ঢাকা ১৪ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


এই মানুষ গুলোর জন্য কি কিছু করার নেই ?

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মে ১২, ২০১৯, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
এই মানুষ গুলোর জন্য কি কিছু করার নেই ?


মোহম্মদ শাহান

এই মানুষ গুলোর জন্য কি কিছু করার নেই ? নাকি আইন দেখিয়ে পাশ কেটে যাওয়াটাই মহা উত্তম?

বৃহৎ কোম্পানি গুলোর সেলস্ মার্কেটিং এর ফিল্ড পর্যায়ের কর্মীগণ বিভিন্ন সময় দুর্ঘটনায় মারা গেলে বা যেকোন ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাঁর বা তাদের পরিবার গুলোর জন্য বৃহদাকার কোম্পানি গুলো কি কোন রকম দায়বদ্ধতা বহন করতে পারে না??

অথচ এই শ্রেণীর মানুষ গুলোই এ সব বৃহদাকার কোম্পানি গুলোকে বহন করে নিয়ে যাচ্ছে সফলতার উচ্চ শিখড়ে বছরের পর বছর, যা অস্বীকার করার কোন অবকাশ নেই। বিনিময়ে তারা পাচ্ছে বেতন নামক সামান্য কিছু অর্থ, যা দিয়ে “নুন আনতে পান্তা ফুরায়” এর মত অবস্থা।

বড় বড় প্রতিষ্ঠান গুলো বিভিন্ন অভিনেতা বা মডেলদের দিয়ে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বৃহৎ অর্থ ব্যয় করছে পণ্য প্রচারের জন্য। বিভিন্ন বিনোদন মূলক আয়োজনে স্পন্সর হয়ে বহু অর্থ ব্যয় করছে পণ্য প্রচারের জন্যই।

কতটুকু সফলতা আসে এই অর্থ ব্যয় করে ?

হয় তো কিছু আবেগী বা কমেডি বা আকর্ষনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে পণ্যকে কিছুটা পরিচিত করানো সম্ভব,ভোক্তাদের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেয়ার কাজটা কিন্ত ওই মডেলরা নয়,মাঠ পর্যায়ের কর্মীকেই অক্লান্ত পরিশ্রমের বিনিময়ে করতে হয়।

একজন মাঠ পর্যায়ে কর্মরত ব্যক্তি পণ্য হাতে নিয়ে প্রতিটি দোকানে প্রত্যক্ষ ভাবে এর গুণগত মান, দাম,সুবিধা, এবং নিজস্ব বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে বিক্রয় কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।

মাথার ঘাম পায়ে ফেলে,রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে, জুতার তলি ক্ষয় করে রোদ,ঝড়,বৃষ্টি এবং সিডর বা ফনির মত ভয়ানক দূর্যোগ কে তোয়াক্কা না করে নানা রকম প্রতিকূলতার মধ্যে প্রতিযোগী কোম্পানি গুলোকে অতিক্রম করে ভোক্তার নিকট পণ্যটি পৌঁছে দিয়ে সমগ্র কোম্পানির পক্ষে সফলতা একজন মাঠ কর্মীকেই ছিনিয়ে আনতে হয়।

দেশের নাগরিক হয়েও দেশের সরকারি ছুটি যেমন ১৬ই ডিসেম্বর, ২১শে ফেব্রুয়ারী,৭ই মার্চ,২৬শে মার্চ, এবং ১লা মে শ্রমিক দিবস যা কিনা সারা বিশ্ব স্বীকৃত ছুটি সহ সরকারী সকল ছুটি গুলো থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এই মার্কেট বা বিপনন চাকা কে নিয়মিত রাখার জন্যই।
অথচ এই আত্মত্যাগী মানুষ গুলোর জন্য কোন সহানুভূতির প্রকাশ কর্তৃপক্ষের নেই!!

নেই কোন সমবেদনা !!

