কারো রক্ষিতা, স্ত্রী , বান্ধবী হয়ে কোনো কিছু অর্জন হয়না

প্রকাশিত: ১২:২৫ পূর্বাহ্ণ, মে ১৮, ২০২১

কারো রক্ষিতা, স্ত্রী , বান্ধবী হয়ে কোনো কিছু অর্জন হয়না

মীরা মেহেরুন 

মুনিয়ার নিরাপত্তাহীন, ভালোবাসাহীন, অভিভাবকহীন, পিতা-মাতা হীন লাঞ্ছিত জীবনের অবসান ঘটেছে এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে । এখন মে’র মাঝামাঝি সময় অতিক্রম করছে। বিষয়টি নিয়ে বেশ নীরবতা বিরাজ করছে সকল মহলে।
ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে তাকে পতিতা সব্যস্ত করার প্রক্রিয়াগুলো শেষ, বাকি ছিলো মাদক পাচার ও মাদক সেবনের খবর জানার সেটাও বিভিন্ন মিডিয়া মারফত জানা যাচ্ছে। তার অস্বাভাবিক মৃত্যুর সঙ্গে জড়িতদের সম্পর্কে ইনভেষ্টিগেশন বা গ্ৰেফতারের বিষয়ে প্রশাসন ও মিডিয়া জ্ঞাত কারণে বেশ চুপচাপ। অতীতে বহু ঘটনার পরিসমাপ্তি ঘটেছে একই ভাবে। সর্বস্তরের মানুষ ঘটনার পরম্পরাগুলো বুঝে ফেলে এ জন্যই হয়তো কারো কোনো মাথাব্যথাও নেই।
আমাদের সমাজে সকলক্ষেত্রে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যায়, আর তা হলো সবাই অর্থশালী এবং ক্ষমতাশালী হতে চায়। কারণ যুগ যুগ ধরে মানুষ দেখেছে অর্থ এবং ক্ষমতা ওতপ্রোত । এ দুটি জিনিস যার হাতের মুঠোয় সে সব কিছুর আওতামুক্ত। সে আইনের আওতামুক্ত, জবাবদিহিতার আওতামুক্ত, দায়বদ্ধতা মুক্ত, লজ্জা–বিবেকের আওতামুক্ত। সে সবকিছু থেকে মুক্ত। যখন তখন যেখানে সেখানে যা ইচ্ছে তা করতে পারা যায়, উড়তে পারা যায়, ছুঁড়তে পারা যায়, জনসমক্ষে ঘুরতে পারা যায়। আর আমরা জাতি হিসেবে এমনই এক স্মৃতিভ্রষ্ট জাতি যারা এক একটি ঘটনা ঘটার কিছু দিন পর ডিস্গ্লেগজিয়ায় আক্রান্ত হয়ে যেতে পছন্দ করি। মনে করি, কি হবে এসব মনে রেখে! আবার মনোযোগ দিই যে কোনো উপায়ে হোক সম্পদ এবং ক্ষমতার অনুসন্ধানে। কারণ আমরা ইতোমধ্যেই বুঝে গেছি ক্ষমতা এবং অর্থ বা ঐশ্বর্যই মুক্তির একমাত্র পথ।
কিন্তু এ সমাজে একটি শ্রেণী আছে তারা নিজ নিজ দায়িত্বে সৎ, বিবেকবান, ধর্মপ্রান। তাঁরা চায় সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক এবং রাষ্ট্রের আইন-শৃঙ্খলার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাহীনতা দূর হোক। একইসঙ্গে মানুষের জীবন হয়ে উঠুক সহজ ও স্বাভাবিক এবং স্বাচ্ছন্দ্যময়।
মুনিয়ার ঘটনা নতুন কিছু নয় । রক্তাক্ত নখরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায় জানা অজানা এমনই অসংখ্য হোতা।
এদের আইনের আওতায় আনা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সৎ ও বিবেকবান শ্রেণীর স্বপ্ন ও প্রত্যাশা হলো একটি সুষম সমাজের।
সবশেষে একটি কথা–কারো রক্ষিতা, স্ত্রী , বান্ধবী হয়ে কোনো কিছু অর্জন হয়না। মুনিয়া হত্যা কান্ডটি মুনিয়া এবং পিতা-মাতা হীন মুনিয়াদের অভিভাবকদের জন্য একটি চরম সতর্কবার্তা। আরো অধিক আন্তরিক দায়িত্বশীল ও স্নেহময়ী হতে হবে কন্যাসন্তানের অভিভাবকদের।

ছড়িয়ে দিন