উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা ও একটি সন্ধ্যার গল্প

প্রকাশিত: ১২:২৯ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৪, ২০২১

উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা ও একটি সন্ধ্যার গল্প

 

কামরুল হাসান
কবি সৌমিত্র দেব তার সম্পাদিত অনলাইন পোর্টাল রেডটাইমস ডট কম ডট বিডির পক্ষ থেকে গত একমাস ব্যাপী জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে ‘উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা’ নামে একটি উৎসব করে যাচ্ছিলেন। রাজধানীর বাইরে সিলেটেও অনুষ্ঠান হয়েছে । এই একমাস রেডটাইমস ডট কম ডট বিডিতে  একটি কলাম খোলা হয়েছিল ‘উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা’ নামে যেখানে প্রতিদিন একটি করে নিবন্ধ ছাপা হয়েছে। এ থেকে সেরা লেখাগুলো নিয়ে একটি পত্রিকা ও একটি পুস্তক সৌমিত্র দেবের সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় আর নির্মিত হয় একটি তথ্যচিত্র ‘শেখ হাসিনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশ’। গতকাল জাতীয় জাদুঘরে সে উৎসবের সমাপ্তি ঘটে। সৌমিত্র দেবের আমন্ত্রণে আমি কাল সে অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম।
অনুষ্ঠান শুরু হওয়ার কথা বিকেল পাঁচটায়, যানজটের কারণে আমার পৌঁছাতে বিলম্ব হয় ৩০ মিনিট। গিয়ে দেখি  সে অনুষ্ঠানে মঞ্চটি অতিথি বিরল। একটি চেয়ারে কেবল সৌমিত্র দেব বসে আছেন। স্বস্তি পাই এই ভেবে যে অনুষ্ঠান শুরু হয়নি অর্থাৎ আমার দেরি হয়নি। পরে জেনেছি অনুষ্ঠান যথাসময়েই শুরু হয়েছিল তথ্যচিত্রটি প্রদর্শনের মধ্য দিয়ে। বিলম্বহেতু আমার তা দেখা হলো না। মূল অনুষ্ঠান শুরু হলো প্রধান অতিথি শ্যামসুন্দর সিকদার ও বিশেষ অতিথিদের মঞ্চে ডেকে নিয়ে। প্রধান অতিথিসহ বিশেষ অতিথিদের মাঝে কবিরাই, তাদের মাঝে আমিও আছি, সংখ্যাধিক। সভাপতিরা সাধারণত মঞ্চের মাঝখানে বসেন, সৌমিত্র দেব একই সঙ্গে সভাপতি ও সঞ্চালক, তাকে মধ্য অবস্থান থেকেই অনুুষ্ঠানটি পরিচালনা করতে হলো মাইক্রোফোনের মাধ্যমে।

 


