এম এ জি ওসমানীর কারণে ৯ মাসে আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি : সায়রা মহসিন

প্রকাশিত: ১২:৫৭ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৬, ২০১৬

এম এ জি ওসমানীর কারণে ৯ মাসে আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি : সায়রা মহসিন

এসবিএনঃ মহান স্বাধীনতা দিবস-২০১৬ উদযাপন উপলক্ষে বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ-সিলেটের উদ্যোগে মহান ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজসেবা ও সাংবাদিকতায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ সরেকওম এ জেড আব্দুল্লাহ, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলী, সাবেক সংসদ সদস্য মহম্মদ আশরাফ আলী ও বিশিষ্ট কবি-সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরুকে (মরণোত্তর) ‘সর্বাধিনায়ক বঙ্গবীর ওসমানী সম্মাননা স্মারক’ শুক্রবার বেলা ২টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি সৈয়দা সায়রা মহসীন আলী এমপি বঙ্গবন্ধুসহ জাতির শ্রেষ্ঠ সব সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতে এম এ জি ওসমানী যদি মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার দায়িত্বে না থাকতেন তবে মুক্তিযুদ্ধ আরো বিলম্বিত হতো। তার রণকৌশলের কারণে ৯ মাসে আমরা বিজয় অর্জন করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আমি গৌরবান্বিত বোধ করি এজন্য যে, আমার প্রয়াত স্বামী সৈয়দ মহসীন আলী বঙ্গবন্ধুর সৈনিক হিসেবে স্বাধীনতা যুদ্ধপূর্ব সকল আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখার পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ ও স্বাধীনতাত্তোর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাস্তবায়নে দেশ গড়ার কাজে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করে গেছেন।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর আবারো মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্বকে ধ্বংস করার জন্যে মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী চক্র জামায়াত-শিবির ও বিএনপি নেত্রীর নেতৃত্বে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র চলছে।

তাই আজকের এই ৪৬তম স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের প্রাক্কালে আমরা শপথ গ্রহণ করি, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবো এবং ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শ বাস্তবায়ন করবো। তবেই শহীদদের আত্মত্যাগ সার্থক হবে।

বঙ্গবীর ওসমানী স্মৃতি সংসদ-সিলেটের সভাপতি সৈয়ীদ আহমদ বহলুলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জুয়েল আহমদের পরিচালনায় সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রয়াত মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীর সহধর্মিনী সৈয়দা সায়রা মহসীন আলী এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দা জেবুন্নেছা হক, সিলেট মহানগর মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ডেপুটি কমান্ডার ও সাবেক সিটি কাউন্সিলর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল খালিক, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ ’৭১-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা মো. মানিক মিয়া, সৈয়দ মহসীন আলীর ছোট ভাই সৈয়দ নওসের আলী খোকন, বিশিষ্ট সমাজসেবক রাজিউল ইসলাম তালুকদার রাজু, মুক্তিযোদ্ধা সাইফুল আলম, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট-সিলেটের সাধারণ সম্পাদক শামসুল আলম সেলিম, হযরত শাহ মোস্তফা (র.)’র দরগাহ শরীফের মোতাওয়াল্লী সৈয়দ খলিল উল্লাহ সালিক জুনেদ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক তাজুল ইসলাম বাঙালি, সুরমা খেলাঘর আসরের সাধারণ সম্পাদক ধ্রুব গৌতম, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ছদরুজ্জামান প্রিন্স, বিশিষ্ট লেখক সৈয়দ তারেক আহমদ, আবিদ ফয়সল, ফটো সাংবাদিক মো. দুলাল হোসেন, মহিলানেত্রী নাজনিন আক্তার কণা, সমাজকর্মী যুব সংগঠক শাহীন আহমদ, সাংবাদিক শামীম আহমদ তালুকদার, সৈয়দ নঈম আহমদ বদর প্রমুখ।

প্রধান ও বিশেষ অতিথিদেরকে ফুলের তোড়া ও উত্তোরিয় পরিয়ে বরণ করেন সংগঠনের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শফিকুর রহমান শফিক, লোকমান আহমদ জহরুল, ডা. বানী চক্রবর্ত্তী, এডভোকেট সালমান খান, শামসুল আলম মিলন, নাজমুল ইসলাম, আব্দুর রহিম, এপেক্সিয়ান জসিম উদ্দিন, তারেক আহমদ, এ এস এম সাদিকুল এহসান, মাস্টার ইহফাজ আহমদ প্রমুখ।

ভাষা সৈনিক এ.জেড আব্দুল্লাহকে প্রদত্ত (মরণোত্তর) সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর নাতি সরেকওম আজফার ইকরাম উল্লাহ তাকসির, প্রয়াত সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মহসীন আলীকে প্রদত্ত (মরণোত্তর) সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর কনিষ্ঠা কন্যা সৈয়দা সাবরিনা শারমীন, বিশিষ্ট সমাজসেবী সাবেক সংসদ সদস্য মহম্মদ আশরাফ আলীকে প্রদত্ত (মরণোত্তর) সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর পুত্র আনিস আশরফ ও বিশিষ্ট কবি-সাংবাদিক মহিউদ্দিন শীরুকে প্রদত্ত (মরণোত্তর) সম্মাননা গ্রহণ করেন তাঁর সহধর্মিনী হাসিনা মহিউদ্দীন চৌধুরী।

অনুভুতি ব্যক্ত ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সরেকওম আজফার ইকরাম উল্লাহ তাকসির, সৈয়দা সাবরিনা শারমীন, আনিস আশরফ ও হাসিনা মহিউদ্দীন চৌধুরী।