কর্ণফুলী নদীর টানেল এক অভাবনীয় উন্নতির স্বাক্ষর

প্রকাশিত: ১০:৫৬ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ৭, ২০২১

কর্ণফুলী নদীর টানেল এক অভাবনীয় উন্নতির স্বাক্ষর

সারদার আমিন 

উপরে নদী প্রবাহিত, তার তলা দিয়ে গাড়ীতে বা রেল করে যাচ্ছি – এটা সমাজ রাষ্ট্রের জন্য অভাবনীয় উন্নতির স্বাক্ষর।
বাংলাদেশ হাজারো সমস্যার মধ্যে সে যুগে প্রবেশ করছে। শুক্রবার কর্ণফুলী নদীর টানেল খনন শেষ হবে। আগামী বছর উদ্বোধন হবে।
ব্রিটিশরা ভারত শোষণের টাকা দিয়ে লন্ডনের টেমস নদীর তলা দিয়ে একটি আর্চ টাইপ টানেল নির্মাণ করে। সেটা মুলত নির্মিত হয়েছিল ঘোড়ার গাড়ী চলার জন্য এবং পায়ে হেঁটে নদী পার হতে ১৮৪৩ সালে। ১৮৬৯ সালে তাতে রেল যুক্ত করে। আমরা ছোট বেলায় বিস্ময়াভিভূত হই “টেমস নদীর তলবর্তী রেল পথ” পড়ে। মানুষের সক্ষমতার নজির বটে।
আমেরিকা নিউ ইয়র্কের হাডসন নদীর তলা দিয়ে টানেল করে ১৯২৭ সালে ম্যান হাটান ও নিউ জার্সিকে যুক্ত করে। সেটা ট্যুইন টানেল।
ভারত কোলকাতার হুগলী নদীর তলা দিয়ে রেল টানেল করে, যা শেষ হয় ২০২১ সালে। তার দৈর্ঘ্য ১০.৮ কিলোমিটার, নদীর তলায় ০.৫২৮ কিলোমিটার। এটা মাটির শত ফুট গভীরে।
বাংলাদেশের নদীর অংশে ২.৫০ কিলোমিটারসহ ৩.৩২ কিলোমিটার মুল টানেল। দুই পাশের স্লোপ অংশসহ মোট ৯.৩৯ কিলোমিটার। এটা আমেরিকার মত দুই টিউবে তৈরী।
ভারত অবশ্য বোম্বেতে একই সময়ে সাগরের নীচ দিয়ে রেল করেছে ১০.৫৮ কিলোমিটার। পৃথিবীর সবচাইতে বড় সাগরতলার টানেল করে জাপান ১৯৮৮ সালে যা শেষ হয়। এটা সাগরের ৭৯০ ফুট গভীরে। নদী টানেল সবখানেই সাধারণত ১০০ ফুট গভীরের মধ্যে।
সুতরাং বাংলাদেশ নতুন যুগে প্রবেশ করলো। পাকিস্তান তা এখনো করতে পারেনি। এটাই স্বাধীনতার সুযোগ।
২০০৬ সালে কর্ণফুলী নদীর উপর ক্যাবল স্টেইড ব্রিজ নির্মাণ করতে যায় বিএনপি সরকার। চিটাগাং এর মহিউদ্দিন চৌধুরী ব্যাপক বিরোধিতা ও আন্দোলন করেন নদীতে পিলার দিয়ে ব্রিজ করার প্রতিবাদে। ঢাকায় সভা করেন। আমরা সেগুলোতে অংশ নেই। বিএনপি জামাত সরকার এর বিশেষজ্ঞরা (!) নানা ভুল তথ্য দেয় জনগণকে। নাগরিক সংহতির ব্যানারে আমরা নদীতে পিলার দেয়ার বিরুদ্ধে অনেক কর্মসুচী করি। আমি ইত্তেফাকে একটি পুর্ণ পৃষ্ঠা কলাম লিখলে জনগণ প্রকৃত তথ্য জানতে পারে। সরকার তবুও ব্রিজটা শুরু করে। তাদের আসলে শুরুর সুবিধা কন্ট্রাক্ট মত নেয়ার তোরজোড় ছিল। তখন তা টানেল করলে কর্ণফুলী নদীতে  এতটা পলি পড়তো না।
সেই টানেল শেষ পর্যন্ত হলো।
জয় বঙ্গবন্ধু, একটি দেশ স্বাধীন করে দপয়ার জন্য। ধন্যবাদ বর্তমান সরকারকেও।

ছড়িয়ে দিন