কফিনবন্দি সুবীর নন্দী ঢাকায় ফিরেছেন

প্রকাশিত: ১০:২১ পূর্বাহ্ণ, মে ৮, ২০১৯

কফিনবন্দি  সুবীর নন্দী  ঢাকায় ফিরেছেন

কফিনবন্দি কণ্ঠশিল্পী সুবীর নন্দী সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় ফিরেছেন ।

ভক্ত, শ্রোতা আর সহকর্মীরা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শেষবারের মত এই শিল্পীর প্রতি জানাবেন তাদের শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা । শেষকৃত্য হবে সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালী মন্দিরে।

সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে মারা যান সুবীর নন্দী। তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।

সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৬টায় সুবীর নন্দীর মরদেহ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় পৌঁছায়। তার কফিন প্রথমে নেওয়া হয় তার গ্রিন রোডের বাসায়।

সেখান থেকে সকাল ৯টায় এ শিল্পীর মরদেহ নেওয়া হয় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে। সেখানে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বস্তরের মানুষ সুবীর নন্দীকে শেষ বিদায় জানাবে।

পরে তার কফিন রামকৃষ্ণ মিশন হয়ে বেলা ১টায় নেওয়া হবে সবুজবাগের বরদেশ্বরী কালী মন্দিরের শ্মশানে। সেখানেই হবে তার শেষকৃত্য।

সুবীর নন্দী দীর্ঘদিন ধরে কিডনি জটিলতায় ভুগছিলেন। নিয়মিতভাবে তার ডায়ালাইসিস করতে হত।

এর মধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হলে গত ১৪ এপ্রিল তাকে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) ভর্তি করা হয়। ১৮ দিন পর তাকে নেওয়া হয় সিঙ্গাপুরে। সেখানেই মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।

এই শিল্পীর মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে আসে শোকের ছায়া। রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করে বিবৃতি দেন।

দীর্ঘ ক্যারিয়ারে আড়াই হাজারের বেশি গানে কণ্ঠ দেওয়া সুবীর নন্দী চারবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ও চারবার বাচসাস পুরস্কার পেয়েছেন। সংগীতে অবদানের জন্য এ বছরই তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে সরকার।

তার কণ্ঠে ‘দিন যায় কথা থাকে’, আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয়’, ‘পৃথিবীতে প্রেম বলে কিছু নেই’, ‘আশা ছিল মনে মনে’, ‘হাজার মনের কাছে প্রশ্ন রেখে’, ‘বন্ধু তোর বরাত নিয়া’, ‘তুমি এমনই জাল পেতেছ’, ‘বন্ধু হতে চেয়ে তোমার’, ‘কতো যে তোমাকে বেসেছি ভালো’, ‘পাহাড়ের কান্না দেখে’, ‘আমি বৃষ্টির কাছ থেকে কাঁদতে শিখেছি’, ‘কেন ভালোবাসা হারিয়ে যায়’, একটা ছিল সোনার কইন্যা’, ‘ও আমার উড়াল পঙ্খীরে’ শ্রোতাদের হৃদয়ে অমর হয়ে আছে।