ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

প্রকাশিত: ১২:৩৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৪, ২০১৮

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার

কামরুজ্জামান হিমু

ইতিহাস গড়ার স্বপ্ন দেখছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা।

তিনি আশা করছেন, সব দলের অংশগ্রহণে এবারের ভোট সফলভাবে আয়োজন করা গেলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে ‘স্থিতিশীলতা’ আসবে । তৈরি হবে এক নতুন ‘ইতিহাস’।

একাদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন সিইসি হুদা।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের মাধ্যমে নতুন একটা ইতিহাস তৈরি হবে। কেননা এই নির্বাচন যদি সফল হয়, তাহলে এরপর থেকে হয়ত সরকার ও সংসদ থেকেই নির্বাচন পরিচালিত হবে। স্থিতিশীল অবস্থা প্রতিষ্ঠিত হবে।”

এ নির্বাচন সফল হলে কেন তা ইতিহাস হবে, তার একটি ব্যাখ্যাও সিইসি তার বক্তৃতায় দিয়েছেন।

তিনি বলেন, “আসলেই এ বছরের নির্বাচনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কখনও রাষ্ট্রপতি শাসিত, কখনও সেনাবাহিনীর অধীনে, কখনও কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু এবারই সরকারের অধীনে নির্বাচন।

আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত গত দশম সংসদ নির্বাচনকে কেন এই কাতারে ফেলা হচ্ছে না, তার উত্তরও দিয়েছেন সিইসি নিজেই । তিনি বলেন,আপনারা বলতে পারেন, ২০১৪ সালে সরকারের অধীনে নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু তখন সব দল নির্বাচনে অংশ নেয়নি।

সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা বিলোপের পর ২০১৪ সালে ৫ জানুয়ারি দশম সংসদ নির্বাচন থেকে দলীয় সরকারের অধীনে ভোট হচ্ছে। কিন্তু সংসদ বহাল রেখে ভোটে ‘সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরি’ করা সম্ভব কি না- সেই প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলো তখন থেকেই বিভক্ত।

বিএনপি ও সমমনা দলগুলো বরাবরই সংসদ ভেঙে দিয়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার আদলে নির্দলীয় সরকারের অধীনে ভোটের দাবি জানিয়ে আসছে।

সেই দাবি পূরণ না হওয়ায় তারা দশম সংসদ নির্বাচন বর্জন করে। ব্যাপক সহিংসতার মধ্যে ওই নির্বাচনে অংশ নেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টিসহ ১২টি দল। তাতে জয়ী হয়ে আওয়ামী লীগ টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে।

আওয়ামী লীগ ও শরিকরা সংসদ ভেঙে নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি এবারও মেনে নেয়নি। একাদশ সংসদ নির্বাচনের আগেও এ বিষয়টি রাজনীতির অঙ্গনে উত্তাপ ছড়িয়েছে।

বিরোধী জোট বলে আসছে, দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে রিটার্নিং কর্মকর্তা থেকে শুরু করে প্রশাসন, পুলিশসহ সব জায়গায় ক্ষমতাসীনদের প্রভাব থেকে যাবে। ফলে সুষ্ঠু ভোট নিয়েও শঙ্কা থেকে যাবে।

এমন প্রেক্ষাপটে রিটার্নিং কর্মকর্তাদের ভূমিকা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সে বিষয়ে সতর্ক করে দেন সিইসি নুরুল হূদা।

তিনি বলেন, “আপনাদের ব্যক্তিগত ব্যর্থতার কারণে নির্বাচন যেন কখনও প্রশ্নবিদ্ধ না হয়- সে দায়িত্ব আপনাদের পালন করতে হবে। একটা গ্রহণযোগ্য নির্বাচন এই দেশে উপহার দিতে হবে। সেই গুরু দায়িত্ব আপনাদের পালন করতে হবে।”

নির্বাচনের প্রার্থী ও রাজনীতিবিদদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখতেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন সি ই সি ।

তিনি বলেন, “৩০ তারিখ সামনে রেখেই নির্বাচনের সার্বিক দায়িত্ব পালনের জন্য আপনাদের প্রস্তুতি নিতে হবে। সহকারী রিটার্নিং অফিসার আপনার ঘনিষ্ঠ হাতিয়ার হিসেবে কাজ করবে। তাদের সাথে মিটিং করবেন। জেলা উপজেলা কর্মকর্তাদের সাথে মিটিং করবেন।”

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের নিয়ে এই ব্রিফিংয়ে সিইসি মেধা ও প্রজ্ঞা ব্যবহার করে একাদশ সংসদ নির্বাচন সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য করার নির্দেশনা দেন।

তিনি বলেন, “নির্বাচন পরিচালনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব আপনাদের। কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আপনাদের পরামর্শ দেবে। ৯৫ ভাগ দায়িত্ব সাংবিধানিকভাবে আপনাদের ওপর অর্পিত। নির্বাচন কীভাবে পরিচালনা করবেন- সব দায়িত্ব আপনাদের। আপনারা নির্বাচন কমিশনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বলা যায়, আপনারাই নির্বাচন কমিশন।”

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের আন্তরিকতা থাকলে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে জনগণের সন্দেহের কোনো কারণ থাকবে না মন্তব্য করে সিইসি বলেন, “জনগণের ভোটের অধিকার নির্বাচন কমিশনের পবিত্র আমানত। জনগণ যেন নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, সে দায়িত্ব আপনাদের গ্রহণ করতে হবে।”

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930