ্গে বিশ্বসভ্যতার ইতিহাস-ঐতিহ্যও তাঁর কাব্যে অন্বিষ্ট। কবির প্রজ্ঞাময় মনস্বিতার চিহ্ন :

… দজলা ও ফোরাত তীরে

আজ স্ট্যাচু অব লিবার্টির নগ্ন কালোমুখ

বোমাদগ্ধ ইরাকের অসহায় নারী ও শিশুর

রক্ত খেয়ে হাসছে জল্লাদের হাসি; গোলাপের পরিবর্তে

বসরায় ফুটে আছে রাশিরাশি মৃত্যু আর মৃত্যু …

আহা! ইরাকের অভিশপ্ত তেলকূপগুলো আজ

মানুষের রক্তকূপে মৃত্যুকূপে পরিণত হলো—

ডলার ড্রাগন খাচ্ছে ইরাকির সোনার দিনার;

সুমেরীয় সভ্যতাকে চেঙ্গিসের উত্তরাধিকারী

নির্বিকার গিলে ফেলে!—প্রতিরোধ কোথাও হলো না!

(আসাদ মান্নান ২০১৬ : ৩৪)

বলা যেতে পারে, অভিজ্ঞতা ও প্রজ্ঞার জাগরূক প্রক্রিয়া এভাবেই পুরাণকে বাঁচিয়ে রাখে। ঠিক যেভাবে সালোকসংশ্লেষণ-প্রক্রিয়া উদ্ভিদকে বাঁচিয়ে রাখে।

আসাদ মান্নান নিসর্গকে স্মৃতি হিসেবে অঙ্কন করেন। কবির পক্ষে নিসর্গরূপী স্মৃতিজগতকে এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। অর্থাৎ কবি তাঁর যাপিত জীবন ও জীবনাভিজ্ঞতাকে বাতিল করতে পারেন না। তেমনি হাজার বছরের ঐতিহ্য-সূত্রে লব্ধ স্মৃতিকেও ভুলে থাকতে পারেন না। ফলে উভয়ের যৌথবিচরণে কবির কবিতা হয়ে ওঠে আধুনিক রাষ্ট্র, রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজের কালিমায় লিপ্ত। কবিতা হয়ে ওঠে নেতিপ্রভাবযুক্ত এবং স্মৃতিতাড়িত নিসর্গশোভিত অভিব্যক্তির এক জটিল প্রকাশক্ষেত্র। সম্পূর্ণভাবে কবিতাকে তা পৌরাণিক ছায়া-আবৃত করে ফেলে। ‘হে অন্ধ জলের রাজা’ (২০১৪) কাব্যের নামকবিতা থেকে দেখা যাক :

… প্রলয়ের শিঙ্গা ফুকে জেগে ওঠে পাথর ফেরেস্তা।

হরিণীর লাশ দেখে, বাঘিনীর আর্তনাদ শুনে

নিরন্ন নদীর ক্ষুধা গর্জে ওঠে অরণ্যের পেটে:

জলের মর্সিয়া শুনে দেবতারা উড়ে যায় চরের শ্মশান;

আকাশ পড়েছে ভেঙ্গে ঈশ্বরীর ভাতের হাঁড়িতে।

দ্যাখো, দুধের বাটিতে আজ নাগিনীর মধুরমিলন:

ঈশ্বরের সন্তানেরা ভাত নয়, নরকের রুটি খেয়ে আগুনে ঘুমায়!

(আসাদ মান্নান ২০১৪ : ৬৩)

পুরাণ, লোককথা, ধর্মীয় অনুষঙ্গ, রূপকথার বিচিত্র উপকরণ আসাদ মান্নান তাঁর কবিতায় প্রয়োগ করেন। সেখানে থাকে একজন কল্পনাপ্রবণ, স্বপ্নচারী মানুষের দৃষ্টিকোণ। তবে কবিতায় তা নিছক কোনো স্বপ্ন-কল্পনার আকাশ-কুসুম জগতে সীমাবদ্ধ থাকে না। বরং কবির সচেতন মানস-মূল প্রোথিত থাকে এক বিরূপ বিশ্বের কৃষ্ণগহ্বরে। স্বতঃস্ফূর্ত আবেগের জঙ্গমতায় কবিতায় ঘটে তার বহিঃপ্রকাশ। এ-প্রসঙ্গে কবির ‘জল্লাদ শহর’ কবিতা উদ্ধৃত করা যায় :

রক্তের বুভুক্ষা ছুঁয়ে জেগে ওঠে যমুনার চর;

মদন মন্দিরে জ্বলে যৌবনের নিষ্পাপ পিদিম;

নিবিড় নীলিমা ব্যাপ্ত কামানলে কুসুমকুমারী

পুরুষ শিকারে নামে—ধরা পড়ে নিষ্কাম কানাই।

(আসাদ মান্নান, ‘হে অন্ধ জলের রাজা’, ২০১৪ : ১৩)

