কোভিড-১৯ যুদ্ধে আমাদের ছেলের অংশগ্রহণ ও দুটি কথা!

প্রকাশিত: ১২:৪৬ অপরাহ্ণ, এপ্রিল ২২, ২০২০

কোভিড-১৯ যুদ্ধে আমাদের ছেলের অংশগ্রহণ ও দুটি কথা!

গোলাম কিবরিয়া পিনু
আমাদের ছেলেটা, অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, কোভিড-১৯ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছে। সে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালযের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষক, করোনা পরীক্ষা কাজে সে এখন অংশ নিচ্ছে।প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে করোনা পরীক্ষা শুরু করেছে যবিপ্রবি (যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়), গত ১৭ এপ্রিল থেকে। বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আনোয়ার হোসেন ও তাঁর টিম সাহস, উদ্দীপনা ও দেশমাতৃকার প্রতি দায়বোধ থেকে কী এক প্রেষণায় যে এগিয়ে এসেছেন, তা আমাদের ছেলের ক’দিনের ব্যস্ততা ও স্বরূপ দেখে অনুভব করেছি। নবীন এই বিশ্ববিদ্যালয় দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে স্বপ্রণোদিত হয়ে এ-যুদ্ধে পাইনিয়ারের ভূমিকায় এগিয়ে এসেছে, সেজন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়কে স্যালুট জানাই।

তাঁরা তো এই বন্ধের সময় নানা অজুহাতে বাসায় দিন কাটাতে পারতেন কিন্ত না, তাঁরা তাঁদের শুভবোধে উজ্জীবিত হয়ে বিপদের সময়ে মানুষের কল্যাণে তাঁদের মেধা, শিক্ষা ও দক্ষতা এই যুদ্ধে অন্যান্য ফ্রন্ট লাইনারদের মত নিবেদন করছেন। পর্যায়ক্রমে তিনটি গ্রুপে ভাগ হয়ে ১৪ দিনের শিফটে তাঁরা কাজ করছেন।সাত-আট ঘণ্টা এক নাগাড়ে কাজ করতে হচ্ছে। ল্যাবে খাবার-পানি খাওয়ার সুযোগ নেই, বিরাম নেওয়ার সুযোগ নেই, মোবাইল ধরার সুযোগ নেই, পিপিই-ফেসশিল্ড-মাস্ক, গ্লাভস খোলার সুযোগ নেই। সবসময় সজাগ ও সচেতন থাকতে হচ্ছে! তাঁদের পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আলাদা বিল্ডিং-এ আইসোলেশনে থাকতে হচ্ছে এ সময়ে। কাজ শেষ হওয়ার পরও ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থাকতে হবে। ভিন্ন এক যুদ্ধ!

পিতা-মাতা হিসেবে এসময়ে আমাদের যে অভিব্যক্তি, তা উন্মোচনের প্রয়োজন নেই, তা বন্ধু-স্বজনদের কাছে সহজে অনুমেয়। যাঁরা বিভিন্নভাবে এই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করছেন, ভূমিকা রাখছেন, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা। আজকের এই বিপদ সামলিয়ে আমরা সবাই আবারও স্বাভাবিক জীবনে পরিব্যাপ্ত হতে পারি, সেই কামনা করি। সবার কল্যাণ হোক।

লেখকঃ কবি

ছড়িয়ে দিন