কে নির্বাচন করবে আর কে করবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তঃ প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১০:১৬ পূর্বাহ্ণ, মে ৩, ২০১৮

কে নির্বাচন করবে আর কে করবে না এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্তঃ প্রধানমন্ত্রী

জান্নাতুল ফেরদৌস

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, নির্বাচন হচ্ছে গণতন্ত্র, কোন পার্টি নির্বাচন করবে, কোন পার্টি নির্বাচন করবে না, এটা তাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। একজনের দলীয় সিদ্ধান্তের উপরে আমি তো আর চাপিয়ে দিতে পারি না, তোমাদেরকে নির্বাচন করতেই হবে।

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন , একাদশ সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়ার দলকে আনতে তিনি কোনো উদ্যোগ নেবেন না।
বিএনপির নির্বাচনে আসা, না আসার বিষয়টি সম্পূর্ণ তাদের উপরই ছেড়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী ।

দুই মামলায় দণ্ডিত বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে বলে আবারও বলেছেন তিনি।

দশম সংসদ নির্বাচন বর্জনকারী বিএনপি নির্বাচনকালীন সরকার পদ্ধতি নিয়ে সরকারের সঙ্গে সংলাপ চেয়ে আসছে। তারা বলছে, ভোটের আগে নির্বাচনকালীন সরকারের বিষয়টি নিষ্পত্তি হওয়া দরকার।

পাশাপাশি দুর্নীতির মামলায় দণ্ড নিয়ে কারাবন্দি খালেদার মুক্তিও নির্বাচনে অংশ নেওয়ার শর্ত করছে তারা।

কয়েকটি দেশ সফর করে আসা প্রধানমন্ত্রী বুধবার গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে এলে তার কাছে আগামী নির্বাচনে বিএনপির শর্তের বিষয়ে জানতে চাওয়া হয় ।

বিএনপির গত নির্বাচনে বর্জন করার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা ঠেকানোর চেষ্টা করেছিল এবং মানুষকে হত্যা করেছে।

খালেদার মুক্তির বিষয়ে সরকারের কিছু করার নেই বলেও মন্তব্য করেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “তাদের নেত্রীকে রাজনৈতিকভাবে যদি জেলে পাঠাতাম, তাহলে ২০১৪, ১৫, ১৬তেই পাঠাতে পারতাম। ২০১৫ সালে মানুষকে পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করেছে। নিজেকে নিজে অন্তরীণ করলেন। ৪৮ জন লোক নিয়ে এক বাড়িতে থাকলেন, নির্দেশ দিয়ে মানুষ পুড়িয়ে পুড়িয়ে হত্যা করলেন। সেটা আমি রাজনৈতিকভাবে করতে চাইনি।

কোর্ট রায় দিয়েছে। এখানে আমাদের কাছে দাবি করে তো কিছু হবে না। যেখানে কোর্ট রায় দিয়েছে আইনগতভাবে এগিয়ে গেছে। আইনগতভাবে যেহেতু কারাগারে গেছে। আইনগতভাবে মোকাবেলা করতে হবে।

উন্নয়নের কারণে বিএনপি ভোটে এলেও আওয়ামী লীগের জয়ে আশাবাদী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, উন্নয়ন করার পরও যদি জনগণ ভোট না দেয় এবং তারা যদি ক্ষমতায় না আসতে পারেন তাহলে উন্নয়নের ধারাবাহিকতা নষ্ট হয়ে যাবে।

“ইলেকশনে জেতাটা আমি জনগণের উপরেই ছেড়ে দিচ্ছি। জনগণ যদি মনে করে যে, তাদের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত থাকুক, তারা নৌকা মার্কায় ভোট দেবে।

“অন্তত আমরা যেই পরিকল্পনাগুলো নিয়েছি, আজকে বাংলাদেশ যে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে প্রতিষ্ঠিত হবে, মধ্যম আয়ের দেশ তো হবেই হবে। ইনশাল্লাহ আওয়ামী লীগই সেটা করতে পারবে। আর কেউ পারবে না।”

২০১৫ সালে ২৪ জানুয়ারি আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুতে শোকগ্রস্ত মা খালেদা জিয়াকে সমবেদনা জানাতে তার বাসায় গিয়েও ফটক বন্ধ করে ঢুকতে না দেওয়ার কথা আবারও বলেন শেখ হাসিনা।

