ঢাকা ১৮ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১১ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


এনসিসি এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মে ৭, ২০১৯, ১১:৪৩ অপরাহ্ণ
এনসিসি  এমডির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে দুদক

এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের ব্যাংক হিসাবে থাকা প্রায় ৩৫ কোটি টাকার উৎস খতিয়ে দেখা হবে । এ ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইনানশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট-বিএফআইইউ।

মঙ্গলবার দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (উপ পরিচালক) প্রনব কুমার ভট্টাচার্য্য বলেন, আমরা বিএফআইইউ- এর চিঠি পেয়েছি। এনসিসি ব্যাংকের এমডির ব্যাংক হিসেবে অস্বাভাবিক পরিমাণ অর্থ জমা থাকার কথা বলা হয়েছে সেখানে।

দুদকের সংশ্লিষ্ট শাখায় ওই চিঠি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে জানিয়ে প্রনব বলেন, তারা এখন নিয়ম অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।

ওই চিঠির বরাত দিয়ে দুদকের একজন কর্মকর্তা জানান, মোসলেহ উদ্দিনের নামে পাঁচটি ব্যাংকে, দুটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে এবং চারটি ব্রোকারেজ হাউসে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা জমা থাকার তথ্য এসেছে বিএফআইইউ- এর বিশেষ অনুসন্ধানে।

ব্যাংকের ঋণগ্রহীতা ছাড়াও পরামর্শক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং শেয়ারবাজার থেকে টাকা জমা হয়েছে এনসিসি ব্যাংকের এমডির ব্যক্তিগত হিসাবে।

একটি ব্যাংকের এমডি পদে থাকা অবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি ও কর ফাঁকির মাধ্যমে মোসলেহ উদ্দিন ওই ‘অবৈধ’ অর্থের মালিক হয়েছেন বলে বিএফআইইউ-এর তদন্তকারীরা মনে করছেন।

তবে মোসলেহ উদ্দিনের দাবি, কেউ তার বিরুদ্ধে ‘ষড়যন্ত্র’ করছে।

দুদকে বিএফআইইউ-এর পাঠানো তথ্য অনুযায়ী, এনসিসি ব্যাংক ভবন শাখায় মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের হিসাবে প্রতি মাসের বেতন বাবদ পাঁচ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪০ টাকা জমা হয়। ওই শাখাতেই একটি বৈদেশিক মুদ্রার হিসাবে তার নামে বিভিন্ন সময়ে জমা হয়েছে ১৩ হাজার ডলার।

যমুনা ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক (ডিএমডি) পদ থেকে ২০১৫ সালের ৯ ডিসেম্বর এনসিসি ব্যাংকে অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এএমডি) পদে যোগ দেন মোসলেহ উদ্দিন। ২০১৭ সালের আগস্টে তিনি এমডির দায়িত্ব পান।

বিএফআইইউ-এর তদন্তে দেখা গেছে, ২০১৫ সালে যমুনা ব্যাংক ছেড়ে এলেও ওই ব্যাংকে মোসলেহ উদ্দিনের অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা জমা হয়েছে।

যমুনা ব্যাংকে মোসলেহ উদ্দিনের নিজের নামে একটি হিসাবে ছয় কোটি এবং স্ত্রী লুনা শারমিনের সঙ্গে একটি যৌথ হিসাবে সাড়ে তিন কোটি টাকা হয়েছে।

২০১৮ সালের ৫, ১২, ১৫ ও ২৫ এপ্রিল ওই দুই অ্যাকাউন্টে ওই সাড়ে নয় কোটি টাকা জমা হয়েছে। এর মধ্যে চার কোটি টাকা এসেছে যমুনা ও এনসিসি ব্যাংকের গ্রাহক ওয়েস্টার্ন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের কাছ থেকে।

দি সিটি ব্যাংকে মোসলেহ উদ্দিন আহমেদ, তার স্ত্রী লুনা শারমিন এবং তাদের যৌথ নামে মোট তিনটি অ্যাকাউন্টের তথ্য এসেছে বিএফআইইউ-এর প্রতিবেদনে। বিভিন্ন সময়ে মোট সাড়ে ছয় কোটি টাকা জমা হয়েছে এসব অ্যাকাউন্টে।

এছাড়া প্রাইম ব্যাংকের ইসলামী ব্যাংকিং শাখায় চার কোটি ৩৩ লাখ টাকা এবং প্রিমিয়ার ব্যাংকে দুই কোটি আট লাখ টাকা জমা হয়েছে মোসলেহ উদ্দিনের নামে।

রিলায়েন্স ফাইন্যান্সে তার নামে ৪ কোটি টাকা এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ২ কোটি টাকার মেয়াদি আমানত রয়েছে। এর বাইরে সিটি ব্রোকারেজ, এনসিসি সিকিউরিটিজ, সিএসএমএল সিকিউরিটিজ ও ই-সিকিউরিটিজে মোসলেহ উদ্দিনের হিসাবে জমা রয়েছে দুই কোটি ২৬ লাখ টাকা।

তবে এনসিসি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোসলেহ উদ্দিন আহমেদের দাবি, তার ব্যাংক হিসাবে ৩৫ কোটি টাকা পাওয়ার বিষয়টি ‘পুরোপুরি মিথ্যা’।এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক, দুদক বা কোনো সংস্থা থেকেই এ বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি। পত্রিকায় আমি খবর দেখছি। এটা আমার জন্য খুবই দুঃজনক। আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে সেটা সত্য নয়।

মোসলেহ উদ্দিন বলেন, আমার ২৯ বছরের ব্যাংকিং জীবনে ছয়টি চাকরি করেছি। এই ছয় ব্যাংকেই আমার হিসাব আছে। এসব ব্যাংকে বিভিন্ন সময়ে ট্র্যানজেকশন হয়েছে। ৩৫ কোটি টাকার যে কথাটা বলা হচ্ছে সেটা সব লেনদেন যোগ করে কিনা জানি না। তবে বর্তমানে আমার ব্যাংক হিসাবে ৩৫ কোটি টাকা পাওয়ার বিষয়টি কোনোভাবেই সত্য নয়।

কোনো মহলের ‘ষড়যন্ত্রের’ অংশ হিসেবে এ অভিযোগ আনা হতে পারে মন্তব্য করে এনসিসি ব্যাংকের এমডি বলেন, আমি যে সব ব্যাংকে চাকরি করেছি, সে সব জায়গায় খোঁজ নিয়ে দেখুন, কোথাও আমার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ পাবেন না। সব জায়গায় সুনামের সঙ্গে চাকরি করেছি আমি।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031