প্রথমেই সৌমিত্র দেব সম্পাদিত ‘উন্নয়নে উজ্জীবনে শেখ হাসিনা’ সংকলন গ্রন্থটির মোড়ক উন্মোচন হলো। সে অর্থে মোড়ক ছিল না, সরাসরি ব্যাগ থেকে বের করা বইটিকে দুহাতে ধরে আমরা দাঁড়ালাম। গ্রন্থটিতে কুড়িটি বাংলা নিবন্ধ ও একটি ইংরেজিতে লিখিত নিবন্ধ রয়েছে।  এর আগে  সাদা অফসেটে ছাপা ৪ পৃষ্ঠার অনিয়মিত কাগজ ‘শ্রেষ্ঠপ্রকাশ’ যার চার পৃষ্ঠাই শেখ হাসিনাকে নিয়ে রচনা ও সংবাদে ভরা তা আমাদের মাঝে বিতরণ করা হলো।
কখনো কবিতা আবৃত্তি, কখনো বক্তৃতা – এভাবে অনুষ্ঠান এগুতে লাগল। মজার ব্যাপার হলো কিছু কবিতা পাঠ হলো বঙ্গবন্ধুকে উৎসর্গ করে, অনুষ্ঠানের বিষয় কিন্তু শেখ হাসিনা, তাঁর উন্নয়ন। বক্তারাও কেউ কেউ কন্যার কথা বলতে গিয়ে পিতার কথায় বেশি সময় কাটালেন। এসকল বক্তৃতা একটা প্যাটার্নে চলে, এর সুরটি রাজনৈতিক, এর শব্দচয়ন স্তুতিময়, নির্দিষ্ট দিকে এর অভিমুখ। একই কথার পুনরাবৃত্তি চলে, শ্রোতাদের একই কথা বিভিন্ন বক্তার মুখ থেকে শুনতে হয়। স্বরচিত কবিতাগুলো বক্তৃতার চেয়ে কিছু উন্নত নয়, বক্তব্যের গদ্যকে পদে ভেঙে নিলে যা হয় কবিতারূপী লেখাগুলো তাই ছিল। কী কবিতা, কী গদ্য এখানে বিশেষণের একটি ঢল নামে, উপাধি ও শব্দশিরোপায় মঞ্চের বাতাস ভরে ওঠে।
আমি তো চিরকাল দর্শকশ্রোতার সারিতে পাদপ্রদীপের নিচে থেকেছি, দেখেছি মঞ্চের, পাদপ্রদীপের আলোয় জ্বলা মানুষদের। এখনও যে সেটা খুব একটা বদলেছে তা নয়, তবে মাঝে মাঝে আমার পদোন্নতি ঘটে, যেমন আজ, আর তা ঘটল কবি সৌমিত্র দেবের কারণে। মঞ্চে বসার একটি সুবিধা হলে হলঘরের দর্শকশ্রোতাদের একটি সামগ্রিক ছবি (holistic view) পাওয়া যায় এমনকি চালানো যায় জরীপ।

দেখি সবুজ চেয়ারগুলোর পুরো উত্তরাঞ্চল কানাডার উত্তরাঞ্চলের মতো জনবিরল শুধু নয়, জনহীন। অল্প কিছু মানুষ জড়ো হয়ে আছে কানাডা- আমেরিকা সীমান্ত অর্থাৎ মঞ্চের কাছে। অনুষ্ঠান আরও এগুলে উপলব্ধি হয়, বেশিরভাগ শ্রোতা আসলে পারফর্মার, কোনো না কোনো ভূমিকায় হয় কবিতা পাঠ কিংবা বক্তৃতাপ্রদান, তারা এসে ডায়াসে মাইক্রোফোনে তাদের কণ্ঠ ভাসায়। বিশুদ্ধ শ্রোতা বলে কি তাহলে কিছু নেই? হয়তো এই মিলনায়তনের কর্মী, শব্দ ও আলোর নিয়ন্ত্রণ যারা করেন, আর ওই আলোকচিত্রগ্রাহকগণ বিশুদ্ধ শ্রোতা। তবে তারাও তো কাজ নিয়ে আছেন, অনুষ্ঠানের থীম নিয়ে তাদের আগ্রহ নাও থাকতে পারে। বক্তৃতা শুনে তাদের কান নয়, জীবনই ঝালাপালা।
আমার দুপাশে দুই কবি মঞ্চে বসেই ক্রমাগত মোবাইল টিপে চলেছেন। এই এক যন্ত্র এলো দুনিয়ায়, সারাক্ষণ মগ্ন রাখে, সুদর্শণ স্বামীর সন্দেহবাতিকগ্রস্থ বৌটির মতো সারাক্ষণ রাখে চোখে চোখে। মঞ্চে একজন নিজের লেখা পাঠ করে চলেছেন। সুদীর্ঘ কবিতানামধারী এক পদ্য, যা কোনো পদবাচ্যই হয়নি। শিহাব শাহরিয়ার বললেন, কাজী নজরুল ইসলামের বিদ্রোহী কবিতা ১৪১ লাইনের, এটি বোধহয় ১৪১ ছাড়িয়ে গেল। কবি তপন বাগচী বললেন গোটা কাব্যখানিই বুঝি তিনি পড়ে চলেছেন।

