ঋতুরাজের সঙ্গে পাখপাখালির সম্পর্ক

প্রকাশিত: ১:৪১ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ৭, ২০২১

ঋতুরাজের সঙ্গে পাখপাখালির সম্পর্ক

মোজাফফার বাবু

মাঘের হিমেল হাওয়ায় লেপটা জাপ্টে ধরে ছিল। জানলা দিয়ে ধোঁয়াশা মাঝে , অবাক দিনমণি স্বাচ্ছন্দে উঁকি দিচ্ছে । ছড়াচ্ছে স্বপ্নের মিষ্টি উত্তাপ ।
হিমেল হাওয়া চারিদিকে কুয়াশার মাঝেই তার সাথে চলেছিলসিডিতে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সেইমহামন্ত্র গান ” সেদিন দুজনে দুলেছিলাম বনে , ফুল ডোরে বাধা বেদনায় ” সেই সঙ্গীতে গোটা পরিবেশ আনন্দে আলোড়িত করে তুলেছিল ।
পশ্চিম-দক্ষিণ জানালার পাশ দিয়ে কদম ও কড়াই গাছের উপর দিয়ে কোকিলের মিষ্টি কুহু কুহু ডাক প্রকৃতির মাঝে জানান দিলঋতুরাজ বসন্তের বর্নিল আগমনী বার্তা !
হঠাৎ কোকিলের মিষ্টিমধুর ডাক, বসন্তের প্রথম প্রহর মেনে নিতে সংশয় হচ্ছিল সবুজ সাহেবের , এ যেন মেঘ না চাইতে জল ! তিনি ভেবে ছিলেন এখনো মাঘ মাস নাকি !
ককিল পাখি সবাই কে ঋতুরাজ বসন্তের বর্নিল খবর কি আগাম জানান দিল ?
সবুজ সাহেব প্রতিদিন সকালে চাএর টেবিলে বসে চা পান করে তার সাথে পেপার দেখে ,
আজ ককিলের ডাক শুনে বসন্তের প্রথম প্রহর কি-না নিশ্চিত হওয়ার জন্য , চা খাওয়ার আগেই যাচাই বাছাই করার জন্য ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিনকার মত প্রথম আলোর পেপার ও পঞ্জিকা দেখে মিলায় নিল আজ সত্যিই বসন্তের প্রথম প্রহর কি-না !
তার বিশ্বাস হচ্ছিল না আজ বসন্তের প্রথম দিন।
আর তার ভুল ভাঙলো প্রকৃতির সাথে পাখ পাখালির বন্ধুত্ব একান্ত নিবির। আর কোকিলের কুহু কুহু ডাক বার্তা দেয় আজ পহেলা ফাল্গুন।
ফাগুনের আগুনে কৃষ্ণচূড়া , ডালিয়া্, ‌নয়ন তারা গাছে গাছে নতুন ফুল ফুটে। প্রকৃতি ফাগুনের আগুনে দীপ্ত যৌবন তুলে ধরতে কার্পণ্য করেনি তার সাথে তালে তাল মিলিয়ে পাখপাখালি মিষ্টি ডাকে প্রকৃতির সুন্দর তিলোত্তমা করে সাজিয়েছে ।
মানুষের জীবন যৌবন স্বাচ্ছন্দে দোলাতে , রাতে আঁধারে জোনাক পোকারা ঝিঝিকরে ডাকে , আবার ডানা মেলে চাঁদের মতো নিজস্ব আলো দিতে কার্পণ্য করেনা। চাঁদের মতন ধার করে আলো না একান্ত নিজেস্ব আলো ।
বসন্তের প্রথম প্রহরে কোকিলের ডাক, ফুলে ফলে ভরে উঠা নিখিলে ,নদী-নালা পাহাড়-পর্বত ও দূরে আসমানে সাত রংধনুর সাত রং, শূন্যে দাঁড়িয়ে তাদের অবস্থাকে জানান দেয় , তারা ও প্রকৃতিই জীববৈচিত্রের অংশীদার।
তারও স্বাধীন ভাবে চলাফেরা করে , তাদের মিষ্টি সুরের অঞ্জলি মত নিঃস্বার্থ মানব কূলের জন্য বিলাতে কুন্ঠিত করতে করে না।
কিন্তু আমরা তাদের প্রতি উদাস আমদের মধ্যে অল্প সংখ্যাক বিপদজনক দয়া মায়াহীন ব্যাক্তি , যত্রতত্র তাদের মুক্ত বিঙ্গন জীব বৈচিত্র্যের অৎশিদার পাখপাখালি কে , বলপূর্বক খাচায় বন্দী ও শিকারিরা নিধন করে মহা উৎসবে ।
কিন্তু আজ ৫ এপ্রিল ২০২১ বৈশ্বিক করোনা পরিস্হিতির আক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য উপাত্ত সহ ১৩ কোটি ২১ লাখ ৯৪ হাজার ৪৪৭।মোট সুস্থ হয়েছেন ১০ কোটি ৬৪ লক্ষ লোক ,কিন্তু এই মহামারী করোনাভাইরাস মারা যায় ২৮ লাখের বেশী ।
