একুশে বইমেলায় “মাহফুজ উল্লাহ’র এ কী কেবলই প্রেম

প্রকাশিত: ১০:৫৭ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০১৯

একুশে বইমেলায় “মাহফুজ উল্লাহ’র  এ কী কেবলই প্রেম


মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

ভাষা আন্দোলনের বীর শহীদদের স্বরণে ফেব্রুয়ারি জুড়ে চলে বইমেলা। বাঙালির প্রাণের এ বইমেলা এখন ঐতিহ্য। বাংলা একাডেমি ও সোহরাওয়ার্দীর এক অংশে প্রতিবারেরর মতো পয়লা ফেব্রুয়ারি থেকে মাসব্যাপী শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলা। বাংলা ভাষাভাষী মানুষ বইমেলার জন্য একটি বছর অধীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষার প্রহর গুণতে থাকেন। অবশেষে কাঙ্ক্ষিত ক্ষণ এলে প্রিয় লেখকের প্রিয় বইয়ের জন্য দল বেঁধে ছুটে চলেন সবাই। এবারও একুশে বইমেলায় প্রিয় লেখক মাহফুজ উল্লাহ’র লেখা ” এ কী কেবলই প্রেম ” দেবব্রত বিশ্বাসের অপ্রকাশিত চিঠি – নাম এই উপন্যাস বইটি প্রকাশ করেছে দেশের সুনামখ্যাতি প্রকাশনা সংস্থা দি ইউনিভার্সেল একাডেমি।

রবীন্দ্র সংগীতের ভুবনে দেবব্রত বিশ্বাসের এক অন্যন নাম। জর্জ বিশ্বাস নামেও পরিচিত এই মানুষটি তার জীবনযাপন, শিক্ষা-দীক্ষা,কর্ম সবক্ষেত্রে বৈচিত্র্য সত্ত্বেও ভিন্নধারার গায়কী ঢংয়ের জন্য রবীন্দ্র সংগীতের অনুরাগীদের জগতে জাত- ওপাতের বালাইটা প্রায় অনস্বীকার্য, তাই বিশ্বভারতী অনুমোদিত সুরে না গাইলে সে গায়ককে রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী হিসেবে মর্যাদা দেওয়া হতো না। সেই বিধি-নিষেধের বেড়াজাল ভেঙেছিলেন দেবব্রত বিশ্বাস।

বছর ঘুরে আবারও শুরু হয়েছে মাসব্যাপী অমর একুশে বইমেলা। এই মেলা কেবলই বইমেলায় সীমাবদ্ধ নয়,বরং ভাষা আন্দোলনের স্বৃতি বহন করে চলেছে। বাংলা ভাষা ভাষী মানুষের জন্য এই বইমেলার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অনেক। তাই ফেব্রুয়ারি এলেই লেখক ও পাঠক আর প্রকাশকদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে ওঠে মেলা প্রাঙ্গন। পাঠকদের কাছে বাংলা বইয়ের কদর বেড়ে যায় ফেব্রুয়ারি এলেই। তাই তা দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রিয় লেখকের বই কিনতে ছুটে আসছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। বইমেলা এলেই পাঠকের সাথে কবি সাহিত্যিকদের সাথে যোগাযোগ বেড়ে যায়,বছরের অন্য যে কোনো সময়ের তুলনায়। সেই সাথে বেড়ে যায় প্রয়োজনীয় সব বই সংগ্রহের প্রচেষ্টা। তারিসাথে ফেব্রুয়ারি এলেই ভাষা শহীদদের স্বরণে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের অনুষ্ঠানের।

