এনির প্রকৃত পরিচয় – ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক ঘাতক

প্রকাশিত: ১২:৫৫ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৯, ২০২০

এনির প্রকৃত পরিচয় – ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক ঘাতক

সাবিনা শারমিন

একজন নারী অধিকার কর্মীর বাসার গৃহকর্মী রেফ্রিজারেটরে দাগ লাগিয়েছে।এরকম সন্দেহের অফিযোগে সে নারী উক্ত কর্মীকে চুল ধরে টেনে শুওরের বাচ্চা,হারামজাদি বলে মারধোর করেছেন, শরীরের বিভিন্ন থানে খামচি দিয়ে জখম করেছেন,ঘরে আটকে রেখেছেন এবং বাবা মা তুলে খারাপ গালাগাল দিয়েছেন। — এরকম ঘটনায় কয়েকটি কথা বলতে ইচ্ছে হলো ঃ

নারী অধিকার কর্মী গৃহকর্তা সাঈদা সুলতানা এনি এবং তার অধীনে তার গৃহে কর্মরত নারী পাপিয়া আক্তার মীম।গত দু’দিন এ দু’জনের অভিযোগ ও ভিডিও পর্যালোচনা করে তাদের ব্যক্তিত্বের প্রকৃত পরিচয় পেয়ে যা বুঝলাম তাতে,সামাজিকভাবে এনি
এতোকাল যে পরিচয়টি বহন করে আসছিলেন, বাস্তব জীবনে সম্পূর্ণভাবেই সে তার উল্টো। অর্থাৎ এযাবৎকাল তিনি নিজে ‘নারী নির্যাতনের প্ল্যাকার্ড’ হাতে নিয়ে যাদের বিরুদ্ধে এক্টিভিজম করে আসছিলেন,হাস্যকর ও অবিশ্বাস্য হলেও সেই নির্যাতক ব্যক্তি এনি নিজেই।

তার মানে দাঁড়াচ্ছে সরল অংকের সমাধানে নাটকীয়ভাবে দৃশ্যটি হচ্ছে এমন যে এক্টিভিস্ট এনি নিজেই নিজের কৃতকর্মের বিচার চাচ্ছেন ! তার হাতে লেখা প্ল্যাকার্ডে ‘আমি নির্যাতন কারী এনির বিচার চাই’ লিখে নিজেই নিজের বিরুদ্ধে শাহবাগে দাড়িয়ে গেছেন । তাহ’লে হিসাব অনুযায়ী এ বিষয়টিতে আর স্ববিরোধ থাকবেনা তাইনা? মানে যিনি নারীবাদি তিনিই নির্যাতক।

এনি নিজে নির্যাতক না হয়ে যদি রহিমা করিমা হতো,তাহ’লে যদি তিনি উক্ত রহিমা করিমার বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের প্ল্যাকার্ড নিয়ে দাঁড়িয়ে নির্যাতন বন্ধে এক্টিভিজম করতে পারেন,তবে নিজের জন্য নিজে নয় কেনো?

আমরা বলি কি ম্যাডাম এনি,আগামীকাল নিজের বিরুদ্ধে নিজে অভিযোগ এনে শাহবাগে প্ল্যাকার্ড হাতে না হয় দাড়িয়ে যান।নিজের সাথে নিজে কনফেইস করুক যে আপনি নারী এক্টিভিস্ট হিসেবে যে অন্যায় করেছেন তা তখন সেই মুহূর্তে বুঝতে না পারলেও,অবশেষে আপনি ঠিকই বুঝতে পেরেছেন। আর সে কারণেই আপনি লজ্জিত হয়ে নিজের বিরুদ্ধে নিজেই অভিযোগ এনে দাঁড়িয়ে গেছেন। আমার মনে হয় তাতে আপনার এক্টিভিজমের যে পরিচয়টি আপনি এতোকাল ধরে রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে অর্জন করেছিলেন,সেই পরিচয়টিও বাতিল না হয়ে বহাল থাকলো। আর অনুতাপ আর আত্মশুদ্ধিও সেইসাথে হয়ে গেলো। আপনাকে দেখে অন্যান্যরাও নিজের ভুল শুধরে নিলেন। আম ছালা দুটোই থাকলো। এতে এতে লজ্জার কিছু নেই।বরং আপনিই অনুকরনীয় হলেন।

অপরদিকে ভিডিওতে,পাপিয়া আক্তার মীম নামে সামাজিকভাবে যে মেয়েটিকে আমরা গৃহকর্মী হিসেবে দেখতে পেয়েছি সেই মেয়েটির ব্যক্তিত্ব বুদ্ধিমত্তা এবং স্মার্টনেসকে কোনভাবেই আমি এনির সামাজিক পরিচয় ”একজন সোশাল এক্টিভিস্ট” এর চেয়ে কম বলে বিবেচনা করতে পারছিনা। আমার কাছে মনে হচ্ছে এনি এবং মীম উভয়ের সামাজিক ভাগ্যের পরিহাসে গৃহকর্তা – গৃহকর্মী হলেও ব্যক্তিত্ব দু’জনের উল্টো উল্টি।মনে হচ্ছে,মীম এর প্রকৃত পরিচয়টি সোশাল এক্টিভিস্ট এবং সোশাল এক্টিভিস্ট এনির প্রকৃত পরিচয় মেইলশভিনিস্ট ধর্মান্ধ পুরুষতান্ত্রিক ঘাতক। যদিও মীম যে কাজটিতে এনির বাসায় নিয়োজিত ছিলো তাকে উন্নত দেশে বলা হয় পার্সোনাল সাপোর্ট ওয়ার্কার।বাংলাদেশী অনেক উচ্চ শিক্ষিত মানুষও বিদেশে এ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কাজতো কাজই।এতে অসম্মানের কিছু নেই।

মীমের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং ব্যক্তিগত জীবন যাইহোক না কেন, তার বুদ্ধিমত্তাকে অনেক বড় ধরনের কাজে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ রয়েছে। অন্যদিকে এনি নিজে নিজের ভুল শিকার করে শুধরে নিয়ে সামাজিক কর্মকাণ্ড বহাল রাখুন,তাতে লাভ বৈ লসের কিছু নেই। আমরা তাকে লজ্জা না দিয়ে তিনি নিজেই নিজের আত্মশুদ্ধি করুক।

ছড়িয়ে দিন