একজন মানবিক চিকিৎসক ডাঃ জাকিয়া শহীদ খান

প্রকাশিত: ৭:৪১ অপরাহ্ণ, অক্টোবর ১১, ২০২১

একজন মানবিক চিকিৎসক ডাঃ জাকিয়া শহীদ খান

রিংকু চক্রবর্তী

প্রসূতি মায়েদের জীবনের এক কঠিন সময় পার করতে হয় অনাগত সন্তানের অনাবিল হাসি উপভোগ করতে। এ কঠিন বাস্তবতা একমাত্র প্রসূতি মায়েরাই হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে থাকেন। এমন এক কঠিন মুহূর্ত আমাকেও পার করতে হয় কিছুদিন পূর্বে নিজের স্ত্রীকে নিয়ে। যার সামান্য বাস্তবতা তুলে ধরতে আজ আমার এ সামান্য লেখনি।
প্রথমবারের মত এমন একটি অবস্থায় পড়ি তখন নিজেও বুঝে উঠতে পারছিলাম না কি করতে হবে। প্রথম ৩/৪ বার আমার স্ত্রীকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালের একজন গাইনি সার্জন এর মাধ্যমে সুবিধা অসুবিধা নির্ধারন কাজ সম্পন্ন করি। ডেলিভারীর শেষ পর্যায়ে যখন আগাতে থাকে তখন ভালভাবে খোঁজ নেই কোন ক্লিনিকে মানসম্পর্ণ চিকিৎসা সেবা পেতে পারি। এক পর্যায়ে অনেকগুলো ক্লিনিক অবজারভেশন করে শেষে আমার কিছু নিকট আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের পরামর্শে সিদ্ধান্ত নেই এ জেলা তথা সিলেট বিভাগের সবচেয়ে প্রাচীন প্রাইভেট হাসপাতালে আমি আমার স্ত্রীকে ভর্তি করাবো যে হাসপাতাল প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা তথা নরমাল ডেলিভারির ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রায় ৫২ বছর ধরে নানা চড়াই উৎরাই পার করে স্ব-মহিমায় চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছে । এটা নিঃসন্দেহে কোন সাধারণ বিষয় নয়। এমনকি প্রাইভেট হাসপাতালের মাধ্যমে বৃহৎ জনগোষ্ঠির চিকিৎসা সেবা দেয়ার ধারনাটি এই হাসপাতাল হতে আজ অনেকেই গ্রহণ করে আমাদের চারপাশে গড়ে উঠেছে অনেক ক্লিনিক এবং ডায়াগনষ্টিক সেন্টার।

এমন ধারণা মাথায় নিয়েই আমি এই হাসপাতালে আমার স্ত্রীকে আপদকালীন সময়ে ভর্তি করি। যে হাসপাতালের কথা বলছিলাম সেটি এ মৌলভীবাজার জেলা সদরেরই একটি প্রাইভেট হাসপাতাল । যেটি বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতাল নামে এ জেলার সর্বত্র সুদীর্ঘ কাল ধরে চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছে নিয়মিত।আমাদের সমাজে চিকিৎসকদের নিয়ে যেমন ইতিবাচক কথা আছে তেমনি নেতিবাচক কথা ও কম নয়। চিকিৎসা সেবার নামে চিকিৎসা বানিজ্যের কথাটিও ওপেনসিক্রেট। এসব কিছু পাশ কাটিয়ে আমাদের সামনে বাস্তবতা হচ্ছে এখন- জন্মের সময় যেমন প্রয়োজন হয় চিকিৎসকের তেমনি মৃত্যু অবধি একান্ত প্রয়োজন হয় চিকিৎসকের। এর বাইরে যাবার কোন সুযোগ আমাদের নেই। তাই মানবিক ডাক্তারদের জানাই স্যালুট ও অভিনন্দন।

বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতালে ইতিপূর্বে এত কাছাকাছি যাবার সুযোগ আমার হয়নি। এবার কাছাকাছি থেকে লক্ষ্য করেছি আমার কেবিনের আশপাশের কেবিনে নরমাল ডেলিভারীতে জন্ম নিচ্ছে নবজাতক। আমি একটু খটকায় পড়ি কারণ আমাদের প্রচলিত ধারনা- প্রাইভেট ক্লিনিকে আসা মাত্রই চিকিৎসকের কথা মত প্রসূতিকে সিজার করেই নবজাতক বের করা হয়- যদিও সিজারের হয়ত প্রয়োজন ছিল না। এখানে বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম দেখে আমি হতবাক হই। প্রসূতি মায়েদের শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে প্রথমে নরমাল ডেলিভারীর ট্রায়াল চালানো হয়। যদি অবস্থার কোন অবনতি ঘটে তখন অভিভাবকদের সাথে রোগীর শারীরিক অবস্থার আলোকে বাচ্ছার নিরাপত্তার দিকটিও মাথায় রেখে একমাত্র প্রয়োজনেই এখানে সিজারের মাধ্যমে ডেলিভারীর কাউন্সিলিং আমাকে সত্যিই অবাক করে। আমার কাছে মনে হল চিকিৎসা সেবার অগ্রপথিক বদরুন্নেছা প্রাইভেট হাসপাতাল সত্যিই এখনও সেই আগের মতোই দিয়ে যাচ্ছে চিকিৎসা সেবা যা আমাদের জন্য গর্বের তথা আনন্দের।

