করোনা দুর্যোগে মানসিক সমস্যা না লুকিয়ে প্রিয়জনদের জানান

প্রকাশিত: ৮:০২ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২৯, ২০২০

করোনা দুর্যোগে মানসিক সমস্যা না লুকিয়ে প্রিয়জনদের জানান

সাবিনা শারমিন

নিউইয়র্কের ম্যানহাটানের প্রেসবাইটেরিয়ান অ্যালেন হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ডিরেক্টর ডা.লরা নিজেকে নিজে আঘাত করে আত্মহত্যা করেছেন।এর কারণটি স্পষ্ট করে কেউ ঘোষণা না দিলেও ঘটনার বিবরণে ধরে নেয়া যায় যে এর অন্যতম কারণ করোনা ভাইরাসে চোখের সামনে অগণিত মানুষের মৃত্যুকে অসহায়ভাবে মেনে নেয়ার ব্যর্থতা।

এরকম ব্যর্থতার কষ্টের কথাই ডাক্তার লরা তার বাবাকে আফসোস করে জানাচ্ছিলেন যে করোনাক্রান্ত রোগীরা হাস্পাতালে পৌঁছানোর আগেই এম্বুলেন্স থেকে নামানোর সময়ে করুণভাবে মারা যাচ্ছে,তা তিনি খুব কাছ থেকে দেখেছেন। লরা জানান, ২০০ বেডের ওই হাসপাতালে চোখের সামনে ডজন ডজন মানুষকে মারা যেতে দেখেছেন। তার বাবা জানিয়েছেন,এসব কথা বলার সময় তার মেয়েকে খুব নিস্পৃহ মনে হয়েছিল।

তার বাবা আরো জানায় রোগীদের অবিরাম সেবা দিতে দিতে একসময় লরা নিজেও করোনায় আক্রান্ত হয়ে যায়। তবে সুস্থ হওয়ার দেড় সপ্তাহ পরে যখন তিনি আবার কাজে ফিরে যেতে চান তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে আবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয়।হয়তো স্বেচ্ছায় নিবেদিত প্রাণ লরা সেবা দিতে না পারার অপারগতায় তিনি ভীষণ অভিমানী হয়ে উঠেছিলেন। অথচ ডাক্তারী পেশার সাথে সাথে তিনি একজন স্কি খেলোয়াড় ছিলেন,সালসা নাচের ডান্সার ছিলেন এবং সর্বোপরি একজন মানবিক ডাক্তার ছিলেন।সপ্তাহে একদিন তিনি বয়স্ক মানুষকে স্বেচ্ছায় সেবা দিতেন।
ভাবছি এতোকিছু করার পরেও একজন নিবেদিত প্রাণ ডাক্তার তাঁর নিজের জীবন নিজেই শেষ করে দিতে কুন্ঠাবোধ করলেন না।

করোনার কারণে দায়িত্বে অপরগতার ব্যর্থতায় এরকম আত্মহনন জার্মানির অর্থমন্ত্রী টোমাস শেফারের কথাও বিশ্ববাসী দেখেছে । সুইসাইড নোট রেখে গিয়ে রেললাইনে ঝাপ দিয়ে তিনি নিজের হাতে নিজে জীবন নিয়েছেন। বলছিনা ব্যর্থ মানুষেরা সবাই সুইসাইড করুক। বলতে চাচ্ছি এই যে প্রতিটি ব্যক্তি যে যে পদে ,বা পেশায় নিয়োজিত আছেন,তারা তাদের উপর আরোপিত কাজটুকু দায়িত্বের সাথে পালন করলে অন্যের উপর বোঝা কমে যায়। অন্যকে অপারগতার মানসিক সমস্যায় বিপর্যস্ত হতে হয়না।

তাই বলছিলাম করোনাক্রান্ত এই বৈশ্বিক ক্রান্তিকালে মানসিক স্বাস্থ্যের বিষয়টিও খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা সবাই জানি এই ক্রান্তিকাল একদিন থেমে যাবে,কিন্তু এ সময় পাশে পাওয়া মানুষটির কথা হয়তো কোনদিন ভোলা যাবেনা। এসময় একটি ভালো শব্দও দূরে থেকে কাছে থাকার নাম। এ দুর্যোগে
যাদের মানসিক সমস্যা হচ্ছে,তারা তাদের মনের ব্যাথাটি প্রিয়জনকে জানান। এটি এখন খুব জরুরী।

ছড়িয়ে দিন