এই আষাঢ়, এই শ্রাবণ

প্রকাশিত: ৪:৫২ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০২১

এই আষাঢ়, এই শ্রাবণ

শাহাদত বখ্ত শাহেদ
এখন বর্ষা কাল । আষাঢ় সবে শেষ হয়ে শ্রাবণ শুরু। প্রতিদিনই প্রকৃতিতে বৃষ্টি ও রোদের খেলা। আজ বন্ধের দিন। বাসায় আছি। সকাল থেকেই মুষলধারে বৃষ্টি ঝরছে। শ্রাবণের বৃষ্টি দেখতে কার না ভালো লাগে।
এখন বৃষ্টি মধুর দুপুর। বারান্দায় চেয়ার নিয়ে বসে আছি। ছোটো মেয়ে দুপুরের নাস্তা দিয়ে গেল দুধ চা, সাথে মুড়ি ভাজা ও টোষ্ট বিস্কুট। চেয়ারে বসে বসে চা’য়ে চুমুক দিচ্ছি আর কুড়মুড়ে মুড়ি ভাজা ও টোষ্ট খাচ্ছি। ফিলিংসটা সত্যি অন্যরকম।
বৃষ্টি দেখে মনে পড়ে গেল কৈশোরের স্মৃতি। এই রকম বৃষ্টিতে কত ভিজিয়েছি শরীর। স্কুল ছুটির পর পরই বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরতাম। নিজের শরীরের সাথে বই পত্তরও ভিজিয়েছি। বাড়িতে এসে আবার চুলোর আগুনে শুকিয়েছি বই খাতা। বেলা অবেলায় মাঠে বৃষ্টিতে ভিজে ফুটবল ও কাবাডি খেলা। কত স্মৃতি মনে পড়ে এই শ্রাবণ দিনে।
এই বৃষ্টি দেখতে দেখতে আমার দৃষ্টি সোজা চলে যায় কদমের ডালে। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে হলুদ সাদা মিশ্রিত কদমফুল। জোড়া জোড়া ঝুলে আছে যেন দম্পতি যুগল। প্রকৃতির অপরুপ সৌন্দর্য কবি মন কে যেন নাড়া দিয়ে যায়। এই কদম ফুল নিয়ে কবি অহনা নাসরিনের কবিতার একটি পঙক্তি মনে পড়ে যায়: “শ্রাবণকে বললাম- বৃষ্টির জল দিতে,কদমফুল ভাসিয়ে দেব বৃষ্টির জলে”।
এই আষাঢ় এই শ্রাবণ। কৈশোরে ঢিল ছুঁড়ে কত আম পেরেছি, বাঁশের লম্বা কুটা দিয়ে জাম পেরেছি। ভোরে গাছের নিচ থেকে আম কুড়িয়েছি। বাড়ির দেয়ালের পাশ দিয়ে ছোটোনালার স্রোতে ভেসে যাওয়া পুটি দাড়কিনা মাছ মশারী জালে ধরার স্মৃতি। বৃষ্টিতে ভিজে পুকুরে সাতার কাটা। বাবার কড়া শাসন। বাবার হাতে বাঁশের কঞ্চির মার খাওয়া সত্যিই মনে পড়ছে। কত স্মৃতি এই বর্ষার দিনে। মন থেকে কিছুতেই সরানো যায়না ফেলে আসা স্মৃতিগুলো।
আজকালকার ডিজিটাল যুগে শহরের বাচ্চাদের বেড়ে উঠা যেন ঘরবন্দী ফার্মের মোরগের মত। মোবাইল ইন্টারনেট নিয়ে দিনরাত ঘরে বসা।তাদের জীবন ত শুকনো ঘরে। মেঝে, কার্পেটে দৌড়-ঝাপ, ঘর কোনে জীবন । আমাদের মত বৃষ্টিতে ভিজে রোদে শুকানোর মত এতো গদ্যময় নয়।
আজকাল যুগের বিবর্তনে সব যেন কেমন এলোমেলো হয়ে যায়।
এখন বর্ষা ঠিকই আসে বৃষ্টি হয় কদম ডালে কদম ফোটে, গাছে গাছে আম,জাম,লিচু কাঠাল সব ঠিকঠাক শুধু আমরাই বদলাই। আমাদের সময়টা শুধু ইতিহাস হয়ে যায়।
সিলেট
১৮ জুন ২০২১

ছড়িয়ে দিন