 

জাদুঘরের কীপার কবি শিহাব শাহরিয়ার এলে তাকে মঞ্চে আহবান করলেন সৌমিত্র দেব। আমার পাশের এই চেয়ারটি মিউজিকাল চেয়ারের মতো, প্রথমে এসে বসেছিলেন শিহাব শাহরিয়ার, তিনি বক্তৃতা দিয়ে চলে গেলে শূন্যস্থান পূরণ করেছিলেন একজন বিশেষ অতিথি পিজি হাসপাতালের হেপাটোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ডা. মামুন আল মাহতাব। এসেই বলেছিলেন, তার তাড়া আছে, কার যেন জানাজায় যেতে হবে। তিনি জানাজায় চলে যাওয়ার পর সেখানে এসে বসলেন একজন সুন্দরী ডক্টরেট। আরেক ডক্টরেট তপন বাগচীকে যেতে হবে ধানমণ্ডীর আরেক অনুষ্ঠানে। তিনি চলে গেলে আমরা এক চেয়ার সরিয়ে দিয়ে ঘন হই। রইলো বাকি পাঁচ হয়ে থাকি যতক্ষণ না আমাদের ডাক আসে। সবশেষে মিউজিকাল চেয়ারে এসে বসলেন মুহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ, হাতে ‘ছোটদের বঙ্গবন্ধু’ বইটি। ২৪ পৃষ্ঠার ছবিসম্বলিত বইটির দাম ১২০ টাকা। উল্টেই বুঝলাম কপি পেস্ট।
কবি ডক্টর শিহাব শাহরিয়ারকে প্রথমদিকে কনফিউজড মনে হলো। বললেনও সেকথা। কীসের অনুষ্ঠান- কবিতাপাঠের না বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের ঠিক বুঝতে পারছেন না, যদিও জানি এসবই ভান, কারণ তিনি বিচক্ষণ, বঙ্গবন্ধুর পর্ব ঘুরে ঠিকই থিতু হলেন শেখ হাসিনায়। উল্লেখ করলেন ২০১৫ সালে শেখ হাসিনা বিশ্ব সংস্থা কর্তৃক ধরিত্রী কন্যা পদবী অর্জন করেন। বঙ্গবন্ধু নিজ জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র উপহার দিয়ে গেলেন, অথচ মাত্র ৫৫ বছর বয়সে তিনি মারা গেলেন। ১০০ বছর বাঁচলে কী অসম্ভবই না সম্ভব করতেন! তাঁর সুযোগ্যা কন্যা শেখ হাসিনা পিতার অসমাপ্ত স্বপ্নকে পূরণের পথে এগিয়ে যাচ্ছেন। তাকে মমতাময়ী বলে সম্বোধন করে তিনি চলে গেলেন।
কবি তপন বাগচী, ইনিও পিএইচডি, জানালেন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বাংলা একাডেমী শত গ্রন্থ প্রকাশের যে পরিকল্পনা নিয়েছে তাতে ইতিমধ্যে প্রকাশিত হয়েছে ৪০টি বই, দুটি যন্ত্রস্থ। একটি বই বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন নেসার জীবনী। বইটির তথ্যগত দিকগুলো দেখার জন্য বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে তপন বাগচী শেখ হাসিনার কাছে পাণ্ডুলিপিটি পাঠিয়েছিলেন। শেখ হাসিনা তাঁর শত সহস্র ব্যস্ততার মাঝেও ছয়বার বইটির প্রুফ ও তথ্যগত ভুল দেখে দিয়েছিলেন। এতে তাঁর তীব্র কর্মনিষ্ঠার সাথে ফুটে ওঠে প্রচণ্ড মাতৃনিষ্ঠা। গান রচয়িতা হিসেবে তপন বাগচীর নাম আছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর শেখ হাসিনার ৭৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জারিগানের সুরে লেখা তপনের গান জননেত্রী পছন্দ করেছেন। সেই গানটির ধুয়া হচ্ছে জারির যেমন হয়, ‘শোনেন শোনেন দেশবাসী, শোনেন দিয়া মন।’ জারিগানটির শেষ চরণ হলো, গাইলো বজলুর রহমান বাবু, লিখলো তপন। তপন বাগচীর আরেকটি তথ্য শুনে চমকে উঠি বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নাকি ৫০০০ বই ইতিমধ্যে লেখা হয়ে মুদ্রিত হয়ে গেছে। এমনকি শেখ হাসিনাকে নিয়ে লেখা বইয়ের সংখ্যা ২০০ ছাড়িয়েছে।

