এবার পাল্টা মামলা ডাকসু ভিপি নূরের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত: ৭:২১ অপরাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৬, ২০১৯

এবার পাল্টা মামলা ডাকসু ভিপি নূরের বিরুদ্ধে

এবার পাল্টা মামলা হয়েছে ডাকসু ভিপি নুরুল হক নূর এবং তার সঙ্গী বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে । এক ছাত্রলীগ কর্মীর এই পাল্টা মামলা‍য় হত্যাচেষ্টার সঙ্গে মানিব্যাগ, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হলের ছাত্র ডিএম সাব্বির হোসেন বুধবার ঢাকার শাহবাগ থানায় এ মামলা দায়ের করেন বলে রমনা জোনের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ কমিশনার এস এম শামীম জানান।

তিনি বলেন, নূরসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে সেখানে আসামি করা হয়েছে। ডাকসু ভবনে বহিরাগতদের নিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ, ছাত্রলীগ ও মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে মামলার এজাহারে।

মামলার বাদী সাব্বির হোসেন সার্জেন্ট জহরুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক সহ সভাপতি। এখন কোনো পদে না থাকলেও তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়ের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

গত ২২ ডিসেম্বর ডাকসু ভবনে নিজের কক্ষে হামলার শিকার হন ভিপি নূর ও তার সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের একদল নেতা-কর্মী।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে ভিপির কক্ষে ঢুকে বাতি নিভিয়ে সেখানে থাকা সবাইকে এলোপাতাড়ি পেটায় বলে আহতদের ভাষ্য।

পরদিন নীলক্ষেত পুলিশ ফাঁড়ির এসআই রইচ হোসেন শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। ডাকসু ভবনে ভিপি নুরুল হক নূরসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলা চালিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ আনা হয় সেখানে।

মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চের কেন্দ্রীয় সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আল মামুন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি এএসএম আল সনেট, সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন আরাফাত তূর্যসহ আটজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৩৫ জনকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।

তাদের মধ্যে আল মামুন ও তুর্যসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছে। মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।

পুলিশ মামলা করার পরদিন আহত নূরের পক্ষে মামলা করতে শাহবাগ থানায় যান ডাকসুর সমাজ সেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। হামলার জন্য ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি সনজিত চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইনসহ ৩৭ জনের বিরুদ্ধে সেখানে অভিযোগ করা হয়।

নূরের পাঠানো ওই অভিযোগেও মোবাইল ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়েছিল। তবে মামলাটি আলাদাভাবে নথিভুক্ত না করে আগের দিন পুলিশের করা মামলার সঙ্গেই নূরের অভিযোগের তদন্ত করা হবে বলে সেদিন জানিয়েছিলেন শাহবাগ থানার ওসি আবুল হাসান।

সেদিন হামলার ঘটনার পর মোট ৩১ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তাদের মধ্যে নূরসহ আটজন এখনও হাসপাতালে আছেন।

নূর বলছেন, ২২ ডিসেম্বর বেলা ১২টার দিকে হঠাৎ করে মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ অতর্কিতে ডাকসু ভবনে ঢুকে লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের উপর প্রথম দফা হামলা চালায়। তখন তারা ডাকসুর কর্মচারীদের সহায়তায় ভবনের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেন।

কিছুক্ষণ পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিত দাস এবং সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসাইনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা মূল ফটকের তালা খুলে হত্যার উদ্দ্যেশে হামলা চালায়।

অন্যদিকে হামলায় ছাত্রলীগের জড়িত থাকার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে সাদ্দাম সেদিন সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ওই ঘটনা ছিল মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ ও সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের সংঘর্ষ। ওই দুই পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিলে তারা তা থামাতে গিয়েছিলেন।

আর ডাকসুর জিএস গোলাম রাব্বানী এক ফেইসবুক পোস্টে দাবি করেন, সেদিন ছাত্রলীগ নেতারা নূরকে ‘উদ্ধার করতে’ গিয়েছিলেন। নূরের সাথে থাকা সহযোগীদের ‘অসৌজন্যমূলক আচরণে ও তীর্যক মন্তব্যে’ তারা ফিরে আসেন।