এ কী কেবলই প্রেম উপন্যাসের কিছু বিষয়ে আলোচনা

বাংলাদেশের এক নারীর সঙ্গে দেবব্রতের এক অদ্ভুত যোগাযোগ ঘটে ১৯৭৪ সালে, চিঠির মাধ্যমে। সেই যুবতী ১৯৭৪ সালে চিঠি লিখেছিলেন দেবব্রতকে, আর এই চিঠির যোগাযোগ অব্যাহত থাকে ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
এই আত্নপরিচয় গোপনীয় নারী ও দেবব্রত কি পরস্পর ভালোবেসে ছিলেন, না এটা শুধুই ছিল এক অতৃপ্ত বাসনা। ধারাবাহিক ভাবে চিঠিগুলো পড়লে ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ও পাঠকের ভিন্ন ভিন্ন উপলব্ধি হবে। সঙ্গত কারণেই বাংলাদেশী নারীর পরিচয়টা গোপনীয় রয়েছে, চিঠিগুলো প্রকাশেও তার কিছুটা আপত্তি ছিল। দেবব্রতের অনুভূতিগুলো তিনি একান্ত নিজের করে লালন করতে আগ্রহী। তাই যেখানে লেখিকার নাম সেটা মুছে দেওয়া হয়েছে। তবু দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে এবং দেবব্রতের মৃত্যুর ৩৫ বছর পরে চিঠিগুলো পাঠক পড়ে দেখতেই পারেন। বইয়ের শেষ দিকে প্রতিলিপি অংশে চিঠিগুলো ক্রমিক নম্বর দিয়ে ধারাবাহিকভাবে সাজানো আছে। দেবব্রতের চিঠি যিনি পেয়েছেন তিনি রাজধানীর কেউ নন, স্বল্পপরিচিত এক মহকুমা ও পরে জেলার অধিবাসী। এতে মুল- চিঠির বানান অপরিবর্তিতই থেকেছে।

এতে লেখক নিরপেক্ষভাবে বিষয়টিকে তুলে আনতে সক্ষম হয়েছেন পাঠকদের দৃষ্টিতে। মুল্যবান এই উপন্যাস বইটি পাঠকমাত্রকেই নাড়া দেবে বইটির বিষয় ভাবনার কারণে। বাঙালির ভাষা – সংস্কৃতি তার নববর্ষ বিগত বছরের প্রাপ্তি শুন্যতাকেও আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন এই উপন্যাসে তার লেখেনির মাধ্যমে। উগ্রবাদ ও ধর্মাদ্ধতার বিরুদ্ধে ‘ গোরা ‘ উপন্যাসের দর্শন যে আজও প্রাসঙ্গিক সেটি যুক্তি দিয়ে প্রমাণ করেছেন লেখক। বাংলা ভাষার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস ‘ চিলেকোঠার সেপাই ‘ সম্পর্কে মুল্যায়ন করতে গিয়ে ঔপন্যাসিক আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের শিল্পমানস অনায়াস দক্ষতায় ধরেছেন যেভাবে ঠিক- সেইভাবে লেখক মাহফুজ উল্লাহ এই উপন্যাসে ব্যক্তি বিশেষ নয়, গণনায়কত্বই এ উপন্যাসের প্রাণ’ হিসেবে তুলে ধরেছেন। একথা জোড় দিয়ে বলা যায় উপন্যাস ভাবনা ও সাবিত্রী উপাখ্যান ও উপান্যাস সম্পর্কে চিন্তা- ভাবনা স্ফটিকস্বচ্ছ পরিচয় দিয়েছেন লেখক। এরপর এ আলোচিত উপন্যাসটি সম্পর্কে নির্মোহ আলোকপাত করেছেন তিনি। মানুষের মানবিকতাকে নাড়া দিয়েছেন। সমাজকে পরিবর্তনের প্রয়াস চালিয়েছেন। শ্রমঘনিষ্ট জনগণের সঙ্গে শিল্প – সাহিত্য – সংস্কৃতির মেলবন্ধন ঘষটানোর ক্ষেত্রে দৃঢ়- প্রত্যয়দীপ্ত এই ” এ কী কেবলই প্রেম ” উপন্যাসটির লেখক সাঁকো বাঁধায় নিপুন কারিগর তিনি মাহফুজ উল্লাহ।
লেখক মাহফুজ উল্লাহ সাহিত্যের একজন অন্যতম জনপ্রিয় লেখক। জনপ্রিয় লেখক সম্পর্কে যা বলতে চাই তা হচ্ছে এখন ফেব্রুয়ারি বইমেলা এলেই দেখি, পত্র – পত্রিকায় যে বিজ্ঞাপনগুলো হয় সেখানে এক শ্রেণীর লেখক নিজেদের লিখে যাচ্ছেন জনপ্রিয় লেখক, জনপ্রিয় কথাসাহিত্যিক, জনপ্রিয় অমুক, জনপ্রিয় তমুক,। এর ফলে আসল সত্য বাস্তব জনপ্রিয় জিনিসটা ও এখন এমন একটা পর্যায়ে গেছে যে, প্রত্যেকে জনপ্রিয় লেখক। যার ফলে জনপ্রিয়তা কিংবা জনপ্রিয় লেখকের ইমেজটা এখন এক ধরনের প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে প্রকৃত অর্থে চাই যেমনঃ শরৎচন্দ্র চট্রোপাধ্যায়, বাংলা- সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক। তিনি কি খারাপ লেখক? তারাশস্কর, মানিক, বিভূতি এদের প্রত্যকের বই বছরের পর বছর ধরে চলছে। নজরুল ও রবীন্দ্রনাথের বই বিক্রি হচ্ছে ! বিক্রি হচ্ছে জীবনানন্দের বই বিক্রি হচ্ছে, সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর বই বিক্রি হচ্ছে । বিক্রি হচ্ছে হুমায়ুন আহমেদ, সেলিনা হোসেন, হাসান আজিজুল হকের বই । এখন আমার কথা হচ্ছে জনপ্রিয় লেখা কিংবা অজনপ্রিয় লেখা বড় নয় । বড় হচ্ছে ভালো লেখা এবং মন্দ লেখা । কে ভালো লিখছে সেটা ভাববার বিষয়, আর কে মন্দ লিখছে সেটা ভাববার বিষয়।

