কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠুক : মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

প্রকাশিত: ৬:২০ অপরাহ্ণ, মে ৪, ২০২০

কোরআনের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক গড়ে উঠুক : মোহাম্মদ অলিদ সিদ্দিকী তালুকদার

রমজান কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার মাস। এ মাসের সঙ্গে অন্যান্য আসমানি কিতাবেরও নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। আল্লাহতায়ালা মানবজাতির পথনির্দেশনার জন্য যে চারটি প্রধান আসমানি কিতাব নাজিল করেছিলেন, এর সবই মাহে রমজানে অবতীর্ণ হয়েছে। তাওরাত, জাবুর, ইনজিল ও কোরআন রমজান মাসে অবতীর্ণ হয়েছে।

মহান আল্লাহ রমজানের পরিচিতি তুলে ধরে পবিত্র কোরআনে বলেন, ‘মাহে রমজান, যে মাসে অবতীর্ণ করা হয়েছে কোরআন…। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১৮৫)
হাদিস শরিফে এসেছে, “জিবরাইল (আ.) রমজানের প্রতি রাতে আগমন করতেন এবং কোরআন শরিফ ‘দাওর’ করতেন অর্থাৎ রাসুলুল্লাহ (সা.) ও জিবরাইল (আ.) একে অন্যকে কোরআন পড়ে শোনাতেন। ” (বোখারি শরিফ, হাদিস : ১৯০২)

এ কারণেই এ মাসকে কোরআনের মাস বলা হয়। এ মাসের প্রধান আমল পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত করা। আমাদের আগের মুসলিম মনীষী ও পুণ্যাত্মারাও এই মোবারক মাসে রোজা রাখার পাশাপাশি অন্যান্য নফল ইবাদতের মধ্যে কোরআন তিলাওয়াতকে সবচেয়ে গুরুত্ব দিতেন।

তারা পুরো রমজান মাস পবিত্র কোরআনের জন্য উৎসর্গ করে দিতেন। তাদের কেউ কেউ সাধ্যানুযায়ী একাধিকবার কোরআন খতমের প্রতি মনোনিবেশ করতেন। কারও কারও মনোযোগ থাকত কোরআনের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম নিগূঢ় তথ্য ও রহস্যগুলো উদ্ঘাটনের ব্যাপারে। পবিত্র রমজানে আমরা তাদের অনুসরণ করতে পারি।

এতে অনুপ্রাণিত হওয়ার পাশাপাশি সময়ে বরকত দেখা দেবে। আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘এরা এমন ছিল, যাদের আল্লাহ পথপ্রদর্শন করেছিলেন। অতএব, তুমিও তাদের পথ অনুসরণ করো। ’ (সুরা আনআম, আয়াত : ৯০)
বর্তমানে অনেকে কোরআন পাঠের চেয়ে কোরআনের অর্থ অনুধাবনে বেশি আগ্রহী। এ প্রসঙ্গে মুফতি মুহাম্মাদ শফী (রহ.) লিখেছেন, ‘প্রত্যেক মানুষ কোরআনের অর্থ ও মর্ম সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করুক এটিই কোরআনের দাবি। সুতরাং এ কথা মনে করা ঠিক নয় যে, কোরআন মজিদের আয়াত নিয়ে চিন্তাভাবনা করা শুধু ইমাম ও মুজতাহিদের (বড় বড় আলিমের) কাজ। অবশ্য জ্ঞান ও প্রজ্ঞার মতোই চিন্তাভাবনারও বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ যখন নিজের ভাষায় কোরআন মজিদের তরজমা-তাফসির পড়বে ও চিন্তাভাবনা করবে, তখন তাদের অন্তরে আল্লাহতায়ালার ভালোবাসা ও পরকালের চিন্তা সৃষ্টি হবে। আর এটিই হচ্ছে সব সফলতার চাবিকাঠি। তবে ভ্রান্তি ও বিভ্রান্তি থেকে বাঁচার জন্য সাধারণ মানুষের উচিত কোনো আলিমের তত্ত্বাবধানে অল্প অল্প করে পাঠ করা। সুযোগ না থাকলে কোনো নির্ভরযোগ্য তাফসিরের কিতাব পাঠ করবে এবং যেখানেই কোনো প্রশ্ন ও সংশয় দেখা দেয়, নিজের বিদ্যা-বুদ্ধি দ্বারা উত্তর না খুঁজে বিজ্ঞ আলিমের সাহায্য নেবে। (মা’আরিফুল কোরআন : ২ / ৪৮৮)

তবে সবার আগে বিশুদ্ধভাবে তিলাওয়াত করা শিখতে হবে। বিশুদ্ধভাবে নামাজ পড়ার জন্য কিছু সুরা মুখস্থ করার বিকল্প নেই। কেননা ফরজ আমলের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান অর্জন ফরজ। আর কোরআনের অনুবাদ ও তাফসির পাঠের ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত অধ্যয়ন ঝুঁকিমুক্ত নয়। কেননা কোরআন পাঠ করে বহু মানুষের বিভ্রান্ত হওয়ার হুঁশিয়ারি খোদ কোরআনেই উল্লেখ করা হয়েছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘…এর মাধ্যমে তিনি অনেককেই বিভ্রান্ত করেন, আবার বহু লোককে সৎপথে পরিচালিত করেন…। ’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ২৬)। তাই বহু আলেম সর্বসাধারণের জন্য ব্যক্তিগত অধ্যয়নে কোরআন চর্চায় অনুৎসাহিত করে থাকেন।

লেখক : সাংবাদিক, প্রাবন্ধিক, প্রকাশক জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা, ও সদস্য ডিইউজে |

ছড়িয়ে দিন

Calendar

December 2021
S M T W T F S
 1234
567891011
12131415161718
19202122232425
262728293031