আবার দেখা যায়..
বিভিন্ন কোম্পানির কর্মরত কোন কর্মী যদি কোন দুর্ঘটনা বশত মারা যায় বা ক্ষতিগ্রস্ত হয় তবে কোম্পানির সকল কর্মীদের নিকট হতে সহযোগিতার জন্য অর্থ আদায় করা হয় যা অনেক কর্মীর জন্যই কঠিন বা অসাধ্য হয়ে ওঠে। কেননা সেলস মার্কেটিং এ কর্মরত প্রত্যেককেই লিমিটেড খরচের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হয়, প্রতিটি কদম তাদের হিসেব করে চলতে হয়, উনিশ হতে বিশ হয়ে গেলেই টানা পড়েনের মধ্যে পরে যেতে হয়। একজন সেলস্ মার্কেটিং এর কর্মীদের মাস এভাবেই চলতে থাকে,অনির্দ্দিষ্ট ভবিষ্যৎ এর টানা হেঁচড়া জীবন…

তবুও তারা সহকর্মী বলে নিজের কষ্টকে বিসর্জন দিয়ে হলেও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়, যেহেতু প্রত্যেকেই মোটামুটি একটা শিক্ষিত সমাজ থেকেই আসা সেহেতু কোন রকম অমত প্রকাশ না করে মানবিকতা এবং সমবেদনা প্রকাশের পাশাপাশি বেতনের কিছু অংশ দিয়ে সহযোগিতা করে থাকে।

কিন্তু কেন ?

মানবিকতা কী শুধু স্বল্প বেতন প্রাপ্ত সহকর্মীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ?
এর প্রকৃত দায় কী সহকর্মীদেরই?
এসব দায় কাদের প্রতি হওয়া উচিৎ?

যারা সারা টা দিন, মাস, বছর ধরে কোম্পানির পণ্য কে আলাদীনের প্রদীপের মত ঘরে ঘরে তুলে দিয়ে কোম্পনির ভবিষ্যৎ কে আলোকিত করে যাচ্ছে, নতুন নতুন ইন্ডাষ্ট্রিজ খোলার পথ তৈরি করে দিচ্ছে, তাদের করুণ অন্ধকারাচ্ছন্ন সময় পাশে থেকে এতটুকু আলো দেখাবার মত সৎ সাহস বা সামর্থ্য কি কোম্পানি গুলোর নেই ?

কেন প্রত্যেক কর্মীর কাছ থেকে ভিক্ষের থলি পেতে সহযোগিতার চাঁদা আদায় করতে হবে ?

কেন একজন বিক্রয় যোদ্ধাকে এভাবে হাত পেতে সহযোগিতা নিতে হবে ?
একজন বিক্রয় যোদ্ধা সফলতার একটি পার্স বা অঙ্গ। একটি বিক্রয় প্রদীপ।

অথচ এই প্রদীপ গুলোর জন্য কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোন সহযোগিতার অর্থ বরাদ্দ নেই..।

এটা ওই খেটে খাওয়া বিক্রয় প্রদীপের প্রতি অকৃতজ্ঞতা প্রকাশের সামিল।

এতে করে কি বৃহৎ কোম্পানির ইমেজ বিনষ্ট হয় না? কোম্পনির আত্মসম্মান বোধে কি একটুও লাগে না?

নাকি এসব বোধ গুলো হাজার ব্যস্তাতায় বিলাস বহুল অট্রালিকার ভীড়ে বৃহত্তর হীন-স্বার্থপরতায় হারিয়ে গেছে ?

উড়োজাহাজ আর বিলাস বহুল গাড়ী হাঁকালেই মর্যাদা সম্পন্ন হওয়া যায় না ,প্রকৃত মর্যাদা পেতে হলে গাছের গোড়া কেটে আগায় পানি নয়,বরং গোড়া মজবুত করে উচ্চ মর্যাদা বা ভাল ফল আশা করা যায়।

শুধু মাত্র বিক্রয় বৃদ্ধি এনালাইসিস নামে গাদা গাদা তথ্য সংগ্রহ এবং প্রযুক্তির অপব্যবহার নয়, পাশে থেকে কাজ করা উচিৎ ঐ শ্রেণীর মানুষের জন্যেও, ভাবা উচিৎ যারা সব কিছু বিসর্জন দিয়ে তিল তিল করে তৈরি করছে প্রতিষ্ঠান সফলতার স্বর্ণচাবি।

সম্মান জ্ঞাপন করে বলছি এই বৃহৎ কোম্পানি গুলোকে, যে সম্মিলিত ভাবে দেশের লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টির মধ্য দিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠান এবং দেশের অর্থনৈতিক চাকা কে সচল রেখেছে, তাই কোম্পানির প্রতি সেই মানুষ গুলোর কৃতজ্ঞতা যেমনি রয়েছে,,তেমনি কোম্পানিকেও ওই খেটে খাওয়া বিক্রয় যোদ্ধদের প্রতিও যথাযথো খেয়াল রাখা উচিৎ।

আইন দেখিয়ে পাশ কেটে যাওয়াটা কোন বীরত্বের কিছু নয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031