ঢাকা ১৪ই জুন ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ, ৩১শে জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলহজ ১৪৪৫ হিজরি

কর্তৃপক্ষের ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ র‌্যাপিড পাস

redtimes.com,bd
প্রকাশিত মার্চ ৩০, ২০১৮, ০৯:৪৭ পূর্বাহ্ণ
কর্তৃপক্ষের ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ র‌্যাপিড পাস

স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে দেশের সব ধরনের পরিবহনে যাতায়াত ভাড়া পরিশোধে চালু হয়েছিল র‌্যাপিড পাস ব্যবস্থা। শুরুতে এই কার্ডের মাধ্যমে বিআরটিসির এসি বাসে চলাচলের ব্যবস্থা ছিল। এই উদ্যোগ ‘ঢাকার চাকা’য় চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। এ নিয়ে পরস্পরকে দোষাদোষি করছে এই ব্যবস্থা বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ ও বাস মালিকরা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, র‌্যাপিড পাস নিয়ে রীতিমতো টানটানি শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বলছে, এই ব্যবস্থায় কার্যক্রম চালাতে বাস মালিকদের আগ্রহ নেই। অন্যদিকে বাস মালিকপক্ষ বলছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ঘোষণা পর্যন্তই সীমাবদ্ধ। বাস্তবে এর কোনো কার্যক্রম নেই।

র‌্যাপিড পাসের মাধ্যমে সরকার নির্ধারিত ভাড়া অনুযায়ী পরিবহন বিল পরিষদ করা যাবে বাস, লঞ্চ, স্টিমার, ট্রেন, ফেরি ও টোলপ্লাজায়। তবে আপাতত শুধু বিআরটিসির এসি বাসে এই কার্ড ব্যবহার হয়।

কার্ডের (র‍্যাপিড পাস) মাধ্যমে প্রাথমিক অপারেশন হিসেবে গত বছরের মে মাস থেকে রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে মতিঝিল পর্যন্ত বিআরটিসির এসি বাস সার্ভিস চালু হয়। এরপর ২৪ ডিসেম্বর থেকে ‘ঢাকার-চাকায়’ শুরু হয় স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পরিবহণ ভাড়া মেটানোর কাজ। তবে মালিকদের মধ্যে সমস্যা থাকায় সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়নি।

সরকার নির্ধারিত ভাড়া মেশিনের মধ্যে সেট করে দেওয়া আছে, সেই অনুযায়ী স্মার্ট কার্ড থেকে টাকা কেটে নেওয়া হবে। বেশি বা কম ভাড়া নয়, নির্ধারিত ভাড়া যদি পয়সায় থাকে, সেই মোতাবেক ভাড়া আদায় হয়ে যাবে কার্ড টাচ করার মাধ্যমে। ফলে যাত্রী সাধারণকে খুচরা টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না এবং হয়রানির শিকারও হতে হবে না। এই স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে ভবিষ্যতে ইউটিলিটি বিল পরিশোধ করা যাবে। আপাতত পরিবহনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ভাবছেন এই প্রকৌশলী।

র‍্যাপিড পাস মূলত ক্রেডিট কিংবা ডেবিট কার্ডের মতো। শপিং মলের পজ মেশিনের ব্যবহারের মাধ্যমে যেমন বিল পরিশোধ করা যায়, ঠিক তেমনি করেই এই কার্ডের মাধ্যমে বাস ভাড়া পরিশোধ করা যাবে। প্রাথমিক অপারেশনে বিআরটিসির ২৫টি এসি বাস ও ‘ঢাকার-চাকায়’ স্মার্ট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ আছে। তবে হাতিরঝিলের ওয়াটার ট্যাক্সিতে স্মার্ট কার্ড ব্যবহারের বিষয়ে কথা চলছে। এমনকি বেসরকারি গণপরিবহনে কিভাবে ব্যবহার করানো যায় তার কার্যক্রম চলমান বলে জানান পরিবহণ সমন্বয়ের অতিরিক্ত সচিব প্রকৌশলী মো. জাকির হোসেন মজুমদার।

সচিব আরও জানান, হাতিরঝিলের চক্রাকার বাসের সঙ্গে ৮০ শতাংশ চুক্তি বাস্তবায়ন হয়েছে, যা আগামী এক মাসের মধ্যে কার্যকর হবে। তবে সব থেকে বেশি যাত্রী চলাচল করে বেসরকারি গণপরিবহনে।

