ইউক্রেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থগিত করল রাশিয়া

প্রকাশিত: ৬:০০ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ১৭, ২০১৫

ইউক্রেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল স্থগিত করল রাশিয়া

এসবিএন ডেস্ক:

ইউক্রেনের সঙ্গে চালু হওয়া মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের কার্যক্রম স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। রাশিয়ার ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন (ইইউ) সদস্যদের বৈঠকের প্রাক্কালে গত বুধবার পুতিন এ আদেশ দেন। ক্রিমিয়া ইস্যু ও ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে শুক্রবার এ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। খবর ফিনান্সিয়াল টাইমস।

ধারণা করা হচ্ছে, ইইউর সঙ্গে ইউক্রেনের বাণিজ্য চুক্তির ফলে রাশিয়ার বাজারে ইউক্রেনের অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশ বাতিল হয়ে যেতে পারে। তবে আগামী সোমবার রাশিয়া, ইউক্রেন ও ইইউর মধ্যকার ত্রিপাক্ষিক বৈঠকের পর রাশিয়া-ইউক্রেনের দ্বিমুখী বাণিজ্য যুদ্ধ আর বাড়বে না বলে আশা করা হচ্ছে।

বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বক্তব্য দেয়ার সময় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট পেত্রো পোরোশেঙ্কো জানান, আগামী ১ জানুয়ারি থেকেই ইইউ ও ইউক্রেনের মধ্যে ডিপ অ্যান্ড কম্প্রিহেনসিভ ফ্রি ট্রেড এগ্রিমেন্ট (ডিসিএফটিএ) চালু হবে। এতে বিলম্বের কোনো প্রশ্নই আসে না। পুতিনের এ আদেশের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘আমাদের স্বাধীনতা ও ইউরোপীয় পছন্দের জন্য এতটুকু ছাড় দিতে তৈরি আছি।’

ইইউ ও ইউক্রেনের মধ্যকার ডিসিএফটিএ চুক্তি এ বছরেই চালু হওয়ার কথা ছিল। তবে ইউক্রেন সরকার ও রাশিয়াপন্থী বিদ্রোহীদের সংঘাত নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে বেলজিয়ামের আলোচনার কারণে এটি পিছিয়ে যায়। তবে এ আলোচনায় রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যকার সম্পর্কে কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি।

এদিকে ইইউ প্রেসিডেন্ট জঁ-ক্লদ জাঁকার বলেছেন আগামী সোমবারের বৈঠকটি মতৈক্যে পৌঁছানোর শেষ সুযোগ। তবে তিনি বলেন, কোনো প্রকার ‘হুমকি ও প্রতিশোধমূলক’ পদক্ষেপ বাণিজ্য বিষয়ে কূটনীতিক সমঝোতার ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করবে। এ কারণেই আগের আলোচনাগুলো ফলপ্রসূ হয়নি।

বুধবারের আদেশে পুতিন জানান, রাশিয়ার অর্থনৈতিক সুরক্ষা ও স্বার্থে আঘাত হানায় ১ জানুয়ারি থেকে ইউক্রেনের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্যিক সম্পর্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এ আদেশের ফলে দেশ দুটির মধ্যে পরস্পরবিদ্বেষী অর্থনৈতিক দ্বন্দ্ব আরো বাড়লো। দেশ দুটি এরই মধ্যে সরাসরি আকাশপথে যোগাযোগ বন্ধ করেছে। এছাড়া ইউক্রেনের কৃষিজ ও খাদ্যদ্রব্য রাশিয়ার শুল্কমুক্ত বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হয়েছে।

গত সপ্তাহে রাশিয়া ঘোষণা দেয়, ২০ ডিসেম্বরের মধ্যে ইউক্রেন ৩ বিলিয়ন ঋণ পরিশোধ করতে না পারলে রাশিয়া আদালতের শরণাপন্ন হবে। অথবা এর বিকল্প হিসেবে ইউক্রেনকে রাশিয়ার পুনর্গঠন প্রস্তাব মেনে নিতে হবে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) তার ঋণ পরিশোধে অক্ষম সদস্য দেশগুলোকে রেসকিউ ফান্ড সরবরাহের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রাশিয়া আইএমএফের এ সিদ্ধান্ত নিয়েও বেশ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।