করোনা ভাইরাস নিয়ে কচকচানি

প্রকাশিত: ১:০২ পূর্বাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২০

করোনা ভাইরাস নিয়ে কচকচানি

রোকসানা লেইস

কানাডায় দুইজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত পাওয়া গেছে। উহান চায়না থেকে এসে নিজেদের বাড়িতে সতর্ক অবস্থায় ছিল। কিন্তু অবস্থা খারাপ হওয়ার পর প্রথমজন জরুরী বিভাগে জানালে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থায় তাকে হাসপাতালে এনে সুরক্ষিত ভাবে আলাদা করে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে্। একজন করোনা ভাইরাস আক্রান্ত দেশে আছে এ ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হওয়ার সাথে সাথে এক ঘন্টার মধ্যে স্বাস্থ বিভাগের বিশেষ দল দেশ বাসীকে জানিয়েছে রোগ এখানেও এসে গেছে এ বিষয়ে। এবং প্রত্যেক নাগরিককে ভয় না পেয়ে নিয়মিত কাজের মাঝে নিজের অবস্থান থেকে সতর্ক থাকার জন্য কি রকম ব্যবস্থা নিতে হবে সে ব্যাপারে জানান দিচ্ছেন। সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তর দিয়ে জানিয়ে দিচ্ছেন প্রতিদিনের খবর।
এয়ারপোর্ট থেকে কি ভাবে করোনা ভাইরাস আক্রান্ত চেকিংয়ের মধ্যেও বেড়িয়ে গেলো এই কঠিন প্রশ্নের উত্তর যথাযথ ভাবে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন যে তাদের মধ্যে কোন সিনড্রম তখনো প্রকাশ পায়নি। ভাইরাস ছড়াতে যতটুকু সময় লাগে তিনি তখনও সে অবস্থায় ছিলেন না।
যখন ইউরোপ আমেরিকাসহ তেরটি দেশে চৗদ্দোশ মানুষ করোনা ভাইরাস রোগী ছড়িয়ে পরেছে। চীনে আশি জন মারা গিয়েছে। যখন চীনের উহান এলাকার একুশ মিলিয়ন মানুষের শহরকে পুরো বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে। চীনারা এক সপ্তাহের মধ্যে একহাজার বেডের হাসপাতাল বানানোর পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তখন থেকে কানাডায় ক্রমাগত সতর্ক ব্যবস্থা সরকারী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ এয়ারপোর্ট চেকিং থেকে। কোন রকম রোগের চিহ্ন অনুভব করলে নিজেকে জনগনের মধ্যে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ঐ রোগীর সাথে এক প্লেনে সেদিন যারা চীন থেকে এসেছে তাদের সবাইকে। নিজেদের স্বাস্থের প্রতি নজর দিয়ে সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলা হচ্ছে এবং যোগাযোগ করতে বলা হচ্ছে স্বাস্থ বিভাগে।
কানাডা করোনা ভাইরাসের মতন র্সাস, মার্সের সাথে মোকাবেলা করেছে আগে। এবং সেগুলো কে নির্বংশ করে দিয়েছে। আগের অভিজ্ঞতার সাথে নতুন ভাবে প্রযুক্তির উন্নয়ন লোকবল, সব কিছুর ব্যবস্থা নেওয়া আছে।
বাংলাদেশের সাথে চীনের অনেক যোগাযোগ এখন। উহান ছাড়াও চায়নার অনেক এলাকায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়েছে। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্স, আমেরিকা, কানাডা, জার্মানি, জাপান, কম্বোডিয়া, থাইল্যান্ড, সাউথ কোরিয়া, শ্রীলঙ্কা, মালোশিয়া, নেপাল আন্তদেশীয় যোগাযোগ সব দেশের সাথে। বাংলাদেশে প্রতিদিন লোক আসছে, যাচ্ছে। স্বাস্থ সর্ততার বিষয়ে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের কোন নিয়ম নীতি ঘোষনা সতর্কতা দেখলাম না।
একজন রোগী পাওয়া গেলে তাকে আইসলেটেড করে রাখার মতন ইউনিট এবং তাদের কাছে যেয়ে চিকিৎসা দেওয়ার মতন প্রটেক্টেড পোষাক মাস্ক ডাক্তার রোগীদের জন্য পর্যাপ্ত আছে কিনা এসব বিষয়ে বাংলাদেশের স্বাস্থ বিভাগ কোন কথাই বলছেন না। অন্তত আমি দেখলাম না।
অনেকগুলো টিভি চ্যানেলে জনসাধারনকে সতর্ক হওয়ার জন্যও কি বিশেষ কোন কিছু প্রচার করছে এমন জরুরী অবস্থায় কে জানে।
ফেসবুকে সতর্কতার জন্য অনেকে অনেক রকম ভুলভাল তথ্য শেয়ার দিচ্ছেন দেখলাম।
আসলে বাংলাদেশের মানুষরাও সচেতন নয় তেমন এবং জাতিগত ভাবে তাদের সতর্ক শিক্ষিত করার মতন কোন পদক্ষেপ নেয় হয় না। ষোল কোটি দেশের মানুষের অনেকে হয় তো এমন রোগের খবরটিও জানেন না।
কেউ যদি আক্রান্ত হয়েছেন মনে করেন তার মাস্ক পরাটা জরুরী। এবং ঘরে থাকা ভালো। বাইরে থেকে এসে হাত পরিচ্ছন্ন করা। মুখে হাত না দেওয়া ভালো। কেউ হাঁচি কাশি দিলে তার থেকে দূরে থাকাটা জরুরী।
জ্বর, কাশি, প্রবল শ্বাসকষ্ট নিউমোনিয়ার সাথে মিল আছে করোনা ভাইরাসের।
এই ভাইরাস বাতাসে ভেসে বেড়ায় না। তবে রোগ বহনকারী যে জায়গায় হাঁচি কাশি দিয়েছেন সে সব জায়গায় স্পর্শ করে নিজের মুখে হাত দিলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে।
পরিচ্ছন্নতা অনেকটা রক্ষা করতে পারে রোগ আক্রান্ত হওয়া থেকে।

ছড়িয়ে দিন