করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় মাগুরা গণকমিটি

প্রকাশিত: ৬:২৮ অপরাহ্ণ, মে ৯, ২০২০

করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় মাগুরা গণকমিটি

মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণ কমিটি ১০ দফা দাবিতে আজ সকাল ১১টায় মাগুরা শহরের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত কফি হাউসে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে।

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব ও লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন গণকমিটির আহ্বায়ক কাজী ফিরোজ (বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টি মার্কসবাদী মাগুরা জেলা আহ্বায়ক) ও পরিচালনা করেন যুগ্ম সদস্য সচিব শম্পা বসু (বাসদ কেন্দ্রীয় পাঠচক্র ফোরামের সদস্য)। সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন যুগ্ম আহ্বায়ক এটিএম মহব্বত আলী ( বাংলাদেশ জাসদ মাগুরা জেলা শাখার সভাপতি), সদস্য সচিব এটিএম আনিসুর রহমান (সিপিবি সদর উপজেলা সভাপতি ) ও বিশিষ্ট সমাজ সেবক কামরুজ্জামান চপল। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জাসদ মাগুরা জেলা শাখার সদস্য এ এফ এম বাহারুল হায়দার বাচ্চু, ইয়াকুব ইমরান (স্কলাসটিকা স্কুলের শিক্ষক) , সত্যজিৎ চক্রবর্তী (সঙ্গীত সম্পাদক, সূর সপ্তক), মোঃ সোহেল (সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট এর শহর কমিটির আহ্বায়ক)।

সংবাদ সম্মেলনে সরকারি ত্রাণের অপ্রতুলতা ও বিতরণে অসংগতি তুলে ধরা হয় ।

‘সর্বশেষ আদম শুমারী অনুযায়ী মাগুরা জেলায় ৯ লাখ মানুষ বসবাস করে । দেশের যে ৭টি জেলার জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি দরিদ্র তার মধ্যে অন্যতম মাগুরা জেলা । অর্থাৎ এই জেলার সাড়ে ৪ লাখ মানুষ খুব গরীব । করোনা দুর্যোগে ২৮ মার্চ ও ৩০ মার্চ সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ করা হয়েছে । মাগুরা জেলার জন্য চাল বরাদ্দ করা হয়েছে যথাক্রমে ৩১০ মেট্রিক টন ও ৭৫ মেট্রিক টন এবং নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে যথাক্রমে ১০ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০ টাকা এবং ২ লাখ টাকা। তার মানে মাগুরা জেলায় সরকারি ভাবে মোট চাল বরাদ্দ হয়েছে ৩৮৫ মেট্রিক টন এবং মোট নগদ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে ১২ লাখ ৫৪ হাজার ৫০০টাকা । অর্থাৎ মাগুরা জেলার একজন দরিদ্র মানুষের জন্য নগদ ২ টাকা ৭৮ পয়সা ও ৮৬৯ গ্রাম চাল বরাদ্দ করা হয়েছে !?’– এই অবস্থা থেকে বোঝা যায় সরকারি ত্রাণ বরাদ্দ ভীষণ রকম ভাবে কম ।

এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে যেয়ে গণকমিটির সদস্যরা তালিকা প্রণয়ন করেছেন।
নিম্নে তুলে ধরা হলো:

৯ নং ওয়ার্ড : জজ কোর্ট পাড়া
৬২ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ৩৫ টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।

৮ নং ওয়ার্ড : সর্দার পাড়া
২৯ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ২২ টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।

৩ নং ওয়ার্ড : বেলে মাঠ পাড়া
৩১ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে ২৬টি পরিবার বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।

৪ নং ওয়ার্ড : পিটিআই পাড়া (আংশিক)
৭ টি হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে কোন পরিবারই বিশেষ ওএমএস কার্ড পাননি।

অর্থাৎ হতদরিদ্রের প্রায় এক তৃতীয়াংশ বিশেষ ওএমএস কার্ড পান নি। তবে কার্ড পাওয়ার বিষয়ে তাদের আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে । নেতৃবৃন্দ প্রশ্ন তুলে ধরেন, ‘দেড় মাসেও তারা কার্ড পেলেন না, কবে পাবেন?’

কার্ড বিতরণের ক্ষেত্রে নিয়ম অনুযায়ী হতদরিদ্র, তারপর দরিদ্র, তারপর নিম্নবিত্ত এভাবে দেওয়ার কথা । কিন্তু যেহেতু কার্ড বিতরণ করছেন মেম্বার বা কাউন্সিলর গণ , ফলে দলীয়করণের অভিযোগ থেকে যাচ্ছে ।

বেশির ভাগ পরিবার একবার সরকারি ত্রাণ ( ৫ কেজি চাল, ১কেজি ডাল, ১ কেজি আলু, হাফ লিটার তেল, লবন) পেয়েছে । ৩/৪ দিনের বেশি একটি পরিবারের চলবে না । জজ কোর্ট পাড়ায় পরিবারগুলো এই ত্রাণের বাইরে আরেকবার সরকারি ত্রাণ পেয়েছে (৭কেজি চাল, ৩কেজি আলু)।

পুরো মাগুরা জেলার চিত্রই এরকম । কিন্তু মাগুরা জেলার সরকারি প্রতিনিধিরা বলছেন , ‘ত্রাণের এবং মানুষের খাদ্যের কোন অভাব নেই । মাগুরায় কোন কিছুর কোন সমস্যা নেই ।’ নীতি নির্ধারকদের এমন মনোভাবের কারণে মাগুরার দরিদ্র মানুষেরা আরও বেশি সংকটে পড়েছেন।

এমন পরিস্থিতিতে মাগুরা জেলা করোনা দুর্যোগ মোকাবিলায় গণকমিটির নেতৃবৃন্দ সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে দাবি ও কর্মসূচি ঘোষণা করেন ।

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031