মূলত কবির স্বদেশ ও সমাজসম্পৃক্ত জীবন-প্রজ্ঞা প্রচলিত পুরাণের স্থবির, অনড় শৃঙ্খলাকে ভেঙে ফেলে। ব্যক্তির আত্মসত্তা নতুনরূপে বিন্যস্ত হয়। এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উৎকর্ষময় পৃথিবীতে পৌরাণিক কাহিনি অকেজো, অচল—একথা কবির পক্ষে গ্রহণীয় নয়। আসাদ মান্নানের কবিতায় পুরাণকে ঘিরে ঐতিহ্য-আবেগ-স্মৃতির সক্রিয়তাই বিকাশমান রূপ পরিগ্রহ করে। জীবনানন্দ দাশ কবিতায় কল্পনা, অভিজ্ঞানের সারবত্তার কথা বলেছিলেন। আসাদ মান্নানের কবিতায় যেন সেই ‘সারবত্তা’র আভাস জারিত হয়। কবিতার স্বরে, শব্দবিন্যাসের ভাঁজে-ভাঁজে প্রযুক্ত হয় পুরাণশৈলী। কবির ‘যে পারে পার নেই সে-পারে ফিরবে নদী’ (২০১১) কাব্য সে-কথা প্রমাণ করে।

কবির অভিপ্রেত মনন ও প্রজ্ঞায় পুরাণ যেন চিরনতুন আচ্ছাদন পায়। পুরাণে দেবতা-মানুষ, শক্তিমান-শক্তিহীনের ক্ষমতার লড়াই দেখি। এ-কবির কবিতায় রয়েছে সেই অসম লড়াইয়ের ছবি। কবিতার সৃজন-মননের ভাষ্যে ঘনীভূত হয়ে ওঠে পুরাণগন্ধী রহস্যময় আবেশ। ‘মরুভূমি বসে আছে নদীর খেয়ায়’ কবিতায় এমনটা অনুভব করা যায় :

মর্গে মৃত রমণীর লাশ নিয়ে ঝগড়া করে ডোম ও ফেরেস্তা:

ফেরেস্তার এক দাবি—ওর বুকে জ্যোৎস্না ছিল, আমি ওকে চাই;

ডোম বলে—জ্যোৎস্না নয়, ছিল মদ—আমি চাই মৃতার মদিরা।

(আসাদ মান্নান ২০১৪ : ১১০)

দ্বিধা-দ্বন্দ্বে ভরপুর মনোবাসনার বিচ্ছুরণ এখানে প্রত্যক্ষ। ‘ফেরেস্তা’ ও ‘ডোম’-এর মধ্য দিয়ে বিপরীতধর্মী চেতনা-বাসনার দৃষ্টান্ত প্রস্ফুটিত হয়। পরম অবলীলায় কবি ‘ফেরেস্তা’ ও ‘ডোম’কে একই মৃতনারীর পাণিপ্রত্যাশী করে তোলেন। পুুরাণের সাদৃশ্যেই ইহলোক-পরলোক, নশ্বর-অবিনশ্বরের সীমারেখা ভেদ করে কবি প্রাতিস্বিক করে তোলেন স্বমননজাত প্রজ্ঞা ও সৃজনীশক্তিকে।

কবিতায় কবির ঐতিহ্যিকচেতনা এবং যাপিত জীবনের আখ্যান রচিত। একইসাথে কবির পরাবাস্তব চৈতন্যপ্রবাহ এবং বহির্জাগতিক যাদুবাস্তবতার সম্মিলনে ভিন্নমাত্রিক বিশ্ববীক্ষণের উদ্ভব হয়। ‘বৃষ্টি ও মাতৃভূমির গাঁথা’ কবিতায় কবির ভাষ্য :

প্রথম প্রেমের মতো বৃন্দাবনী বৃষ্টি নামে হৃদয়ের চরে :

গোধূলির প্রজাপতি ছায়া। নক্ষত্রের করতলে জন্ম নিয়ে

যে শিশু কৃষ্ণের আয়ু ধার নিয়ে বেঁচে থাকতে চায়

সেও জানে বিনা রক্তে মায়ের জরায়ু ছেড়ে কোনও শিশু

পৃথিবীকে ভালোবেসে কোনোদিন ভূমিতে নামেনি।

(আসাদ মান্নান, ‘হে অন্ধ জলের রাজা’ ২০১৪ : ২৩)

এই নবজাত চিন্তায় রয়েছে পূর্বোল্লিখিত ঐতিহ্য ও যাপিত জীবনের উপকরণসমূহ। তথা আশা-নিরাশা, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তি, ক্লেদ-জঙ্গমতা, মানবিক অবনমন-অবক্ষয়, সভ্যতাজাত বিজ্ঞান-প্রযুক্তির শুভবোধ। অন্যদিকে তেমনি রয়েছে প্রবল ধ্বংসযজ্ঞ। জীবন ও ধ্বংসের সমস্তটা একীভূত হয় কবির চেতনাপ্রবাহে। কালের ব্যবধান ভুলে তা কবির মননস্নাত প্রজ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়। ফলে পৌরাণিক দুনিয়া কবির অভিগমনপথে অনিবার্য অভিক্ষেপ ফেলে। আর এটা সম্ভব হয় কবির অভিজ্ঞান আয়ুধের প্রাতিস্বিকতার কারণেই।

৬.