এ অসাধারণ চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান যিনি পরিচালনা করেন তিনি হচ্ছেন ডাঃ জাকিয়া শহিদ খান যিনি এফসিপিএস ডিগ্রি প্রাপ্ত সার্জন। প্রসূতি মায়েদের চিকিৎসা সেবায় উনি রীতিমত সিদ্ধহস্ত। এ হাসপাতালে তাই নিয়মিত হয় নরমাল ডেলিভারী। সিজার করে অতিরিক্ত আয়ের ধান্ধা বলে কথিত অভিযোগ এর বালাই এখানে পেলাম না। এখানে এসে চিকিৎসা সেবা দেখে একজন সমাজসেবী তথা একজন সাংবাদিক ও সমাজকর্মী হিসেবে কেবিনের পেশেন্টদের অভিভাবকদের সাথে সুবিধা-অসুবিধা শেয়ার করি। সকলেই এ হাসপাতালের চিকিৎসা সেবায় কর্তৃপক্ষ তথা সিষ্টার আয়া-মাসী সকলের উপর দারুন খুশি। ভাল লাগলো এমন মানবিক কাজের একদল কর্মীর ভাল কাজের প্রসংশা শুনে।
আমার স্ত্রীর ডেলিভারী পেইন ছিল না। শেষ সময় পর্যন্ত ডাঃ জাকিয়া শহীদ খান আপ্রাণ চেষ্টা করেন যেন আমার স্ত্রী এর নরমাল ডেলিভারী হয়। অবশেষে সময়ের বাস্তবতায় আমাদের সাথে কাউন্সিলিং করে সিজার এর মাধ্যমে বেবী ডেলিভারীর সিন্ধান্ত নিয়ে অত্যন্ত নিরাপদভাবে আমি একজন নবজাতক পুত্র সন্তানের মুখের হাসি দেখতে পাই। এই হাসপাতালের সুপরিসর অপারেশন থিয়েটারের মান ভাল লেগেছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার স্ত্রী প্রাইমারি শিক্ষিকা সীমা চক্রবর্তী। সিজার পরবর্তী বেবীর যত যে মমতা আর আদর দিয়ে এখানের সিষ্টাররা করেছেন তাতে আমি রীতিমত অভিভূত। প্রসূতি মায়ের কোন রকমের সামান্য অসুবিধা বলা মাত্র ছুটে আসেন দায়িত্বপ্রাপ্ত সিষ্টার সাথে প্রয়োজনের সময় মাসীও। যেখানে চিকিৎসা ক্ষেত্রে রোগীর পাশে সঠিক সময় সঠিকভাবে ডাক্তার বা সেবিকা না পাওয়া নিয়ে রয়েছে কথিত অভিযোগ। সেখানে এই হাসপাতালে প্রয়োজনীয় লোকবল ও তাদের আন্তরিকতা আমাকে অবাক করেছে। প্রতি রাতে ডাঃ জাকিয়া শহীদ খান নিজে এসে পেশেন্ট এর কেবিন ভিজিট করে সুবিধা-অসুবিধা জেনে নিয়ে দিয়ে যান প্রয়োজনীয় পরামর্শ।এছাড়া ডিউটি ডাক্তারতো ২৪ ঘন্টাই সেবা দিয়েছেন।
অবশেষে তিনদিন পার করে ডিউটি ডাক্তারের অবজারভেশন জানার পর ডাঃ জাকিয়া শহীদ খানের চুড়ান্ত পরামর্শে নবজাতক ও আমার স্ত্রীর ছাড়পত্র নিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরি আনন্দচিত্তে।
হাসপাতালে পেশেন্ট নিয়ে থাকা রীতিমত বিড়ম্বনা এবং কষ্টকর হলেও বদরুুেন্নছা প্রাইভেট হাসপাতালে আমার মা-আত্মীয়স্বজন যারা এসেছেন-থেকেছেন রোগীর শয্যাপাশে- সবার কথা একই সূরে গাঁথা- বদরুন্নেছা হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সত্যিই সুন্দর- মনোরম। সবারই লেগেছে ভালো।
হাসপাতালে এসে আজকাল ভালো চিকিৎসা সেবা পাওয়া আমি মনে করি একটি ব্যাতিক্রমী ঘটনা যেটি আমরা এখানে পেয়েছে। আমি মনেকরি এই হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার ধরণ সকলের কাছে একটি প্রয়োজনীয় মেসেজ হিসেবে পৌঁছানো উচিত- তাই আমি ব্যস্ততার মাঝেও একটি লেখনির মাধ্যমে তা উপস্থাপন করেছি। আশা করি যারা এটি দেখার সুযোগ পাবেন তাদের জানা থাকলে এটি প্রয়োজনের সময় অবশ্যই কাজে লাগতে পারে।
ধন্যবাদ জানাই এই হাসপাতালের প্রতিষ্ঠাতা একজন সমাজসেবী বেগম বদরুনন্নেছাকে। ধন্যবাদ জানাই হাসপাতালের পরিচালক জনাব ডাঃ আব্দুল হাদি শাহিনকে এবং ডাঃ জাকিয়া শহিদ খানকে যিনি আমাদের একান্ত প্রয়োজনের সময় হয়ে উঠেন আপনজন উনার আন্তরিকতায় আমি সত্যি মুগ্ধ।
আপনাদের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করছি।

ছড়িয়ে দিন

Calendar

October 2021
S M T W T F S
 12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31