ইবিতে মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে কলেজ শিক্ষার্থী আটক

প্রকাশিত: ১২:৩৩ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৪, ২০১৬

ইবিতে মৌখিক পরীক্ষা দিতে এসে কলেজ শিক্ষার্থী আটক

এসবিএন ডেস্ক: ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষে অনার্স (সম্মান) প্রথম বর্ষের ‘সি’ ইউনিটের অপেক্ষামান তালিকায় ভর্তির মৌখিক পরীক্ষার প্রক্সি দিতে এসে আটক হয়েছে আশরাফুল নামের এক কলেজ শিক্ষার্থী।

প্রক্সিবাজ আশরাফুল ইসলাম ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার কাশিমপুর গ্রামের আতিয়ার রহমানের পুত্র। সে ঝিনাইদহ জিন্নাহ আলী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। তার ফোন নম্বর ০১৭৭০১৪০৩৯২।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তাকে পুলিশে সোপর্দ করেছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান।

জানা গেছে, ‘সি’ ইউনিটে ১০৯১০ রোল ধারীর মাহফুজ আরাফাত নামের এক ভর্তিচ্ছুর মৌখিক সাক্ষাৎকার পরীক্ষা দিতে আসে আশরাফুল নামের কলেজ শিক্ষার্থী। সে ঝিনাইদহ জিন্নাহ আলী ডিগ্রী কলেজের এইচএসসি পরীক্ষার্থী। মৌখিক পরীক্ষায় তার কথায় অসঙ্গতি ও কাগজপত্রে ছবির কোন মিল না থাকায় সি ইউনিট সম্মনয়কারী প্রফেসর ড. আছাদুজ্জামন তাকে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাজ করেন।

জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে মাহফুজ আরাফাত নামের এক ভর্তিচ্ছুর পরিবর্তে মৌখিক পরীক্ষা দিতে আসার কথা স্বীকার করে। ফলে ভাইভা বোর্ড থেকে তাকে আটক করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির হাতে হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান ও তার প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা তাকে বিভিন্ন জিজ্ঞাসাবাদ করে তার বিভিন্ন অসঙ্গতি পাওয়ায় ইবি থানায় পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এদিকে ওই প্রক্সিবাজের সঙ্গে কথা বলে বেরিয়ে আসে চঞ্চল্যকর তথ্য। সে জানায়, ইবিতে চাকরি প্রত্যাশী বহিরাগত ছাত্রলীগ নেতা তৌফিকুর রহমান হিটলার তাকে মাহফুজ আরাফাতের পরিবর্তে ভাইভা দিতে পাঠায়।

ভর্তিচ্ছু আরাফাত বিয়ের দাওয়াত খেতে এলাকা থেকে দূরে অবস্থান করায় তার হয়ে ভাইভা দিতে এসে ফেসে গেছি। এ ঘটনার হিটলারের সঙ্গে টাকার লেনদেন হয়েছে বলেও সে জানায়।

এ ব্যপারে হিটলারের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে। যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বলেন, এবারের ভর্তি পরীক্ষায় কোন ধরনের অসচ্ছতা হতে দেয়া হয়নি। তারই ধারাবাহিকতায় শেষ মুহূর্তেও এই প্রক্সিবাজকে আটক করে পুলিশে দেয়া হয়েছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত প্রমাণ মিললে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইবি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চৌধুরী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে এখনো মামলা করেনি। মামলা করলে আমরা সে অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি।

ছড়িয়ে দিন