 


আমার পালা এলে বলি এই যে ৫০০০ বই, এর মাঝে ৯০ শতাংশ যে ট্রাস (Trash) তা চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায়। একই তথ্য বারবার ব্যবহার, অন্যের লেখা চুরি, কপি আর পেস্ট করে মানহীন বইপ্রকাশের জোয়ার বইছে, ২০০ টাকার বই ৮০০ টাকা রাখছে, রাষ্ট্রের কোষাগারের অর্থ ব্যয় করে সরকারি সংস্থাগুলো তা কিনছেও দেদার, অর্থাৎ লেখকরা স্তুতি করে সুবিধা নিচ্ছে, ক্ষমতাবলয়ের ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করছে, সরকার সেসব মেধাহীন স্তাবকতাভরা কর্মকে পুরস্কৃত করছে। ২০০ মেধাহীন, চর্বিতচর্বণ বই না লিখে ২০টি মানসম্পন্ন, নির্মোহ বিশ্লেষণের বই লেখা মঙ্গলকর, কেননা ভাবীকাল ওই অথেনটিক বইগুলোকেই মূল্যবান মনে করবে, আর ট্রাসগুলোকে ছুঁয়েও দেখবে না। আমি বলি, এদেশে একসময় মৌলবাদ ভয়ঙ্কর মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছিল, মৌলবাদকে রুখে দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনাকে আমাদের প্রয়োজন, যতদিন মৌলবাদের ভয়াল ছায়া মাথার উপর থাকবে ততদিন প্রয়োজন। বাংলায় বিভিন্ন ধর্মেট বিস্তার ও আধিপত্যের ইতিহাস টেনে বল্লাম, বাঙালির সংস্কৃতি অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতি। বল্লাম, শেখ হাসিনা দেশপ্রেমিক কিন্তু তার চারপাশে জড়ো হওয়া অনেকেই স্তাবকের ভূমিকা নিয়েছে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থসিদ্ধির জন্য। আমাদের অর্থনীতির অভাবিত উন্নয়ন হয়েছে সত্যি, কিন্তু ধনী গরীবের ব্যবধান বেড়েছে, সামাজিক সাম্য, রাষ্ট্রীয় চার নীতির অন্যতম সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে, গণতন্ত্রে সহনশীল হতে হবে।
কবি শেলী সেনগুপ্তা জোর দিলেন নিজ নিজ কাজ সুচারুরূপে সম্পন্ন করার উপর। বল্লেন, মানুষ নিজেই নিজের ঈশ্বর। সে যদি বদলায়, দেশকে ভালোবাসে, তবে দেশ বদলাবে। বললেন, শেখ হাসিনা একাই কতখানি পজিটিভ প্রভাব ফেলছেন পরিবর্তনে। আমাদের কাজ তাকে সমর্থন করা। শুরুর দিকটায় কবিতা পড়লেন মিলি হক, আফলাতুন নাহার, কাজী আনার কবীর, ও জোহরা রুবী। সবশেষে একজন শিক্ষক, তার নাম ড. হাসিনা ইসলাম সীমা।
সবচেয়ে সুন্দর বক্তৃতা দিলেন কবি শ্যামসুন্দর সিকদার। সরকারের এই সিনিয়র সচিব এখন বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন রেগুলেটরি কমিটির চেয়ারম্যান। এর আগে আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে তার সুযোগ ও সৌভাগ্য হয়েছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন ডিজিটাল বাংলাদেশ মহাপরিকল্পনার সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার। বিনয়ী মানুষটি নিজেকে যদিও এক নম্বর শ্রমিক বললেন, কিন্তু সকলে তো বোঝে সচিবের