ঢাকা ১৪ই জুলাই ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩০শে আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই মহর্‌রম ১৪৪৬ হিজরি


করোনার মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

redtimes.com,bd
প্রকাশিত জুলাই ২৩, ২০২১, ১১:৩৩ অপরাহ্ণ
করোনার মধ্যে দ্রুত ছড়াচ্ছে ডেঙ্গু

করোনা মহামারির মধ্যে বাড়ছে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা। জুন মাসের পাঁচ গুণ রোগী জুলাই মাসের প্রথম তিন সপ্তাহে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। জুনে ২৭৮ জন রোগী ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল। জুলাই মাসে এই সংখ্যা ১ হাজার ৯৮-তে উঠে গেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ না নিলে আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা বাড়তে পারে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে ৮৫ জন, যাদের সবাই ঢাকা বিভাগের অন্তর্গত। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি রোগী ৩৯০ জন। ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে রোগী ৩৮৭ জন। অন্যান্য বিভাগে রোগী ৩ জন।

বুধবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৩ জন। তার আগের দিন মঙ্গলবার ছিল ৬৫ জন। ঈদের পরদিন পরিসংখ্যান দেয়া হয়নি। এক দিনের ব্যবধানে রোগীর সংখ্যা ৮৫ জন।

এ বছরের জানুয়ারি মাসের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত মোট আক্রান্ত রোগী ১ হাজার ৪৭০ জন। আর ছাড়প্রাপ্ত রোগী ১ হাজার ৭৭ জন। রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে তিনটি মৃত্যুর তথ্য দেয়া হয়েছে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, ‘জুন মাসে আমরা গবেষণা করে দেখেছি, ঢাকায় এডিস মশার ঘনত্ব অনেক বেশি। তখন আমরা জানিয়েছিলাম, এ বছর ডেঙ্গু রোগী অনেক বেশি হবে।’

জুন মাসের গবেষণার কথা উল্লেখ করে এই কীটত্ত্ববিদ বলেন, ‘আমরা ঢাকার বিভিন্ন ওয়ার্ডে জরিপ করেছি। সেখানে এডিস মশার লার্ভার ঘনত্ব ২০-এর ওপরে। এই পরীক্ষাকে ব্রুটো ইনডেক্স বলা হয়। জরিপে প্রতি একশ প্রজনন উৎসের মধ্যে ২০টি বা তার বেশিতে যদি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া যায়, তাহলে সেটাকে ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বলা যায়। সেখান থেকে এডিস মশাজনিত রোগ হতে পারে। ১০ থেকে ২০-এর মধ্যে থাকলে সেখানে মশার মোটামুটি উপস্থিতি আছে বলে ধরে নেয়া যায়।’

কেমন ঘনত্ব ছিল, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘একেকটি ওয়ার্ডে একেক রকম। যেমন গুলশানে ৭০ ছিল, উত্তরাতে ৬৫, ধানমন্ডিতে ৭০।’

আগস্ট ও সেপ্টেম্বর মাসে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে জানিয়ে এই অধ্যাপক বলেন, ‘মানুষ এখন ঈদের জন্য দেশের বাড়িতে গেছেন, যা ৬৪টি জেলায় ছড়িয়ে পড়ছে। ঢাকা শহরে যে সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা রয়েছে, লকডাউনের কারণে সেগুলো এখন বন্ধ। এগুলো এখন এডিস মশার প্রজননের বড় ক্ষেত্র।’

২০১৯ সালে ডেঙ্গু রোগে ব্যাপক প্রাণহানি ও লক্ষাধিক মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পর গত বছর সতর্ক অবস্থানে ছিল ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন।

২০২০ সালে সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিল ১ হাজার ৪০৫ জন, যাদের মধ্যে ৬ জন মারা যায়। এর আগের বছর ২০১৯ সালে ডেঙ্গুর ভয়াবহ বিস্তার ঘটে। সেবার আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১ লাখের বেশি, যাদের মধ্যে মারা যায় ১৭৯ জন। গত বছরে সংক্রমণের মাত্রা অনেকটা কমলেও এ বছর আবারও খারাপ হচ্ছে পরিস্থিতি।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ শাখা থেকে বলা হয়েছে, ডেঙ্গু রোগের জীবাণুবাহী এডিস মশা নিধনে এপ্রিলের ১ তারিখ থেকেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশিত সব জায়গায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ ছাড়া নিয়মিত লার্ভিসাইডিং (মশার লার্ভা ধ্বংস) ও এডাল্টিসাইডিং (পূর্ণবয়স্ক মশা ধ্বংস) নিয়ম অনুযায়ী করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জোবায়দুর রহমান জানান, গত বছর যেসব বাড়িতে লার্ভা পাওয়া গেছে, গত এপ্রিল থেকে তাদের মোবাইল ফোনে বার্তা দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি, আধা সরকারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়া উত্তর সিটি করপোরেশন থেকে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, মন্ত্রণালয় যেন মানুষকে সচেতন করতে মসজিদের ইমামদের যুক্ত করে।

-নিউজবাংলা

সংবাদটি শেয়ার করুন

July 2024
S M T W T F S
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031