ঢাকা ১৪ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


এবারেও জনশূন্য থাকছে শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাত

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জুলাই ২০, ২০২১, ০১:৩১ অপরাহ্ণ
এবারেও জনশূন্য থাকছে  শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাত

এবারেও জনশূন্য থাকছে ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাত ।

১৭৫০ সাল থেকে কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ময়দানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। সে হিসাব অনুসারে শোলাকিয়া ঈদগাহের বয়স ২শ’ ৭১ বছর। প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পর ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়ালাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন।

এই সোয়ালাখ থেকে এ মাঠের নাম হয় ‘সোয়ালাখিয়া’, যা উচ্চারণ বিবর্তনে হয়েছে শোলাকিয়া। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে গত বছর প্রথমবারের মতো ঈদের দিন মুসল্লিশূণ্য থাকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। পবিত্র ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা দুই ঈদেই শোলাকিয়ায় ঈদজামাতের আয়োজন করা হয়নি।

করোনা সংক্রমণজনিত পরিস্থিতি বজায় থাকায় এ বছরের ঈদুল ফিতরেও ঐতিহাসিক এই ময়দানে ঈদজামাতের আয়োজন করা হয়নি।

বর্তমানে করোনাভাইরাসে উর্ধ্বমুখী সংক্রমণের কারণে এবার ঈদুল আযহাতেও শোলাকিয়া ঈদজামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে না। কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হওয়ায় শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানসহ সারা জেলার কোনো খোলা জায়গা এবং ময়দানে ঈদ জামাত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

গত ১৫ জুলাই কিশোরগঞ্জে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলমের সভাপতিত্বে জুমে অনুষ্ঠিত শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান কমিটির এক সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৃহত্তম জামাতের হিসাব অনুযায়ী, এবার শোলাকিয়া ঈদগাহে ১৯৪তম ঈদুল আযহার জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ শামীম আলম জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় করোনা পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। ফলে করোনা ছড়িয়ে পড়া রোধে জেলায় খোলা মাঠ ও ঈদগাহে ঈদের জামাতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী ঐতিহাসিক শোলাকিয়া মাঠে ঈদের জামাত আয়োজন না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সবাইকে মসজিদে নামাজ পড়ার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের পূর্বপ্রান্তে নরসুন্দা নদীর তীর ঘেঁষে অবস্থিত প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় উপমহাদেশের বৃহত্তম ঈদুল ফিতরের জামাত। ২০১৬ সালে ঈদুল ফিতরের দিন ঈদজামাতের আগে মাঠের কাছে একটি চেকপোস্টে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটলেও লাখ লাখ মুসল্লি ঈদজামাতে অংশ নিয়েছিলেন।

জঙ্গি হামলা পরবর্তী পরিস্থিতিতেও এখানে বন্ধ হয়নি ঈদজামাত। নিñিদ্র নিরাপত্তায় ভয়কে জয় করে মুসল্লিরা অংশ নিয়েছেন শোলাকিয়ার ঈদজামাতে।

কিন্তু অদৃশ্য অনুজীব করোনা বদলে দিয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহের ইতিহাস। নানা প্রতিকূল সময়েও এখানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। কোনো পরিস্থিতিতে ঈদের জামাতে কোনো সমস্যা হয়নি।

চলমান করোনা মহামারিতে গতবছর প্রথমবারের মতো ঈদের দিনে খালি থাকে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবারও ঈদুল ফিতরে সেখানে জামাত অনুষ্ঠিত না হওয়া দেখা মিলেনি সেই চিরচেনা কোলাহল। লাখো মানুষের মুখরতা।

একইভাবে বুধবার (২১ জুলাই) অনুষ্ঠেয় ঈদুল আযহাতেও মুসল্লিশূণ্য থাকবে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান।

বাংলার বারো ভূঁইয়ার অন্যতম ঈশাখাঁ’র ষোড়শ বংশধর হয়বতনগরের জমিদার দেওয়ান মান্নান দাঁদ খান তাঁর মায়ের অসিয়াত মোতাবেক ১৯৫০ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহের জন্য ৪.৩৫ একর জমি ওয়াক্ফ করেন। সেই ওয়াক্ফ দলিলে উল্লেখ রয়েছে, ১৭৫০ সাল থেকে এ মাঠে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।

প্রতিষ্ঠার ৭৮ বছর পর ১৮২৮ সালে প্রথম বড় জামাতে এই মাঠে একসঙ্গে ১ লাখ ২৫ হাজার অর্থাৎ সোয়ালাখ মুসল্লি ঈদের নামাজ আদায় করেন। কিশোরগঞ্জ মৌজার এ মাঠের মূল আয়তন বর্তমানে ৬.৬১ একর।

জনসমুদ্রে পরিণত হওয়া ঈদগাহ ময়দানে আগত মুসল্লিদের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য শর্টগানের গুলি ছুঁড়ে জামাত শুরুর সংকেত দেয়া হয়। রেওয়াজ অনুযায়ী, জামাত শুরুর ৫মিনিট আগে ৩টি, ৩ মিনিট আগে ২টি এবং ১ মিনিট আগে ১টি শর্টগানের গুলি ছোঁড়া হয়।

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031