কুলাউড়ার হাজিপুর ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত

প্রকাশিত: ৩:০৭ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৮

কুলাউড়ার হাজিপুর ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মত

মোঃ আব্দুল কাইয়ুম,মৌলভীবাজার:
গত তিনদিনের ভারী বর্ষণ ও ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারনে মৌলভীবাজারের মনু এবং ধলাই নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে নদীর প্রতিরক্ষা বাধ ভেঙে কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে বন্যায় আক্রান্ত ৪৫টি গ্রামের ২০হাজার পরিবারের ৫০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে মানবেতর দিন কাটাচ্ছেন । পবিত্র রমজান মাসে সেহরী আর ইফতারীও জুটছেনা তাদের কপালে, ঈদের আনন্দও ম্লান। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে, মনু নদীর পানি বর্তমানে বিপদসীমার ১৭৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে প্রতিরক্ষা বাঁধের অন্তত ২০টি এলাকা

সরেজমিনে দেখা গেছে , বর্তমানে কুলাউড়া উপজেলার হাজিপুর ইউনিয়নে বন্যার পানি কম থাকলেও জনদূর্ভোগ চরমে । এই ইউনিয়নে যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকার কারনে কোন উদ্ধার তৎপরতা চালানো যাচ্ছেনা। বানবাসী মানুষের সাহায্যে প্রাপ্ত সরকারী ত্রান সামগ্রীও বিতরণ করা যাচ্ছেনা গ্রামগুলোতে । এলাকাবাসী জানান, বন্যায় আক্রান্ত এলাকায় স্পিড বোর্ডের ব্যবস্থা করা গেলে অসহায় মানুষের খোঁজ খবর নেয়া যেত।
এদিকে পানিবন্দী এলাকায় পানিবাহিত রুগ জীবানু দেখা দেয়ায় চারিদিকে বাড়ছে আতঙ্ক আর উদ্ভেগ । সূত্রে জানা গেছে , সরকারের পক্ষ থেকে ১০টন ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্ধ দেয়া হলেও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন থাকার কারনে এগুলো আক্রান্ত গ্রামগুলোতে নিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছেনা । আকষ্মিক বন্যার কারনে হাজিপুর ইউনিয়ন এখন বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপের মত। কারন আকষ্মিক উজানের পানি আর ভারি বর্ষনের ফলে সৃষ্ট বন্যায় কুলাউড়া উপজেলা সহ সমগ্র জেলার সাথে রয়েছে এই ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। হাজিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সিনিয়র সাংবাদিক আব্দুল বাছিত বাচ্চু বলেন, বন্যায় আক্রান্ত গ্রামগুলোতে এখন পর্যন্ত সরকারী ত্রাণ যেগুলো পাওয়া গেছে সেগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল্ । তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত কোন রাজনৈতিক দলের তৎপরতা নেই উপদ্রুত এলাকায়, আমি সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে দেশ এবং প্রবাসের বিত্তবান এবং এই এলাকার সন্তান হিসেবে যারা প্রবাসে বাস করছেন তাদের আহবান জানাচ্ছি এই চরম সংকটময় মুহুর্তে পাশে দাড়াঁতে। কারন জনপ্রতিনিধিদের পক্ষে এতবড় দূর্যোগ মোকাবেলা করা সম্ভব না। তাই আসুন আমরা ঈদের আনন্দকে বিসর্জন দিয়ে দূর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াই।