একুশে গ্রন্থমেলায় সংখ্যায় এগিয়ে কবিতা, বিক্রিতে উপন্যাস- শীর্ষ স্থানে

প্রকাশিত: ৫:১৫ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০২০

একুশে গ্রন্থমেলায় সংখ্যায় এগিয়ে কবিতা, বিক্রিতে উপন্যাস- শীর্ষ স্থানে

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার: তখন দুপুর। ফাঁকা ফাঁকা বইমেলা। হুইলচেয়ারে বসে সত্তর পার করা এক বৃদ্ধা। যিনি ঠেলছেন চেয়ার, তাঁর বয়সও সত্তরের কাছাকাছি হবে। দুজনের হাতেই বইয়ের প্যাকেট। মুখে তৃপ্তির হাসি। মন ভালো করা এই দৃশ্য সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে, অমর একুশে গ্রন্থমেলায়। বইমেলাই পারে সত্তর বসন্ত পেরিয়ে আসা পাঠকদের সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে ঘর থেকে বের করে আনতে। আনতে পারে মা–বাবার হাত ধরে আসা অগণিত নবীন পাঠকদের মিষ্টি হাসি।

প্রাকৃতজ শামিমরুমি টিটন জীবন ও জ্ঞানসাধনায় ব্যাপৃত একজন সাধক পুরুষ । জ্ঞানসাধনায় ক্লান্তিহীন এই মহান সাধক তার জীবনের পুরোটা সময় ব্যয় করেছেন এই জ্ঞানচর্চায়। জ্ঞানচর্চার পথকে জীবনের একমাত্র ব্রত হিসেবে নিয়েছেন তার সাক্ষর ও পাই এই ” রক্তেভেজা স্বাধীনতা ও জীবনের দেনা গ্রন্থে ।

” গ্রন্থকার দেশপ্রেমের মন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে রাষ্ট্র, সমাজ ও ক্রান্তিলগ্নে একটি পরিচ্ছন্ন ছবি এঁকেছেন । এ গ্রন্থে যেমন মুক্তিযুদ্ধের কথা আছে! ঠিক সেইভাবে আছে মুক্তিযুদ্ধে অবদানের ব্যক্তির অগ্নি দিনের ভাস্কর । আরও রয়েছে এ গ্রন্থে ” মা,- মাটি দেশের প্রতি ঐকান্তিক ভালোবাসার স্ফুরণ । পরম মমতা দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন রাষ্ট্রের প্রতি,। জ্ঞানপথের প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যবোধের উজ্জ্বল নিশানা । এ গ্রন্থের প্রতিটি পঙক্তি জুড়ে রয়েছে কবির অন্তহীন দরদ ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ।

প্রাকৃতজ শামিমরুমি টিটনের ৩ টি বইঃ জীবন ও জীবন সাধনায় কর্মযোগী সিন্ধ সাধক পুরুষ প্রাকৃতজন শামিমরুমি টিটনের এই ৩ টি এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় ব্যাপক হারে পাঠক দর্শক ও শ্রোতাদের কাছে খুবই সাড়া জাগিয়েছে। এই ৩ টি বই প্রকাশনায়,দি অ্যাটলাস পাবলিশিং হাউস ও পরিবেশনায়,দি ইউনিভার্সেল একাডেমি প্যাভিলিয়ন ( চার ) সোহরাওয়ার্দী উদ্যান মাঠে স্টলে বিক্রি হচ্ছে ।

“স্বাধীনতা ও জীবনের দেনা” মহান দেশপ্রেমিকের সোনালী স্বপ্নের ইতিহাস ” ও প্রেমের ঘরে সবই ফাঁকা অন্তর ঘরে আমি একা ” এই ৩ টি বই ছাড়া ও রয়েছে লেখকের বিশাল কর্মকীর্তি ও রচনা সম্ভার। তার রচিত পুস্তকরাজির জনপ্রিয়তা ও রয়েছে। লেখক রক্তেভেজা স্বাধীনতা ও জীবনের দেনা কাব্য গ্রন্থের সঙ্গে উপশিরোনামে ” দেশপ্রেমের কবিতার সমগ্রে যুক্ত করেছেন প্রকৃতার্থে দেশপ্রেম সুনির্দিষ্ট করার জন্য ।

আগের দিনের জনস্রোতের পর গতকাল প্রকাশক ও পাঠক—উভয়েই মন ভালো করা দিন পার করলেন। বিকেল পেরিয়ে সন্ধ্যা—রাত যতই এগিয়েছে, ভিড়ের বহর ততই বেড়েছে। বিক্রিও হয়েছে যথেষ্ট। অনেকেই বলছেন, এবার বইমেলা নিকট অতীতের মধ্যে সুন্দরতম মেলা। অবশ্য এ নিয়ে খুব বেশি গবেষণারও প্রয়োজন নেই। সাড়ে আট লাখ বর্গফুট জায়গায় ছড়িয়ে–ছিটিয়ে দেওয়া হয়েছে মেলা। স্টল এবং প্যাভিলিয়নের বিন্যাসও হয়েছে স্বচ্ছন্দে ঘোরাঘুরির মতো। শুধু বিন্যাস নয়, প্রকাশকেরাও যথেষ্ট চেষ্টা করেছেন মূল স্রোতের সঙ্গে তাল মেলাতে। দূর থেকে যেমন নজর কাড়ে প্রকাশনা সংস্থা দি ইউনিভার্সেল একাডেমি প্যাভিলিয়নটি, তেমনি পাঠক সমাবেশের উপস্থিতি ভিন্ন ধারা। অন্যদিকে প্রথমা প্রকাশনের প্যাভিলিয়নটি ছিমছাম সুন্দর। অন্যপ্রকাশ এবারও যথারীতি প্যাভিলিয়ন সাজিয়েছে হুমায়ূন আহমেদের ছবি দিয়ে। ছোটদের বইয়ের বিশাল সম্ভার রয়েছে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্সে। আর সে জন্যই প্যাভিলিয়নটি সাজানো হয়েছে শিশুদের মনের মতো করে।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031