কাজী নুসরাত সুলতানা ও তাঁর গুচ্ছ ছড়া

প্রকাশিত: ৮:২৩ অপরাহ্ণ, আগস্ট ৩, ২০২১

কাজী  নুসরাত সুলতানা  ও তাঁর গুচ্ছ ছড়া

বাংলাদেশের   একজন শিক্ষা দার্শনিক কাজী  নুসরাত সুলতানা । একসময় সরকারি কলেজে অধ্যাপনা করতেন। ইধ্যক্ষ হয়ে অবসর নিয়েছেন, সেও অনেক বছর হলো । বড়দের জন্য প্রবন্ধ লিখেন , কবিতা লিখেন । কিন্তু শিশুদের জন্য তাঁর দরদ আলাদা । এখানে কাজী নুসরাত সুলতানার কয়েকটি ছড়া প্রকাস করা হল ।

 

শরৎ এল
শরৎ এসেছে আকাশ হেসেছে
হাসছে সবুজ ধরনী।
সুনীল আকাশ উতল বাতাস
ভাসছে মেঘের তরনী।
বৃষ্টি শেষে ভালবেসে
ফুল যে ফোটায় অবনী,
দেখছে চেয়ে মেঘের মেয়ে
রথ যে মেঘের নবনী।

 

 

 

 

নৌকো হল
খাতা ছিল চৌকো
হয়ে গেল নৌকো
নদী কোথায় পাই?
ঝেঁপে এল বৃষ্টি
লাগে বড় মিষ্টি
নদী উঠোনটাই!

 

 

 

 

 

ফলের মেলা
বোশেখ শেষে জ্যৈষ্ঠ এলে
নানান ফলের মেলা,
ফল-বাগানে গাছের তলে
সবাই মিলে খেলা।
পাকবে লিচু আম আনারস
পেঁপে কাঠাল কলা,
ফলসা আতা আমলকি বেল
আরো বাকি বলা।
নোনা লেবু কুল সফেদা
গাব পেয়ারা জাম
নারিকেল আর বাঙ্গি বৈঁচি
তরমুজ হামজাম।
করমচা কামরাঙ্গাও আছে
আছে গোলাপজাম,
শরিফা আর বেতের ফল
শেষ হবে না নাম!

এক থেকে দশ
এক দুই,
পালঙ পুঁই।
তিন চার,
কলার ঝাড়।
পাঁচ ছয়,
নাই তো ভয়।
সাত আট,
খেলার মাঠ।
নয় দশ,
হাসির বশ।
একের থেকে
দশে এসে,
আজকে পড়া
এল শেষে।

 

রাগের ফাঁদে
খুকুর পুতুল রাগ করেছে
দুধ সে খাবে না,
সবাই যাবে নানার বাড়ি
তাও সে যাবে না।
নানার বাড়ি মধুর হাঁড়ি
তাও সে মানে না,
কেন অমন রাগ হয়েছে
কেউ তো জানে না।
খুকুর দাদার অনেক সাধা
তার পরে কি হয়?
লাগবে দু’খান নতুন জামা
তার পরে সে কয়!

 

 

ফুলের হাসি
প্রভাত বেলায় যখন উঠি
প্রভাত রবির সাথে,
গুনগুনিয়ে গান গেয়ে যাই
ফুলের ডালি হাতে।
কত রকম ফুল যে ফোটে
বাগান ভরা গাছে,
ফুলেরা সব হেসে ওঠে
আমি গেলে কাছে।

 

 

 

 

ভোর হইয়াছে
আঁধার গেল হইল ভোর
সূর্য উঠিতেছে,
পাখিগুলি মধুর সুরে
গান গাহিতেছে।
বাতাস বহে মৃদুমন্দ
ছড়াইয়া দেয় ফুলের গন্ধ
মৌমাছিগণ মধুর খোঁজে
বনে বেড়াইতেছে।
ভোরের আকাশ সুনির্মল
দীঘির জল কী টলটল
শীতল জলে কমল মুকুল
ডানা মেলিতেছে।
কাননেতে রবির সাথে
কুসুম ফুটিতেছে।

 

বৃষ্টিখেলা
ঐ নেমেছে বৃষ্টি মেয়ে
ঝমঝমিয়ে সুর,
ছুট্টে এখন বাইরে যাব
হোক না ভর দুপুর।
বৃষ্টি মেয়ের মিষ্টি জলে
ভিজব সবাই মিলে,
জল জমেছে মাঠের ঘাসে
জমবে খালে বিলে।
ঘাসের জলে হুটোপুটি
কাদায় মাখামাখি,
তাল পুকুরে ঝাঁপিয়ে শেষে
শান্ত হয়ে থাকি।

 

 

রঙধনুকের রঙ
ছোট্ট খোকার বায়না ভারি
রঙ্গিন ঘুড়ি চাই,
তার সাথে চাই লম্বা সুতো
মস্ত লাটাইটাই।
বাবা এলেন ভাইয়া এলেন
ভাবনা কিছুই নাই,
এনে দেব তোমায় সবই
যেমন তোমার চাই!
এখন বলো কি কি রঙের
লাগবে ক’খান ঘুড়ি,
দেখব সবাই আমোদ করে
তাদের ওড়াউড়ি।
বলে খোকন রঙ ধনুকে
সাতটি রঙের মেলা,
আমার ঘুড়ির আকাশ গাঙে
তেমনি হবে খেলা।
লাল কমলা হলুদ সবুজ
আকাশি নীল বেগুনী
সাতটি রঙ মিলিয়ে দেখে
আমারে দাও রে গুনি!

 

 

 

 

 

 

 

 

দইখই
দই এনেছি, খই এনেছি,
কলা দিয়ে মেখে,
মুড়কি দিলাম, গুড় কি দিলাম,
একটু দেখি চেখে।

 

 

 

 

 

 

তারার মেলায়
সন্ধ্যা বেলায়
তারার মেলায়
চাঁদের জোছনাতে,
সবাই এসে
বসল শেষে
ঘাসের বিছানাতে।
দাদীর মুখে
শুনবে সুখে
কিস্সা কাহিনী যে,
অনেক মজার
লাগবে খাবার
বিচ্ছু বাহিনী যে!

 

 

দোলনা দোলা
ছুটির দিনে নানার বাড়ি
ঘুরতে এসেছি,
আমবাগানে গাছের ডালে
দোল্না বেঁধেছি।
গাঁয়ের যত ছেলে মেয়ে
সবাই জুটেছি,
গাছের ছায়ায় মনের সুখে
দুলতে লেগেছি।

 

ছড়িয়ে দিন