করণীয় নির্ধারণে শ্রমিক সংগঠনসমূহের সাথে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর মতবিনিময়

প্রকাশিত: ৩:৩০ অপরাহ্ণ, জুলাই ১৩, ২০২১

করণীয় নির্ধারণে শ্রমিক সংগঠনসমূহের সাথে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) এর মতবিনিময়

রুপগঞ্জে হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজ কারখানায় ভয়াবাহ অগ্নিকান্ডে ৫২ জনের অধিক শ্রমিক নিহত শতাধিক শ্রমিক আহত এবং অনেক শ্রমিক নিখোঁজ হওয়ার প্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণে শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ-স্কপ দেশের ক্রিয়াশীল শ্রমিক সংগঠনসমূহের সাথে মতবিনিময় করে। ১২ জুলাই ২০২১ রাত ৮ টায় স্কপের যুগ্ম সমন্বয়ক শহীদুল্লাহ চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং আহসান হাবিব বুলবুল এর সঞ্চালনায় অনলাইনে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় স্কপের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন স্কপের অপর যুগ্ম সমন্বয়ক নূর কুতুব মান্নান, মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ, রাজেকুজ্জামান রতন, সাইফুজ্জামান বাদশা, কামরুল আহসান, ডা: ওয়াজেদুল ইসলাম খান, চৌধুরী আশিকুল আলম, নঈমুল আহসান জুয়েল, সাকীল আক্তার চৌধুরী, শামীম আরা, ও রফিকুল ইসলাম, ইন্ডাষ্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিল (ওইঈ) থেকে বক্তব্য রাখেন মহাসচিব কামরুল হাসান, রুহুল আমিন, কুতুব উদ্দিন আহমেদ, জেড.এম.কামরুল আনাম, সালাউদ্দিন স্বপন, তৌহিদুর রহমান, বাবুল আক্তার, নুরুল ইসলাম, চন্দন কুমার,কল্পনা আক্তার, চায়না রহমান, সহীদুল্লাহ বাদল, তাহমিনা রহমান, ইন্টারন্যাশনাল ট্রান্সপোর্ট ফেডারেশন বাংলাদেশ কমিটির সভাপতি মহসিন ভুঁইয়া, সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী, গার্মেন্টস শ্রমিক ও শিল্প রক্ষা জাতীয় মঞ্চের আহবায়ক আবুল হোসেন, বাংলাদেশ জাতীয় শ্রমিক জোটের সভাপতি আব্দুল কাদের হাওলাদার, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটির সভাপতি আবু হাসান টিপু, গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক মাহাতাব উদ্দিন শহিদ, সম্মিলিত গার্মেন্টস শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুর হাসান নয়ন, গ্রামীণ ফোন এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. শফিকুর রহমান মাসুদ প্রমুখ।
নেতৃবৃন্দ, ঘটনাস্থল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন কারখানা পরিচালনার ক্ষেত্রে শ্রম আইন, অগ্নি নির্বাপন আইন বা ভবন নির্মাণ আইন কোন কিছুই মানা হয়নি। শ্রম আইন লঙ্ঘন করে শিশু শ্রমিক নিয়োগ করা হয়েছে, কারখানায় অগ্নিনির্বাপনের কোন আয়োজন ছিলনা, জরুরী অবস্থায় বহির্গমনের জন্য ভবনের বাইরের দিকে কোন সিঁড়ি ছিলনা, ফ্লোড়ের আয়তন অনুসারে সিড়িঁ প্রশস্ত করার নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। নেতৃবৃন্দ, একমত পোষণ করেন যে হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজে অগ্নিকান্ডে শ্রমিক নিহত হওয়ার ঘটনাটি একটি কাঠামোগত হত্যাকান্ড এবং কারখানার ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিবিধান বাস্তবায়ন সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তারাও এই হত্যাকান্ডের জন্য সমভাবে দায়ি। তাই তদন্তপূর্বক দায়িত্ব অবহেলার জন্য দায়ী এই কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে। নেতৃবৃন্দ, নিহত প্রত্যেক শ্রমিকের পরিবার কে আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ অনুসারে আজীবন আয়ের ভিত্তিতে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আহত শ্রমিকদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের আহবান জানান। আর কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শ্রম আইনের শাস্তি ও ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত ধারাসমূহ আই.এল.ও কনভেনশন ১২১ এর আলোকে এবং রানাপ্লাজা ঘটনায় গঠিত ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত কমিটির সুপারিশ বর্তমান বাজার দরের সাথে সমন্বয় করে সংশোধন করার দাবি জানান। নেতৃবৃন্দ, অবিলম্বে হাসেম ফুড এন্ড বেভারেজে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারীদের চলতি ও বকেয়া বেতন এবং ঈদ বোনাস পরিশোধ করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সরকারের প্রতি আহবান জানান।
শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) ১৫ জুলাই ২০২১, সকাল ১১টায় শ্রম ভবনের নিচে অবস্থান ও শ্রমমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি পেশ, ১৮ জুলাই ২০২১, সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ কর্মসূচী পালন করার সিদ্ধান্ত জানান এবং সকল নেতৃবৃন্দ কে উক্ত কর্মসূচীতে সংহতি জানানোর আহবান জানান।

ছড়িয়ে দিন