সারা বিশ্বে মহামারী বিপর্যয় মানুষজন ঘাতক ব্যাধি নিয়ে সবাই যখন বন্দী জীবন যাপন করে তখন প্রকৃতিতে কাঁকড়া, তিমি,শিয়ালের হুক্কাহুয়া ডাক, কাঠবিড়াল,বেজী অবাধে বিচরণ করে।
তাদের উপস্থিতি চলাফেরার মাধ্যমে জানান দেয় , তারাও এই ধারার অংশীদার , যত্রতত্র নিধন করে আমাদের ভোগের সামগ্রী বানানো , বিবেকহীন কাজ যা আইন সম্মত নয় বিবেক বর্জিত ।
মানুষজন এই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে বিভিন্ন লকডাউন কারফিউ জারি করে জীবন বাঁচাতে চায়। এ করোনাভাইরাস আমাদেরকে আরো শিখিয়েছে যে প্রকৃতির সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে তোলা একান্তভাবে করা উচিত।
স্বাভাবিক সময়ে মানুষজন গাড়ি-ঘোড়া ব্যবহার কারণে কার্বন ডাই অক্সাইড এর ফলে বাতাসে শিশার পরিমাণ বেড়ে যায় ফলে মানুষের অসুস্থতার হারও বেড়ে যায়।
করোনাভাইরাস সময় মানুষজন গাড়ি-ঘোড়া কম ব্যবহার করে , ফলে কালো ধোঁয়ার পরিমাণ ও কমেছে , সাথে সাথে অক্সিজেনের পরিমাণ বেড়েছে।
এর ফলে বাস্তব জীবনে স্বস্তি ফরে আসে রোগ ব্যাধির প্রকোপ অনেকংশে অদৃশ্যমান হয়ে যায় , প্রকৃতি সুস্থ ধারায় ধাবিত হয়।
ফলে কোকিল এর মিষ্টি মধুর কুহু কুহু ডাকে , আমাদের বর্ণিল জীবনকে আরও নতুন নতুন বার্তা দেয়।
পাশাপাশি চৈত্রের তাপদাহ নদী-নালা,খাল বিল ডেভপলপাররা যেভাবে ভরাট করে যত্রতত্র অপরিকল্পিত ফ্লাট বাড়িঘর সপিং মল রাস্তাঘাট ।
এতে হারিয়ে যচ্ছে আমাদের ঐতিহ্য প্রকৃতির জীব বৈচিত্র্য জলবায়ু ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাচ্ছে হেমন্ত শরৎ শীত ও বসন্ত কাল জলজ প্রাণী ,
গ্রীষ্মকালে প্রচন্ড তাপমাত্রায় বরফের স্তর এন্টার্ক্টিকা গলেগলে যাচ্ছে সাথে সাথে জলরাশির পরিমান সাগর মহাসাগরে বেড়ে যাচ্ছে এর ফলে বিস্তীর্ণ সৈকতের রাষ্ট্র সমূহের মহা দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে , যার প্রভাব এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে।
সৈকতের রাষ্ট্র সমূহের মহা দুশ্চিন্তা ও বিপদে মধ্যে আছে , যার প্রভাব এর মধ্যে দেখা যাচ্ছে। অনেক কূল উপকূলে জলরাশি বাড়ছে , তার কালো থাবায় যে কোন সময় সাগর মহাসাগরে অতল গর্ভে হারিয়ে যেতে পারে ।
আবার দেখা যায় রাসায়নিক সার ব্যবহার করার জন্য চটকদারী বিজ্ঞাপন দেয় , সুবিধা বঞ্চিত কৃষকদের পকেট কেটে , ফোঁড়িয়া আর মুনাফা খোররা মুনাফা লটে, জৈব সার ব্যাবহার না করে জমি হারায় উর্বরতা বিষক্রিয়ায় ঔষধের মাধ্যমে অনেক কৃষক রোগ ব্যাধিতে ভুগে না ফেরার দেশে যাত্রী হয় ।
আর পাখপাখালিরা বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে যেমন তালগাছে সুনিপুন বাসা বানাতো বাবুই পাখি, মিষ্টি মুনিয়ার ঘুরাফেরা , আবার শিয়াল এর হুক্কাহুয়া ডাক, কাঠবিড়ালি অবাধ বিচারন , শুকুন আমাদের পরিবেশ কে সুন্দর রাখতো এখন আর চোখে পড়ে না।
তাই প্রকৃতির জীব বৈচিত্র্য জলবায়ু জলজ প্রাণীব বরফের স্তর এন্টার্ক্টিকা রক্ষার জন্য , তপোবন উপবনে প্রচুর পরিমানে গাছ গাছালি রোপন করা তাহলে প্রকৃতি পরিবেশ সুন্দর সাবলীল হবে জীববৈচিত্র্য পাখপাখালি রক্ষা পাবে ।
আবার যদি কৃষি জমিতে কৃত্রিম সার ব্যবহার বন্ধ করে গোবর কেঁচোর মাটি তথা প্রকৃতিগত সার ব্যাবহার করতে হবে।