এ কী কেবলই প্রেম- বর্তমান সময়োপযোগী এই উপন্যাসটির লেখক হচ্ছেন বাংলাদেশের মিডিয়া জগতের এক উজ্জ্বল ব্যক্তিত্ব, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে পদার্থবিদ্যা ও সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী মাহফুজ উল্লাহ। তিনি ছাত্রাবস্থায়ই সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন।

বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় সাপ্তাহিক বিচিত্রার ১৯৭২ সালে জন্মলগ্ন থেকেই এ পত্রিকার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। মাঝে চীন গণপ্রজাতন্ত্রে বিশেষজ্ঞ হিসেবে, কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপদূতাবাসে এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগে খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন কাজ করেন। তারিসাথে বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশের নেতৃস্থানীয় বাংলা- ও ইংরেজি দৈনিকে কাজ করেছেন এবং রেডিও ও টেলিভিশনে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেছেন। তিনি মাহফুজ উল্লাহ আন্তজার্তিকভাবে পরিচিত একজন সক্রিয় পরিবেশবিদ। বাংলাদেশে তিনিই সর্বপ্রথম পরিবেশ সাংবাদিকতা শুরু করেন। তিনি আন্তজার্তিক পরিবেশবাদী সংগঠন আইইউসিএন- এর পরিচালনা বোর্ডের নির্বাচিত সদস্য- ( ২০০৮ – ২০১২) এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সিনেটের সদস্য ( ২০১৩ – ২০১৬) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

এক কথায় বইমেলাকে লেখক – পাঠকের মিলনমেলা বললেও ভুল হবে- না । লেখকদের পাশাপাশি পেশাজীবী বিভিন্ন সংগঠনের মানু্ষও মেলায় আসেন মাতৃভাষার টানে। বাংলা- সাহিত্যের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণে নানা ব্যস্ততার মধ্যেও একটি বারের জন্য হলেও বইমোলায় ছুটে আসেন। তাই প্রতিটি স্টলে কিংবা ফাঁকা জায়গার সামনে দাঁড়িয়ে আলাপচারিতায় দেখা যায়। এর বাইরেও বইমেলায় প্রাবন্ধিক, কলামিস্ট, আলোচক, চিকিৎসক, অভিনেতা – অভিনেত্রী, রাজনৈতিক ব্যক্তি, বুদ্ধিজীবি মাংস্কৃতিক কর্মী- এবং খেলোয়াড় সহ অন্য পেশাজীবী মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে মেলাপ্রাঙ্গণ। বইমেলায় আগত পাঠক, দর্শক, শ্রোতাসহ সবাইকে আহবান জানাই ” বর্তমান সময়োপযোগী এই উপন্যাসটি আজই সংগ্রহ করুন আপনার সু-প্রিয় প্রকাশনা সংস্থা প্রতিষ্ঠান ” দেশের সুনামধন্য প্রকাশনা ” দি ইনিভার্সেল এবাডেমি – সোহরাওয়ার্দী মাঠ- প্রাঙ্গণ স্টল নাম্বার- ৫৫৩ – ৫৫৪ – ৫৫৫ – ৫৫৬ –