কী হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের?

প্রকাশিত: ১২:৫৩ পূর্বাহ্ণ, মে ১০, ২০২০

কী হবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের?

মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুক:

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তালিকাভুক্ত ও অনুমোদনপ্রাপ্ত মোট বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা ১০৫। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশও বর্তমান করোনা সংকটে নিপতিত।

করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। সেই সঙ্গে দিন দিন দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। এদিকে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে টিউশন ফি না পাওয়ায় বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো পড়েছে মহাবিপাকে। কারণ এ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে কর্মরত রয়েছেন লাখো শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।

প্রতিষ্ঠান থেকে প্রাপ্ত মাসিক বেতন ছাড়া এখানকার শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আয়ের অন্য কোনো পথ নেই। সরকারের পক্ষ থেকে যদি কোনো আর্থিক প্রণোদনার ব্যবস্থা না নেয়া হয়, তবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের লাখ লাখ শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীর মানবেতর জীবন কাটানো ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।

গত ২৭ এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক ভিডিও কনফারেন্সে বলেছেন, পরিস্থিতি ঠিক না হলে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। হয়তো সেটাই ঘটবে। করোনার ক্রমবর্ধমান গতি দেখে তা-ই মনে হচ্ছে। সরকারের দৃষ্টিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কোনো প্রভাব ফেলে না। তাই ঝুঁকি না নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার, এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো, বিশেষ করে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষক-কর্মচারীদের কী হবে? কীভাবে তাদের সামনের দিনগুলো অতিবাহিত হবে, এটাও একটু ভেবে দেখা দরকার বলে মনে করছি। সরকারি ও এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক-কর্মচারীরা না হয় নিয়মিত বেতন-ভাতা পাবেন। কিন্তু যেসব প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ ব্যক্তিমালিকানাধীন কিংবা সরকারি কোনো সুবিধা গ্রহণ করে না বা পায় না, সেসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। আগেই বলেছি, এসব প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রয়েছেন লাখো শিক্ষক-কর্মচারী। আগামী ছয় মাস তারা তাদের সংসার চালাবেন কীভাবে?

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় শিক্ষার্থীদের বেতনের ওপর লাখো শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন নির্ভর করে। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলে শিক্ষার্থীরা বেতন দেবে না, এটাই স্বাভাবিক। ফলে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠান তাদের শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন দিতে পারবে না। তাহলে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে জীবন অতিবাহিত করবেন? ধরে নিলাম ধারদেনা করে, খেয়ে-না খেয়ে, বাড়িভাড়া বকেয়া রেখে না হয় সংসারটা কোনোরকমে চলল। কিন্তু প্রতিষ্ঠান খোলার পর কি তাদের সমস্যা লাঘব হবে? বকেয়া বেতন কি তারা একসঙ্গে পাবেন? যদি না পান, তাহলে তারা তাদের বাড়িভাড়া ও পূর্বঋণ পরিশোধ করবেন কীভাবে?

যেভাবে করোনা পরিস্থিতি দিন দিন খারাপ হচ্ছে, তাতে সবকিছু আগের মতো স্বাভাবিক হতে আরও ২-৪ মাস লেগে যেতে পারে। তারপরও যদি অক্টোবরের ১ তারিখেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হল, তখন ক’জন শিক্ষার্থী একসঙ্গে ছয় মাসের বেতন দিতে পারবে? সরকারি চাকরিজীবী ও উচ্চবিত্তের সন্তানরা হয়তো বেতনটা পরিশোধ করতে পারবে। যারা প্রবাসী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, বেসরকারি চাকরিজীবী, দরিদ্র, হকার, শ্রমিক, ড্রাইভার- তারা? তাদের সন্তানদের কি একসঙ্গে ছয় মাসের বেতন দেয়ার সামর্থ্য তখন থাকবে।

দীর্ঘসময় ধরে করোনাভাইরাসের নির্মম থাবার পর বিশ্বের মতো বাংলাদেশের চিত্রও বদলাবে। ঋণে জর্জরিত থাকবে বেশিরভাগ মানুষ। দেশে থাকবে অর্থনৈতিক সংকট। লাখ লাখ কর্মহীন মানুষ ছুটবে বুকভরা হতাশা নিয়ে। লাগামহীন দ্রব্যমূল্যে নাভিশ্বাস উঠবে মানুষের। দেশজুড়ে থাকবে এক অস্থির পরিস্থিতি। এ অবস্থায় ক’জন শিক্ষার্থী একদিনও ক্লাস না করে ছয় মাসের বেতন দিয়ে দিতে সক্ষম হবে?

মানুষের পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে শিক্ষা অন্যতম। আর এ শিক্ষার একমাত্র কারিগর হলেন শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। তাদের বাঁচিয়ে না রাখলে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা নাজুক অবস্থায় পড়বে।

তাই উপর্যুক্ত বিষয়গুলো মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যথাযথ কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রাখার জন্য এবং সরকারের বিশেষ প্রণোদনা প্রদানের জন্য বিনীত অনুরোধ করছি।

বিশেষ প্রতিবেদক রেডটাইমস ডটকম বিডি -! সদস্য ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন-(ডিইউজে)
প্রকাশক জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান ও মানবাধিকার সংগঠক -|

ছড়িয়ে দিন

এ সংক্রান্ত আরও সংবাদ

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031