নেতৃত্ব সমুখ থেকেই। তিনি বললেন শেখ হাসিনার সবচেয়ে কার্যকর প্রোগ্রাম হলো ডিজিটাল বাংলাদেশ এই প্রোগ্রামই বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে। বক্তৃতার শুরুতে তিনি বললেন, বঙ্গবন্ধুর লেখা তিনটি বই অসমাপ্ত আত্মজীবনী, কারাগারের রোজনামচা ও আমার দেখা নয়া চীন নতুন প্রজন্মের জন্য অবশ্যপাঠ্য তিনটি পুস্তক। ‘আমার দেখা নয়া চীন’ থেকে একটি চীনা দম্পতির সাথে বঙ্গবন্ধুর সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা, কারগারের রোজনামচা থেকে দুটি চমকপ্রদ ঘটনা শ্রোতাদের সাথে শেয়ার করলেন। তাঁর বক্তৃতার বড়ো অংশ জুড়ে রইলেন বঙ্গবন্ধু। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানই কেননা, তিনি তাঁর জাতি ও দেশকে সার্বভৌমত্ব এনে দিয়েছেন।।অতীতে বাঙালি বেশ কয়েকবার স্বাধীনতা পেয়েছে, কিন্তু সার্বভৌমত্ব পায়নি।
অনুষ্ঠান শেষ হলো সভাপতি সৌমিত্র দেবের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে বিকেল পাঁচটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত টানা তিনঘণ্টা খাদ্য ও পানীয়হীন বসে থাকা শ্রোতাদের তিনি বিশেষ ধন্যবাদ দিলেন। এ অনুষ্ঠানটির স্পন্সর হলো অগ্রণী ব্যাংক। ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে মঞ্চে ছিলেন জনাব আনোয়ারুল আজিম। তার মাধ্যমে অগ্রণী ব্যাংককে কৃতজ্ঞতা জানালেন রেডটাইমসবিডি সম্পাদক। অক্লান্তভাবে গোটা অনুষ্ঠানটির ছবি তুলে গেলেন সৌমিত্র সহধর্মিণী পলা দেব। একটি নীল প্রজাপতির মতো তিনি উড়ে গেলেন মঞ্চের এ প্রান্ত থেকে ও প্রান্তে, পোডিয়ামে যত ফুল জড়ো হলো তাদের ছবি তুললেন নিবিষ্টভাবে। কয়েকজন লেখক বই উপহার দিলেন। এর মাঝে দুটি বই কাজী আনারকলির, একটি জোহরা রুবীর। ফটোসেশন চল্ল অবিরল ধারায়। তিন যুবক ও দুই যুবতী, অনুমান করি এরাই অনুষ্ঠানটির প্রকৃত শ্রোতা এইঅর্থে যে তার অংশ নেয়নি কোনো কার্যক্রমে এগিয়ে এসে যা বললেন তার সারমর্ম হলো আমার বক্তৃতা তাদের মুগ্ধ করেছে, মনে হয়েছে আজকের সভার ওটাই সেরা বক্তৃতা। বিশেষ করে তাদের ভালো লেগেছে মানবজাতির উদ্ভব ও ধর্মের ইতিহাস নিয়ে আলোচনাটি। তারা আমার সাথে দীর্ঘ আড্ডায় বসতে চান। আমি বল্লাম, তথাস্তু!
যখন ফিরে আসি তখন চোখ যায় জাদুঘরের প্রধান প্রবেশ দরোজার সমুখে স্থাপিত জাতির জনকের পূর্ণদৈর্ঘ্য ভাস্কর্যটির দিকে। ধবধবে সাদা ভাস্কর্যটিতে তাঁর উত্তোলিত ডান হাতের তর্জনীটি স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য বাঙালির চিরকালীন আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে আছে ।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

October 2021
S M T W T F S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31