এ দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ,কলকারখানার আর বিষক্রিয়া পারমানবিক বর্জা সহ বিভিন্ন কেমিকেলের রং বেরং এর নিকষ কালো দূষিত পানি সাগর মহাসাগরে পানি কে অব্যবহার যোগ্য করে ফেলে সেই পানি পান করে জীব বৈচিত্র্য ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। তাই আমাদের বর্জ্য সঠিক স্হানে ফেলতে হবে ।
কার্বনডাইঅক্সাইড ও পলিথিন প্লাস্টিক ব্যবহার বন্ধ করা যেমন পাট জাতীয় তথা আশ জাতি ব্যাগ যা পচন শীল মাটির সাথে মিশে জমিকে উর্বর করে ! সাথে সাথে কৃষকের কৃষি চাষাবাদ প্রকৃতি পরিবেশ জীবন যাত্রার মান কে উন্নতির শিখরে পৌঁছায় ।
জীবজন্তু পাখপাখালির রক্ষা করার জন্য আমাদেরকে চৈত্রের এই সময় বাসার ছাদে বারান্দায় ও কারনিশে ছোট ছোট পাত্রে পানি রাখার ব্যবস্থা করতে হবে ।
আবার গহীন বনে সাইক্লোন কিংবা বৈশাখী ঝড় আম্পান থেকে রক্ষা করার জন্য পশু পাখির আশ্রয়ের জন্য যদি আশ্রয়স্থল তৈরি করে দিতে পারি তবে বিপদের সময় জীবজন্তু পাখপাখালির আশ্রয়স্থলে গিয়ে বিপদ থেকে রক্ষা পাবে ঠিক তখনিই আমাদের মতো তারাও প্রকৃতির অংশীদার।
আমাদের চলমান জীবনে জীববৈচিত্র্যের বাস্তবসম্মত দুটি সত্য ঘটনা আলোকপাত করলাম ।
গত বৎসরের ফিলিপাইনের সাগরে এক ধীবরের জালে ডলফিন ধরা পড়েছিল।
সেই অসুস্থ ডলফিন কে যতদিন সে সুস্থ না হয় ধীবরে সেবা যত্ন করে সুস্থ করে তলে । পরে ডলফিনটি কে সুস্থ করে তাকে পানিতে ছেড়ে দেয়।
প্রতি বছর ডলফিন টি নির্দিষ্ট সময়ে বন্ধুর বাড়ীতে হাজার হাজার মাইল দূর থেকে তার বন্ধুর সাথে দেখা করতে আসে। তার বিপদে বন্ধুর সাহায্যে কথা মনে আছে।
আরাকটা বিষয় , মৌমাছির গুনের কথা আমরা কম বেশী সবাই জানি ! বসনিয়া হারজেগোভিনা খবর বিশ্বের সকল বিবেকবান মানুষকে অবাক করে দিয়েছে
আমরা দেখি মৌমাছির গুনের সীমা নাই! বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয় বসনিয়া হারজেগোভিনা ক্রোয়েশিয়ার যুদ্ধের সময় মাটিতে বহু মাইন পুঁতে রাখা হয় , যুদ্ধে শেষে সেই মাইন মৌমাছির বিশেষ অ্যান্টেনার সাহায্যে বসনিয়া হারজেগোভিনা ৮০ হাজার ও ক্রোয়েশিয়ার ৩০ হাজার মাইন খুঁজে বের করবে মৌমাছি ।
এই কাজটি খুবই জটিল ও বিপদ জনক ।এই মরণ ফাঁদ মাইন বের না করতে পারলে ঐ অঞ্চলের মানুষ জন বিনা নোটিশে ওপারে চলে যাচ্ছে যে প্রকৃতিকও জীববৈচিত্র্য অস্বীকার করি তারাই আমাদের চলার পথের পাথেয় ।
এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে প্রকৃতি আমাদের শিক্ষা দেয় যে পরিবেশের রক্ষার দায়িত্ব আমাদের। তাহলেই আমরা বিভিন্ন ঋতুতে তাদের অবস্থান জানতে পারবো।
বসন্তের প্রথম প্রহরে কোকিলের কুহু কুহু ডাক যেটা আমাদের পথ চলার পাথেয়, এর মতন পাখিদের ডাক যে আনন্দ সেটি থেকে আমরা কখনই তাহলে বঞ্চিত হবো না , টিয়া ময়না পায়রার মধুর সুরেলা ডাক থেকে ।
তাই জীববৈচিত্র্য আমাদের চলার পথের পাথেয়। তাহলে আমরা বিভিন্ন ঋতুতে তাদের মধুর গান ডাক শুনতে পাবো তাহলে জীবনের পথ চলায় দোলা দেবে হাসি খুশিতে ভরে উঠবে এ ভূবন !

Calendar

April 2021
S M T W T F S
 123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930  

http://jugapath.com