ওদের জন্য কেউ আন্দোলন করে না!

প্রকাশিত: ১:২৮ পূর্বাহ্ণ, ডিসেম্বর ২৮, ২০১৭

ওদের জন্য কেউ আন্দোলন করে না!

রিফাত কান্তি সেন

যতদিন যাচ্ছে ততই আমরা অমানুষে রুপান্তর হচ্ছি।প্রযুক্তি এসেছে ঠিকই,মনুস্যত্ববোধটা একটু কমেছে আর কী!চলছে ডিসেম্বর, বিজয়ের মাস।আমাদের দেশটা সোনার বাংলা হলেও আমরা সোনার মানুষ হতে পারিনি।আর পারবোই বা কী করে বলেন তো?এদেশে অনেকেই দাবী আদায়ে রাজপথে নামতে হয়।কেউ চায় বেতন বাড়ুক;কেউ আবার চায় সম্মান বাড়ুক।বিচিত্র চাহিদা,সরকারী কর্মকর্তা,কর্মচারীরা ও দাবী আদায়ে নেমে পরেন মাঠে।আবার অনেকে হুমকি-ধামকি ও দেন।অনেকে মনে করে তাঁদের ছাড়া চলবে না দেশ।গতকাল রাতে রাজধানীর মুগদা হয়ে বাসায় ফিরছিলাম।হঠাৎ দেখি ৭০ ঊর্ধো এক বয়স্কা ‘মা’ রাস্তায় দাড়িয়ে মানুষের কাছে হাত পাতছেন।খুব বিনয়ের সাথে জিঙ্গেস করলাম, ভাল আছেন?
একটু ঘাড়টা উঁচু করে,’বাবারে খুব ভালা নাই,চোহে দেহি না,ঔষধ কিনতে হইবো,মাইনসের কাছে খুঁজতাছি।কিছু খাবার ও কিনতে হইবো!’
বললাম,দাম কত ঔষধের? বলল, এক’শ বিশ টেয়া।পকেট থেকে বেড় করে কিছু টাকা দিলাম।মাথাটা ও বুলিয়ে দিয়ে আবার ছুটলাম গন্তব্যে।হঠাৎ নিজের মনে প্রশ্ন জাগলো ইশ আমাদের তো পাঁচটি মৌলিক অধিকার।আর বেচারীর মনে হয় তিনটি! আচ্ছা ওরা কী আন্দোলনে নামতে পারে না? ওরা কী অনশন করতে পারে না?ওদের কিছু বাড়াতে হবে না,ওদের সম্মান ও দিতে হবে না।শুধু কয়েকটা মৌলিক অধিকারের পরিপূর্ণতা বুঝিয়ে দিন।তিনবেলা খাবার,চিকিৎসা আর বস্ত্র,বাসস্থান হলেই চলবে।চাই না শিক্ষা,চাই না দীক্ষা।এ’জনমে কজন সুশিক্ষিত হতে পেরেছে?

আমি ভাবছি আর হাটছি আর মনে মনে ভাবছি;ইশ যদি এদের জন্য কেউ অনশনের ডাক দিতো! যদি আন্দোলন করতো আমাদের ৪ টি মৌলিক অধিকারের পরিপূর্ণতা বুঝিয়ে দেও।
আমার বিশ্বাস আর যা ই হোক ঐ বয়স্কা মাকে রাস্তায় দাড়িয়ে ভিক্ষে করতে হতো না!
বিদেশে মানুষ বুড়ো হলে সেখানে ভাতার ব্যবস্থা রয়েছে,আমাদের ও রয়েছে ভাতা সিস্টেম।এখন শুধু প্রয়োজন কিছু ভাল মানুষের।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে অনুরোধ থাকলো, কিছু ভাল মানুষকে বাঁছাই করে তাঁদের দিয়ে এসব ছিন্নমূলের বয়স্ক ‘মানুষের মাঝে আপনি আরো বেশী সেবার হাত বাড়িয়ে দিন।আপনার প্রতি সাধারনের বিশ্বাস অফুরন্ত।আপনিই পারেন আমাদের দেশটাকে সত্যিকারের সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে তুলতে।