উল্লাপাড়া ঐক্যবদ্ধ সফিকুল ইসলামকে নিয়ে

প্রকাশিত: ৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৫, ২০১৮

উল্লাপাড়া ঐক্যবদ্ধ সফিকুল ইসলামকে নিয়ে

লুৎফুল্লাহ হীল মুনীর চৌধুরীঃ
৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিগত বছরগুলোতে রাজনীতিতে যে নেতিবাচক সংলাপ ও রাজনৈতিক সমঝোতার ভিত্তিতে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিণতিতে পরিবর্তিত হয়েছে। সন্দেহ করা হচ্ছিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনে যাবে না। কিন্তু সেটা বাস্তবায়িত হয়নি। সকল রাজনৈতিক দলই বর্তমানে নির্বাচনমুখি প্রচারণায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ফলে সারা দেশে জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি শান্তি প্রিয় ঐতিহ্যগত উৎসব-উল্লাসমুখর পরিবেশের চিত্রই বহন করে চলছে। এবারের নির্বাচনেও এক সময়ের ব্রিটিশ শাসনামলের নদীবন্দর উল্লাপাড়াকে কেন্দ্র করে বহুমাত্রিক রাজনৈতিক ধারার নেতৃবৃন্দের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ ও কর্মতৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এই অঞ্চলের মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক শফিকুল ইসলাম পাঁচ বছর পর আবারও আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন।
উল্লাপাড়ার রাজনীতিতে তিনি স্বচ্ছ ও কর্মীবান্ধব নেতা হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে তিনি নির্বাচিত হয়ে কৃষি-স্বাস্থ্য-শিক্ষা-যোগাযোগ খাতে ব্যাপক উন্নয়ন করেছিলেন। পূণরায় জনপ্রিয়তার ভার শফিকুল ইসলামের পক্ষে উল্লাপাড়ার রাজনীতিতে নতুন আশা-আখাঙ্খার সৃৃষ্টি করেছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর থেকেই আওয়ামী লীগকে সংগঠিত করার কাজটি করেছিলেন শফিকুল ইসলাম। সেসময় আজকের অনেককেই পাশে পাননি তিনি। ধীরে ধীরে সংগঠনকে চাঙ্গা ও শক্তিশালি করে তিনি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিনটির জন্য অপেক্ষা করতে থাকেন। ১৯৮১ সালের ১৭ মে বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ফিরে এসেছিলেন। উল্লাপাড়ার পথ-ঘাট-মাঠ-প্রান্তর আবারও আওয়ামী লীগের কর্মীদের শ্লোগান-কর্মকান্ডে প্রাণ ফিরে পেয়েছিল। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের চেতনা। প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল বঙ্গবন্ধুর আদর্শ। মানুষের লক্ষ্য হয়ে উঠেছিল দেশ-মাঠ-প্রান্তরকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। সেই নেতৃত্বই প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন শফিকুল ইসলাম। যার হাত ধরে এখনো আওয়ামী লীগ সংগঠিত হয়েছে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নত বাংলাদেশ গড়ার অভিযাত্রায়। মানুষের দাবি সৎ-যোগ্য নেতাই নয় শুধু। তাদের দাবি সৎ-যোগ্য নেতা যেনো সংসদ থেকে তাদের বরাদ্ধ এনে নিজ অঞ্চলের মানুষের মুখে হাসি ফুটাতে পারে। তাই উল্লাপাড়ায় এক নব-আশার আলো আজ প্রভা ছড়িয়েছে শফিকুল ইসলামকে কেন্দ্র করে। মানুষ দূর্নীতি চায় না, ক্ষমতাও চায় না। মানুষের দাবি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি। বিগত পাঁচ বছরে মানুষের মনে যে ক্ষোভ, কর্মীদের যত অভিযোগ সৃষ্টি হয়েছিল সেটি থেকে মুক্তির পথ হিসেবে সর্বস্তর-সর্ব শ্রেণীর মানুষ শফিকুল ইসলামকে দেখছেন তাদের হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা হিসেবে। যার বাঁশিতে উল্লাপাড়ার পথ-প্রান্তর-বন্দর-অর্থনীতি ফিরে পাবে প্রাণের ছোয়া। দূর হবে দূর্নীতি ও পেশিশক্তির লড়াই-বরাই। সমৃদ্ধিশালী হয়ে উঠবে তাঁত শিল্প ও বন্দর।
শফিকুল ইসলাম ২০০১ এর নির্বাচনের পর বিএনপি-জামাতের ঐক্যবদ্ধ নির্যাতন-দূর্নীতির বিরুদ্ধে তৎকালিন সামাজিক ভারসাম্যহিনতা রক্ষায় দিন-রাত কাজ করেছেন। নিজে শিকার হয়েছিরেন নির্যাতনের দ্বারা। সেসময় গ্রামগুলোতে অগ্নিসংযোগ-ধর্ষণ বৃদ্ধি পায়। পূর্ণিমা ধর্ষণ জাতীয় সংবাদপত্রের শীর্ষ খবর হয়েছিল। পূর্ণিমাকে আমি উদ্ধার করে সুরক্ষা করেছিলাম সেদিন। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেছিলাম আমি। বিচারিক প্রক্রিয়াকে আমি তখন পূর্ণ সহযোগিতা করেছিলাম। সেই সরকারের শেষ প্রান্তে ঐ মামলার চার্জশিট ফেলে দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বাবরের চক্রান্তে বিএনপি সমর্থিক এমপি উল্টো আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক চার্জশিট তেরী করে। আমাকে করা হলো আসামী।
২০০৯ সালের নির্বাচনের বিজয়ী হয়ে শফিকুল ইসলাম উল্লাপাড়ার প্রতিটি কর্মী-সংগঠকদের নিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন।
সেই ধারাবাহিকতা পরবর্তী পাঁচ বছরে সম্ভব হয়নি। শফিকুল ইসলাম পূণরায় উল্লাপাড়াকে মাদকমুক্ত করে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির প্রতিটি স্তরে ভূমিকা রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার অসমাপ্ত কাজকে এগিয়ে নিয়ে বাংলাদেশকে উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার অভিযাত্রায় অংশগ্রহণ করতে চান। আধুনিক সমাজ গড়ার লক্ষ্যে সকলকে ঐক্যবদ্ধ করার বিকল্প নেই। সেই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়েই কর্মীবান্ধব নেতা শফিকুল ইসলাম উল্লাপাড়ার আসনটি শেখ হাসিনাকে উপহার দিতে চান।

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

লাইভ রেডিও

Calendar

April 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930