আসুন সবাই মিলে ভালোবাসার প্রতিযোগিতা করি

প্রকাশিত: ৮:৩৬ পূর্বাহ্ণ, এপ্রিল ২৮, ২০১৯

আসুন সবাই মিলে ভালোবাসার প্রতিযোগিতা করি

নার্গিস সোমা

“পর্দা কি পিছে পর্দানসী্ন ।”
কথাটা এখন হয়ত আর বলা উচিত হবেনা কারণ যে সুন্দরকে আমরা পর্দা দ্বারা আবৃত করে রাখতাম তা এখন জঙ্গীবাদের কাজে ব্যবহার করছে কিছু স্বার্থবাজ লোকজন । যারা দাবি করেন তারা ইসলাম রক্ষাকারী । যদি তাই হয়, তাহলে এই বোরকা নামক মেয়েদের পর্দাটাকে কেন তারা অসম্মান করছে? কোনো ধর্মে কি আছে নীরিহ মানুষকে হত্যা করা? যারা এসব কাজের লিডার তারা কি একবার ও ভেবে দেখেছে বেহেস্তের আশায় আর তাদের নিজ ধর্ম প্রতিষ্ঠার আশায় হাজার হাজার মাকে করছে সন্তান হারা, কত মেয়ে হচ্ছে বিধবা,কত সন্তান হারাচ্ছে তাদের বাবা মা কিন্বা প্রিয়জনকে।
আমরা জাত গেল জাত গেলো এ কথা ভুলে কবে কাজ করার সময় চলে গেলো নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার সময় চলে গেলো, একথা কবে বলতে ও ভাবতে শিখবো ?
জাতের বড় দোষ এ দোষে যে যে জাতি আক্রান্ত হয়েছে তারা কি আজ সফল রাষ্ট্রে পরিনত হতে পেরেছে??
শ্রীলঙ্কাতে এতগুলো মানুষ বোমা হামলায় মারা গেলো তাদের কি দোষ ছিলো? জাতের দোষের তালিকাতে তারা নিজের অজান্তে পড়ে গিয়েছে?
আমরাও তো পড়তে পারি কখনো কারো তালিকাতে কিন্বা অন্য কেও। আর কত?
কবে আমরা সবাই মানুষ হবো?
নিজেকে নিজে সম্মান দেবো?
বোরকা পরা মেয়েরা এখন কতটা নিরাপদ দেশ এবং দেশের বাইরে?
এ জন্য দায়ী কারা?
আমি? নাকি আপনি? নাকি আমাদের তৈরী কিছু নিয়ম নীতি ?
ধর্মের নিয়ম যদি মানুষের জীবনকে সুন্দর করে তোলা তবে এ কেমন ধর্মের নীতি যা কিনা নীরিহ মানুষের জীবন কেড়ে নেবার শিক্ষা দেয়? এ শিক্ষা কি আসলেই কোন ধর্মের? নাকি কিছু স্বার্থপর লোকের বানানো নিয়মে আক্রান্ত আমাদের অবুঝ সমাজ?

এত প্রশ্নের উত্তর আমাদের নিজের কাছেই । আর সমাধান ও আমাদের নিজেদেরকেই খুঁজতে হবে।আমাদের মানুষ হয়ে বাঁচা শিখতে হবে । মানুষকে ভালোবাসতে হবে। মানুষকে ভালোবাসার চেয়ে আর কোন কিছু বড় হতে পারেনা। হিংসা শুধুমাত্র বিনাশের শিক্ষা দেয় ,গড়ার না । তবে কেন আমাদের এই বিনাশের পথকে অনুসরন করা? কর্মকে গুরুত্ব্ দেওয়া উচিত । ভালো কাজে সকলকে আকৃষ্ট করা সহজ। আমরা কেন এই সহজ পথ বেছে নেই না? রক্তের রঙ তো সবার একই – লাল। লাল রঙ তো ভালোবাসার । তাহলে ভালোবাসার এত কেনো অভাব সবার ভেতরে?
আমরা আসলে সবাই নিজের কথা ভাবি নিজের স্বার্থের কথা চিন্তা করি। এজন্য আমরা একে অন্যের জন্য জেনে কখনো না জেনে বলীর পাঁঠা হচ্ছি। পৃথিবীর প্রতিটা জিনিস একে অন্যের উপর নীর্ভরশীল। কিন্তুু পার্থক্য একটাই – মানুষ আর অন্য প্রানীর ভেতর । অন্য প্রানী পেটে খিদে থাকলে খাবার জন্য খিদে মিটানোর জন্য হামলা করে আর মানুষ একমাত্র প্রানী যে কিনা গলা প্রযন্ত ভরা থাকলেও হামলা করবে যেন অন্য কেও তা নিতে না পার । আমরা ভালোবাসতে কবে শিখবো? আসুন সবাই মিলে ভালোবাসার প্রতিযোগিতা করে দেখি কে কত ভালোবাসতে পারে। তাহলে আমরা নিজেদেরকে মানুষ হিসাবে সম্মান দিতে পারবো।

নার্গিস সোমা : আন্তর্জাতিক খ্যাতি সম্পন্ন চিত্রশিল্পী । শিক্ষক, রাজশাহী আর্ট কলেজ