কাঁচের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা নারীটিকে দেখলাম

প্রকাশিত: ২:৫৩ অপরাহ্ণ, জুন ১৯, ২০১৮

কাঁচের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা নারীটিকে দেখলাম

জেসমিন চৌধুরী

আমস্টারডামের রেড লাইট ডিস্ট্রিক্টের কথা অনেক শুনেছি। ইচ্ছে ছিল নিজের চোখে একবার দেখব। এবার সুযোগও ঘটে গেল। বেশ আমোদিত মনেই সেই ‘কুখ্যাত’ গলির দিকে পা বাড়ালাম কারণ এ পর্যন্ত যাদের মুখেই এই জায়গাটার গল্প শুনেছি তারা সকলেই কাঁচের জানালায় সাজানো দেহের পসরা দেখে বেশ মজা পেয়েছেন বলে মনে হয়েছিল।

কয়েক পাড়া হাঁটতেই প্রথম কাঁচের জানালায় দাঁড়িয়ে থাকা নারীটিকে দেখলাম। লাস্যময় ভঙ্গিতে এদিক ওদিক অর্ধনগ্ন শরীর দুলিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছে সে। পরপর কয়েকটি জানালা পেরিয়ে গেলাম কোন ধরণের অনুভূতি ছাড়াই।

একটা জানালার সামনে এসে থমকে গেলাম। অসম্ভব সুন্দরী আর লাস্যময়ী মেয়েটার সাথে আমার চোখাচোখি হয়ে গেল। কী করুণ তার চোখের দৃষ্টি! নাকি আমার মনের ভুল ছিল? মেয়েটার বয়স হবে আমার মেয়ের মতই।

আমার মেয়ে এবার এলএলবি শেষ করে পার্ট টাইম ল’ প্র্যাকটিস কোর্সে ভর্তি হয়েছে, পাশাপাশি লিগ্যাল এসিস্ট্যান্ট হিসেবে একটা ল’ ফার্মে জয়েন করেছে।

মনে প্রশ্ন জাগল, এই মেয়েটা কি কখনো আইনজীবি হবার স্বপ্ন দেখেছিল? জানার কোন উপায় নেই, তবে এটুকু জানি আমি কখনো যৌনকর্মী হবার স্বপ্ন দেখিনি, আমার মেয়েও কখনো পতিতাবৃত্তি করার স্বপ্ন দেখেনি। পৃথিবীর কোন মেয়েই বোধ হয় বেড়ে উঠার দিনগুলোতে যৌনকর্মী হবার ‘এইম ইন লাইফ’ ধারণ করে না। তবু কেউ কেউ বড় হয়ে এই পেশা বেছে নেয়। হতে পারে তা উন্নত বিশ্বেও ঘটছে যেখানে মেয়েরা আপাতদৃষ্টিতে ততটা নিরুপায় নয় কিন্তু তবুও একে কি আসলেই একটি স্বতঃস্ফূর্ত সিদ্ধান্ত বলে ধরে নেয়া যেতে পারে?

এই পেশার প্রতি আমার কোন অশ্রদ্ধা নেই, কিন্তু একে পেশা হিসেবে বেছে নেবার পেছনে একজন নারীর যে উপায়হীনতা কাজ করে থাকতে পারে, তা ভেবে নিজের মেয়ের বয়েসী মেয়েটার জন্য ভীষণ কষ্ট লাগল। আমার চোখ ম্যানচেস্টারের আকাশের মত, খুব সহজে ভিজে যায়। দ্রুত পায়ে নত চোখে বাকিটা পথ হেঁটে গেলাম এবং প্রায় দৌড়ে রেড লাইট ডিস্ট্রিক্ট থেকে বেরিয়ে এলাম।

পেছনে একবুক ভালবাসা রেখে এলাম মেয়েগুলোর জন্য।