একটি ছেলে আমার সামনে এসেই বললো, আটোগ্রাফ দাও

প্রকাশিত: ৮:৪০ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ৬, ২০১৮

একটি ছেলে আমার সামনে এসেই বললো, আটোগ্রাফ দাও

হাসানআল আব্দুল্লাহ

নানা পেশায় যুক্ত আমরা যারা দূর দূরান্তে থাকি তাদের জন্যে বইমেলায় যাওয়াটা বেশ সময় সাপেক্ষই বটে। তবুও আমি ২০০৬ সাল থেকে নিয়মিত বইমেলায় যাই, মাঝে ২০১৬তে অবশ্য যেতে পারিনি, চীন সফর করার জন্যে। মেলা আমাকে অন্য রকম আনন্দ দেয়। এই ধরুন ৭/৮ বছরের একটি ছেলে আমার সামনে এসেই বললো, আটোগ্রাফ দাও। আমি বলি, কাগজ কই? ও পাশে দাঁড়ানো বোনের কাছে আবদার করে, কাগজ দাও। আমি যেহেতু তখন ‘শব্দগুচ্ছ’ স্টলের সামনে দাঁড়ানো, ‘কবিতা বঙ্গবন্ধু’ বইয়ের উপর অটোগ্রাফ দিতে ওকে উপহার দেই। কিন্তু সেটিও যথেষ্ট নয়, তার আনা কাগজেও অটোগ্রাফ দিতে হবে। এবং সেই আবদারও পূরণ করি। কৌতুহলবসত পুরো ব্যাপারটি চ্যানেল নাইন-এর ক্যামেরাম্যান বন্দী করে নেন। বইমেলা ছাড়া এমন ঘটনার সাথে পরিচিত হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। তবে এবছর মেলা আমার কাছে ছিলো একটু ভিন্নতর। প্রথমত, প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুণের সাথে তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘কবিতাকুঞ্জ’ ভ্রমণ ও সেখানে রাত্রি যাপনের সুযোগ। হ্যাঁ, কবিতাকুঞ্জে যারা বেড়াতে যাবেন বা যারা ভবিষ্যতে রিসার্চ করতে যাবেন, পূর্ব থেকে যোগাযোগ করে গেলে তাদের রাত্রি যাপনের আলাদা ব্যবস্থা রয়েছে। এই যাত্রায় কবি বারহাট্টা বইমেলারও উদ্বোধন করেন। ময়মনসিংহে সাংবাদিক ও আনন্দমোহন কলেজের ছাত্রছাত্রীদের সাথেও মতবিনিময় হয়।

এই মেলায় আমার তিনখানা বইপ্রকাশিত হবার খবর বন্ধুরা ইতিমধ্যেই পেয়েছেন। চ্যানেলগুলোতে ইন্টারভিউ ছাড়াও ব্যক্তিগত পর্যায়ে বেশ ক’জন বন্ধু আমার বই নিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন যা ছিলো আমার জন্যে সত্যিই আলাদা পাওয়া। কারো কারো স্ট্যাটাসে আবার বই কেনার যে লিস্ট এসেছে সেখানেও দেখা গেছে আমার বই। কবি নির্মলেন্দু গুণ ফেব্রুয়ারির বেশ ক’টি স্ট্যাটাসে কবিতাকুঞ্জ ও আমাদের কর্মকাণ্ডের সারাংশ তুলে ধরেছেন। নিজেদের স্ট্যাটাসে আমার বই ও সাক্ষাতের অভিজ্ঞতা ইত্যাদি যারা তুলে ধরেছেন তাদের মধ্যে খন্দকার খশরু পারভেজ, প্রশান্ত রায়, রনি অধিকারী, সুসেন সরকারের নাম না বললেই নয়। দুই নোট দিয়ে বইকেনায় জাহিদ সোহাগ তার স্ট্যাটাসে আমাকে ‘ক্রেতাকূলশিরোমনী’ বলে উল্লেখ করেছেন (হা হা হা)। তিনি অবশ্য দুই নোটে দাম নির্ধারণের যে কৌশল অবলম্বন করেছেন, ভবিষ্যতে হয়তো কেউ কেউ তা অনুসরণও করবেন। কবিবন্ধু বায়তুল্লাহ কাদেরী দু’দিন এসেছেন মেলায় আমাকে সময় দেবার জন্যে। আমার করা একটি ফেসবুক লাইভেও তিনি উপস্থিত থেকে মূল্যবান বক্তব্য রেখেছেন। সংগ্রহ করেছেন আমার বই। কবিবন্ধু রাজু আলীম, মামুন খান ও জাহানারা পারভীনকে অবশ্যই ধন্যবাদ জানাতে হয়ে, তাদের চ্যানেলগুলোতে আমাকে আমন্ত্রণ জানানোর জন্যে। ধন্যবাদ সাখাওয়াত হোসেন মিঠু ও তার টিমকে হুলিয়া২৪ ডট কমে একটি দীর্ঘ সাক্ষাৎকার গ্রহণ করার জন্যে। ধন্যবাদ গল্পকার পূরবী বসু ও কবি আনোয়ার কামাল, উভয়ের প্রকাশিত নতুন বইয়ে যথাক্রমে আমার উপন্যাস ‘ডহর’ ও আমার ‘স্বতন্ত্র সনেট’ ও মহাকাব্য ‘নক্ষত্র ও মানুষের প্রচ্ছদ’ বিষয়ে আলাদা প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। ‘স্বতন্ত্র সনেট’ ধারায় লিখিত সেনেটের দু’টি বই মেলায় এনেছে ধ্রুবপদ। খুলনা থেকে দেখা করতে এসেছিলেন দুই স্নেহভাজন ছড়াকার শাহাদাত মাননান ও এডিশনাল ডিআইজি প্রিজন টিপু সুলতান (উভয়েই একসময় আমার প্রতিষ্ঠিত ‘লতাপাতা’র সদস্য ছিলেন)। সুন্দর সময় দেবার জন্য ধন্যবাদ। বিশেষ ভাবে ধন্যবাদ জানাই আবৃত্তি শিল্পী ও ঢাকা বিশ্ব বিদ্যালয়ের অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তীকে, তাঁর প্রতিষ্ঠিত ‘স্বনন’ আবৃত্তি সংগঠন থেকে ২১ তারিখে আমার কবিতা আবৃত্তি করার জন্যে।

রোমেল রহমান নিয়মিত ‘শব্দগুচ্ছ’ দেখাশোনা না করলে গত একযুগেরও বেশী সময় ধরে এই পত্রিকার স্টলটি বসানো সম্ভব হতো না। ধন্যবাদ রোমেল। ধন্যবাদ জসিম উদ্দীন টুটুল ও আলোক চক্রবর্ত্তীকে, এখানে তাদের দেয়া স্ট্যাটাসের ছবি ব্যবহৃত হলো। ধন্যবাদ আমার সব বইয়ের প্রকাশক ও অন্যান্য সকল বন্ধুদের। ভালো থাকুন। কবিতার সাথে থাকুন।