ওই পরিবহনগুলোতে র‍্যাপিড পাস পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে এই কর্মকর্তা জানান, বাস মালিকপক্ষ আগ্রহ দেখাচ্ছে না। সমিতি তাদের স্বার্থ দেখে। আর এই উদ্যোগ নেওয়ায় অনেক বাস মালিক তার ওপর রাগ করেছে।

কেন রাগ করছে জানতে চাইলে সচিব বলেন, এখন মালিকরা নগদ টাকা লেনদেন করছেন। র‍্যাপিড পাস হলে তাদের লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে হবে। ফলে এক কোম্পানির একাধিক মালিক থাকায় এককভাবে কেউ টাকা তুলতে পারবে না। এরপর কোনো সমস্যায় পড়লে এখন বাস ভাড়া থেকে টাকা নিয়ে নেয়। কার্ডের মাধ্যমে টাকা গেলে তখন ব্যাংক থেকে তুলতে হবে। এসব অনেক কারণে তারা আগ্রহী নন।

‘এই সেক্টরে যারা কাজ করেন তাদের অজানা অনেক খরচ থেকে যায়। এমন নানাবিধ সমস্যার কারণে আগ্রহী নয় বাস মালিকরা’, বলেন জাকির হোসেন মজুমদার। তবে যাত্রীরা আগ্রহী বলে জানান তিনি।

র‍্যাপিড পাসের বিষয়ে ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ কোনো নির্দেশনা দিয়েছে কি না জানতে চাইলে সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব এনায়েত উল্লাহ বলেন, এটা ঘোষণা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ। এরপর কোন কার্যক্রম নেই তাদের। একটা মিটিংয়ে আলোচনা করেছে। এরপর কোন উদ্যোগ নেই তাদের।

ডিজিটাল দেশের জন্য উদ্যোগটা ভালো বলে মন্তব্য করে এনায়েত উল্লাহ বলেন, ‘ঢাকার বাইরের বাসে টিকেট অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। আমরা চাই সব স্থানে ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হোক।’

র‍্যাপিড পাস ব্যবহারকারীকে প্রথমে নির্ধারিত ফরম জমা দিতে হবে। যেখান থেকে কার্ড ক্রয় করা হবে, সেখানে আবেদন ফরম জমা দিতে হবে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দুই কার্যদিবস সময় লাগবে।

রিফান্ড: যদি কোনো নিবন্ধন ব্যবহারকারী কার্ড ফেরত দিতে চান, সে ক্ষেত্রে অপারেটর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে ১০ টাকা কেটে নিয়ে কার্ডের মূল্য (জমা ও রিচার্জ) ফেরত দিবেন। নিবন্ধন ছাড়াও র‍্যাপিড কার্ড পাওয়া যাবে। তবে তা ফেরতযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত কার্ড পুনঃপ্রদান- ব্যবহারকারী ক্ষতিগ্রস্ত কার্ড অপারেটরকে ফেরত দিয়ে পুনঃপ্রদান ফি বাবদ ২০০ টাকা প্রদান সাপেক্ষে নতুন কার্ড নিতে পারবেন। সে ক্ষেত্রে অপারেটর নতুন প্রদানকৃত কার্ডের পূর্বের ব্যালেন্স স্থানান্তর করে দিবেন।

হারানো কার্ড পুনঃপ্রদান: ব্যবহারকারী নতুন কার্ডের জন্য ২০০ টাকা জমা ফি এবং ২০০ টাকা পুনঃপ্রদান ফি প্রদান করবেন। অপারেটর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে নতুন প্রদানকৃত কার্ডের পূর্বের ব্যালেন্স স্থানান্তর করে দিবেন।

হারানো কার্ড ফেরত: ব্যবহারকারী হারানো কার্ড ফেরত পেলে অপারেটরকে জমা মূল্য ফেরত প্রদানের জন্য দিবেন। অপারেটর সত্যতা যাচাই সাপেক্ষে কার্ড নিস্ক্রিয় করে রিফান্ড ফি বাবদ ১০ টাকা কেটে নিয়ে কার্ডের মূল্য ফেরত দিবেন।

June 2024
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
30