“অন্য কেউ হলে বাইরে থেকে তালা দিয়ে রাখত, ওখান থেকে কেউ বের হতে পারবে না। আমি চাইলে করতে পারতাম, যে আমিও ঢুকতে পারব না, তোমরাও বের হতে পারবা না। কিন্তু আমি রাজনৈতিকভাবে হ্যারাসও করিনি, গ্রেপ্তারও করিনি।”

কারাগারে বিএনপি চেয়ারপারসনের ব্যক্তিগত সেবিকা রাখারও সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

নিরাপরাধ ফাতেমা বেগমকে ‘মেইড সার্ভেন্ট’ হিসাবে দিয়ে অন্যায় করেছেন মন্তব্য করে তিনি বলেন, “আপনি বলেন, সাজাপ্রাপ্ত কোন আসামিকে কে কোথায় মেইড সার্ভেন্ট সাপ্লাই দিয়েছে?”

ফাতেমার জন্য সোচ্চার না হওয়ায় মানবাধিকার সংগঠনগুলোর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “তাকে জেল খাটতে হচ্ছে খালেদা জিয়ার কারণে, যে সাজাপ্রাপ্ত আসামি। কোনো অধিকার সংস্থা টু শব্দ করে না, বিনা কারণে একজন মহিলা কেন জেল খাটবে, আমাকে বলেন।”

তারেককে ‘ফেরানো হবে’

তারেক রহমানের ফেরানোর বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “হ্যাঁ, অবশ্যই সে একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি, সেটা ভুলে গেলে চলবে না। তার যে অপরাধগুলো, সেগুলো আমাদের দেশেরই শুধু না, এফবিআই প্রতিনিধিও এসে কিন্তু সাক্ষী দিয়ে গেছে। তারপরে সে সাজাপ্রাপ্ত। দুইটা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত, আরও মামলা রয়েছে।

এই সাজাপ্রাপ্ত আসামি বিদেশের মাটিতে। আবার বিদেশের মাটিতে বসে প্রতিদিন সে আন্দোলন করে। ছেলে সাজা পেয়েছে, সে আবার আন্দোলন করে তার মায়ের মুক্তির জন্য।

অনেক দেশ থেকে এ ধরনের আসামি ধরে নিয়ে আসা বা আনার চেষ্টার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ব্রিটিশ সরকারের সঙ্গে আমাদের আলোচনা চলছে। তার সম্পর্কে আলোচনা করছি।”

আদালতে দণ্ডিত তারেককে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করায় বিএনপি নেতাদেরও সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।

তিনি বলেন, “একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে বিএনপির মতো একটা রাজনৈতিক দল, যারা নিজেদের মনে করে সব থেকে বড় দল, সব থেকে জনপ্রিয়, শক্তিশালী দল; তো সেই দলে কি একজন উপযুক্ত নেতা বাংলাদেশে খুঁজে পেল না।

একজন সাজাপ্রাপ্ত, পলাতক আসামিকে তাদের চেয়ারপারসন বানাতে হল এবং সে সেখান থেকে নেতৃত্ব দেয়। রাজনীতিতে এতবড় দেউলিয়াত্ব আর কী আছে?

প্রত্যক্ষ ভোটে না হলে সমঝোতার মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি হতে পারে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “ভোটের আবার কিছু ভালোও আছে, মন্দও আছে, এটাও দেখতে হবে। আমরা চাই উপযুক্ত নেতৃত্ব এবং ছাত্র।

“একটা বয়সসীমার বাধা আছে। ওই বয়সসীমার মধ্যে সত্যিকারে যে দক্ষ ও মেধাবী ছেলে তারা যেন নেতৃত্বে আসে, সেটা আমরা চাই। সেই লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করব। যদি দেখা যায়, ভোটের মাধ্যমে উল্টাপাল্টা আসে, সেটা নিশ্চয় গ্রহণযোগ্য হবে না। এটা মাথায় রাখতে হবে।”

আগামী ১১ ও ১২ মে কেন্দ্রীয় সম্মেলনের তারিখ নির্ধারিত আছে আওয়ামী লীগের সহযোগী ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের। এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথি থাকবেন শেখ হাসিনা।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ছাত্রলীগের কনফারেন্স যেভাবে হওয়ার হবেই। যদি সমঝোতা না হয়, ভোট হয়।

এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রথম স্বচ্ছ ব্যালট বাক্সে ভোট কিন্তু আমরা শুরু করেছি। এটা নির্ভর করে, যদি সমঝোতা করে নেওয়া যায়… যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে ভোট হবে।