এমন বিক্ষোভ স্বাধীন ভূমিতে হয়নি কখনো!

প্রকাশিত: ১১:২৭ অপরাহ্ণ, আগস্ট ২, ২০১৮

এমন বিক্ষোভ স্বাধীন ভূমিতে হয়নি কখনো!

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দীকী তালুকদার:

কেবল মাত্র সড়কে হত্যার প্রতিবাদে আপনার, আমার, নিজেদের অধিকার আদায় করতে, নিরাপদ সড়কের জন্য সম্পুর্ণ শান্তিপুর্ণ ভাবে আন্দোলন চালিয়ে আসছিল কোমলমতী শিক্ষার্থীরা । রাজধানী ঢাকাতে পুলিশ প্রথমদিকে আন্দোলনকারিদের সাথে বেপরোয়া আচরণ করেছে সেই- বিষয়টি অত্যান্ত নিন্দনীয় এবং জঘন্যতম ন্যাক্কার কাজ। বিষয়টি গতকাল রাতে পুলিশ এবং সরকারের উর্ধতন পর্যায়ে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সাথে নমনীয় । পুলিশকে আজ আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সহযোগিতায় সহানুভূতি নিয়ে অবস্থান করতে দেখা গেছে। আজ দুপুরবেলা রাজধানী সাইন্সল্যাব মোড়ে আন্দোলনকারি শিক্ষার্থীরা প্রত্যকের হাতে গোলাপ- ফুলের ঝুড়ি ছিল। তাদের পক্ষ থেকে একটি করে গোলাপ ফুল পুলিশের হাতে তুলে দিয়ে সাদর আমন্ত্রণ জানিয়েছে। তবে কোনো বাড়াবাড়ি করেনি পুলিশ।

পরিবহন মালিক, আইনলঙ্ঘনকারী বেপরোয়া চালক ও দুর্নীতিগ্রস্ত দায়িত্বহীন ট্রাপিক ব্যবস্থাকে প্রবল ঝাঁকুনি দিয়েছে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। মানুষের জীবন কোন হেলাফেলার নয়। রাস্তায় পাবলিক পরিবহন আটকে ফিটনেস সার্টিফিকেট ও চালকদের লাইসেন্স চেক করেছে। কী অভূতপূর্ব তাদের কর্মসূচী । পুলিশ কর্মকর্তাদের মোটরসাইকেল আটকে লাইসেন্স চেক করেছে শিক্ষার্থীরা। গতকাল সরকারের বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদের গাড়ি বাংলা-মটরে গতিরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। সাথে সাথে মন্ত্রী তোফায়েল গাড়ি থেকে নেমে এসে তাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি তাদেরকে আসস্ত করেছেন তাদের এ দাবি ন্যায্য দাবি। সরকার’ খুব শিঘ্রই মেনে নিবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এদিকে পঞ্চম দিনের আন্দোলনে জনগণ, পুলিশ প্রশাসন সহ সব মহল তাদের প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন জানিয়েছে। এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চলতি সংসদ অধিবেশনে পরিবহন আইন পাস করার নির্দেশ দিয়েছেন। আর বিষয়টি সামনে রেখে এই বিষয়ে যথাযথ ভাবে আইন মন্ত্রণালয় কাজও শুরু করেছে। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের মানুষের হৃদয় পড়তে পারা রাজনীতিবিদের ভাষায় বলেছেন ছাত্রছাত্রীদের এই আন্দোলন যৌক্তিক । প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়া মাত্র সাথে সাথে সচিবালয়ে পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের প্রতিনিধিত্ব করেন এমন দুুই মন্ত্রীকে নিয়ে স্বরাষ্ট্র ও তথ্যমন্ত্রী বৈঠক করে ছাত্রছাত্রীদের সব দাবি মেনে নিয়েছেন।

এই আন্দোলন এখন শুধুমাত্র রাজধানীজুড়ে সীমাবদ্ধ নয়, দেশের সবকটি বিভাগের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরীতে রুপ- ধারন করেছে। বিভিন্ন স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সেই আন্দোলনে অংশ গ্রহণ করে একতা পোষণ করেন। দেশের চট্টগ্রাম, সিলেট-, রাজশাহী , খুলনা, চাদপুর, ময়মনসিংহ সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন এরই মধ্যে। আজকের বিভাগীয় শহরের মধ্যে সিলেটে অত্যান্ত শক্তিশালী অবস্থায় সু- শৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীদের শান্তিপুর্ণ আন্দোলন অনুষ্ঠিত হয়। সেই- আন্দোলনে বিভিন্ন পেশার লোকজন ও শরিক হন।
সাধারন ছাত্ররা শ্লোগান দিচ্ছে, কেউ কেউ রাস্তায় লাশ হয়ে ব্যানার দিয়ে শরীর ঢেকে শুয়ে আছে। গোল হয়ে দাঁড়িয়ে তার বন্ধুরাও শ্লোগান দিচ্ছে ।

সিলেটের শহীদ মিনার হয়ে চৌহাট্টা পর্যন্ত পা ফেলানোর জায়গা ছিলনা। চৌহাট্টা থেকে উত্তরে দুইশ গজ, পশ্চিমে একশ গজ আর পূর্বে একশ গজ, একটি শৃঙ্খলার জন্য ।

একে রাজনৈতিক রং দেবার কোনো সুযোগ নেই ,সরকারি কলেজ, স্কলারহোম, ব্লুবার্ড, মদনমোহন,পার্কভিউ মেডিক্যাল সহ সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রী ছিল । এবার বাড়তি যোগ হলো জেসিপিএসসি বা ক্যান্টনমেন্ট কলেজ।

আন্দোলন চলাকালে বৃষ্টি ছিল মুশলধারে,ছাত্রছাত্রীরা স্বেচ্চায় ভিজেছে বৃষ্টিতে । দৌড়াদৌড়ি করেনি, নিজ উদ্যোগে নিজ দায়িত্বে সবাই দাঁড়িয়ে আবার কেউ কেউ বসে বসে শ্লোগান দিয়েছে। এতো সুন্দর সমাবেশ রাজনীতির জন্য শিক্ষনীয়।
শ্লোগান ছিল বিচিত্র এবং শালীন। ছাত্রদের মনের ঝাল বোঝা গেলো ,সবচেয়ে ভদ্র শ্লোগান ছিলো,উই ওয়ান্ট জাস্টিস ।