আসাদ মান্নান ঐতিহ্য ও সভ্যতাকে পুরাণের মোহসূত্রে আবদ্ধ করতে চান। সমাজ-সংস্কৃতি-রাজনীতি সচেতন কবি দৈশিক ও বৈশ্বিক জীবন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। সৃজনশীলতার সাথে মনন-অভিজ্ঞানের সংযোগ-সাধন তাঁর কবিস্বভাব। তাঁর কবিতায় পুরাণের সজীবকরণে বিস্ময়করভাবে নির্জ্ঞান মনের সংযোগ ঘটে। ফলে হৃদয়ে সংগুপ্ত থাকা দেশজ ও বৈশ্বিক সংস্কৃতির সমন্বয় ঘটে। সেখানে উদ্ভূত হয় অনাদি এক বিশাল মহীরুহ।

রাজনৈতিক নৈরাজ্য, সামাজিক মূল্যবোধে অবক্ষয়, বিকার-ক্লেদ-জঙ্গমতা-রিরংসা-বিবমিষার তমসা সবকিছু আসাদ মান্নানের কবিতায় স্থান লাভ করে। কবিমন পারিপার্শ্বিক সংস্কারের দোলাচল, বাস্তব পরিস্থিতি ও অভিজ্ঞতা প্রকাশে কবিতাকে আয়ুধ হিসেবে গ্রহণ করে। যেখানে অনিবার্যভাবে কবিচেতনায় সুপ্ত পুরাণ-ঐতিহ্য তাঁর জীবন-অভিজ্ঞতায় সংলিপ্ত হয়; নতুন বোধের উন্মেষ ঘটায়। যুদ্ধ-পরবর্তী স্বাধীন-সার্বভৌম স্বদেশে থাকে সুষ্ঠু নির্মাণ-স্বপ্ন। কতিপয় দেশীয় নরপশু স্বাধীন দেশের মসনদ পেতে চায়। জাতির জনকের নির্মম হত্যা, সামরিক-দুঃশাসনের মধ্যদিয়ে অরাজকতার উত্থান ঘটে। ক্রমে রাজনৈতিক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়। পুঁজিবাদের বিস্ফোরণ কবিকে বাস্তবের সাথে প্রকটভাবে লীন করে দেয়। আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়, তিনি বুঝি তাঁর নিজস্ব ঐতিহ্যিক স্মৃতিবাহিত চেতনা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছেন। কিন্তু কবি তাঁর জাতিগত সংস্কৃতি বিস্মৃত হতে পারেন না। কবির কবিতায় এই সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য পৌরাণিক আবহে ঋদ্ধ হয়ে ওঠে। একদিকে তা জীবনসংলগ্ন, অন্যদিকে পুরাণ প্রাচুর্যে অমলিন। এসবের মধ্যদিয়ে দূরাতীত, বিচ্ছিন্নপ্রায় ব্যক্তিমনের এমনকি বহুমানবের হৃদয় সন্ধিবদ্ধ হয়। এভাবেই কবির মন ও মনন পুরাণচৈতন্যের আলোকে গভীরভাবে উৎসের দিকে প্রত্যাবর্তিত হয়।

তথ্য-সহায়তা

অনু হোসেন (সম্পা.)। আবদুল মান্নান সৈয়দ রচনাবলি (প্রথম খণ্ড)। ঢাকা : বাংলা একাডেমি, ২০১৫

আসাদ মান্নান। জলের সানাই। ঢাকা : মাওলা ব্রাদার্স, ২০১৭

আসাদ মান্নান। তোমার কীর্তন। ঢাকা : মিজান পাবলিশার্স, ২০০৬

আসাদ মান্নান। নির্বাচিত কবিতা। ঢাকা : সাহিত্য বিকাশ, ২০০৭

আসাদ মান্নান। প্রেমের কবিতা। ঢাকা : মাওলা ব্রাদার্স, ২০১৪

আসাদ মান্নান। হে অন্ধ জলের রাজা। ঢাকা : আগামী প্রকাশনী, ২০১৪

আসাদ মান্নান। মরুভূমি স্বপ্ন দ্যাখে জল। ঢাকা : মাওলা ব্রাদার্স, ২০১৬

জীবনানন্দ দাশ। কবিতার কথা। ঢাকা : বিভাস, ২০১৫

শিমুল মাহমুদ। মিথ-পুরাণের পরিচয়। ঢাকা : রোদেলা, ২০১৬

Roland Barthes. Mythologies. London: Vintage, 2000

রাহিমা আকতার বীথি গবেষক, বাংলা ডিসিপ্লিন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন।

ছড়িয়ে দিন