করোনাদুর্গতদের জন্য ভিয়েতনামে চালের এটিএম চালু

প্রকাশিত: ৯:৪৭ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ১৩, ২০২০

করোনাদুর্গতদের জন্য ভিয়েতনামে চালের এটিএম চালু

করোনাভাইরাসের কারণে দেশব্যাপী লকডাউন চলায় কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে বিনামূল্যে চাল বিতরণের জন্য একটি এটিএম মেশিন চালু করেছে ভিয়েতনাম। দেশটির হো চি মিন সিটির একজন উদ্যোক্তার আবিষ্কার করা মেশিনটি দিয়ে সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা চাল বিতরণ করা যাবে। খবর রয়টার্সের।

দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, হানয়, হিউ এবং দানাংয়ের মতো অন্যান্য বড় শহরেও একই ধরনের ‘রাইস এটিএম মেশিন’ বসানো হয়েছে। ভিয়েতনামে ২৬২ জন কভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়েছে। তবে দেশটিতে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে দেশটিতে ৩১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ১৫ দিনের সামাজিক দূরত্ব কর্মসূচির ফলে অনেক ছোট ছোট ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে এবং কয়েক হাজার মানুষ সাময়িকভাবে কাজ হারিয়েছেন।

যারা চাকরি হারিয়েছেন তাদের মধ্যে গুইন থি লির স্বামীও আছেন। তিন সন্তানের জননী ৩৪ বছর বয়সী এই নারী জানান, এই ‘রাইস এটিএম মেশিন’ আমাদের জন্য খুব সহায়ক। এই এক ব্যাগ চাল আমাদের একদিনের জন্য পর্যাপ্ত। এখন আমাদের কেবল অন্য খাবারের দরকার। প্রতিবেশীরা মাঝে মাঝে তাদের বেঁচে যাওয়া কিছু খাবার দেয়। এছাড়া ঘরে তাৎক্ষণিকভাবে বানিয়ে খাওয়ার নুডলস রয়েছে।

মেশিন থেকে একজনকে প্রতিদিন দেড় কেজি চাল বিতরণ করা হয়, যাদের মধ্যে অনেকেই রাস্তার ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা, গৃহকর্মী বা লটারির টিকিট বিক্রির করে জীবিক নির্বাহ করত। অর্থাৎ প্রতিদিনের জীবিকা প্রতিদিন অর্জন করেতেন কর্মহীন হয়ে পড়া এমন মানুষের জন্যই এই এটিএম মেশিন।এই উদ্যোগের পেছনে রয়েছেন হোয়াং তুয়ান আন নামের একজন ব্যবসায়ী। যিনি খাদ্য বিতরণের এই প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের আগে হো চি মিন শহরের হাসপাতালগুলোতে এক ধরণের ডিজিটাল ডোরবেল বিতরণ করেছিলেন। 

রাইস এটিএম মেশিন পর্যবেক্ষণ করা দেশটির কর্মকর্তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাননি। তবে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমকে আন জানান, তিনি চেয়েছেন বর্তমান অর্থনৈতিক সমস্যা থাকা সত্ত্বেও মানুষের কাছে খাদ্য এবং অন্য সংস্থানগুলো রয়েছে- এটা তারা অনুভব করুক।

ছড়িয়ে দিন