ক্রিকেটার ধোনি এখন ষ্টেশনের টিকেট চেকার

প্রকাশিত: ৭:০৬ পূর্বাহ্ণ, মার্চ ১৬, ২০১৬

ক্রিকেটার ধোনি এখন ষ্টেশনের টিকেট চেকার

এসবিএন ডেস্ক: একটানা কাজের মাঝে বাড়ির কথা মনে পড়ে সবার। আর কর্মক্ষেত্র দূরে হলে তো সামান্য অবসর মিললেই সোজা বাড়ি। তবে রেল বিভাগে যারা চাকরি করেন তাদের ছুটি এমনিতেই কম এবং সেটা যদি হয় রেলশহর খড়গপুর স্টেশনের টিকিট পরীক্ষকের কাজ তাহলে তো কথাই নেই।

টিকিট পরীক্ষকের কাজের ব্যস্ততায় তেমন অবসর মেলে না। দূরপাল্লার ট্রেনে ডিউটিতে যাওয়ার আগে জন্মস্থান রাচির কথা মনে পড়ে টিকিট পরীক্ষক ‘ধোনি’র! অনেকে নিশ্চয় অবাক হচ্ছেন, ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে ধনী খেলোয়াড় খড়গপুর স্টেশনে টিকিট চেক করবেন কেন? আসলেই তাই- ধোনি কেন স্টেশনের টিকিট চেকার হবেন? আসুন জেনে নেওয়া যাক, টিকিট চেকার ধোনি থেকে ভারতীয় ক্রিকেটের ক্যাপ্টেন হয়ে ওঠা ধোনির চলচ্চিত্রের গল্প।

পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কিংবদন্তি খেলোয়াড়ের জীবনীনির্ভর ভূরি ভূরি চলচ্চিত্র রয়েছে। কিন্তু আমাদের এই উপমহাদেশের জনপ্রিয় খেলা ক্রিকেটের কিংবদন্তিদের জীবনী নিয়ে চলচ্চিত্রের সংখ্যা নিতান্তই নগণ্য। ইদানিং বলিউডে খেলোয়াড়দের জীবনী নিয়ে ছবি তৈরির হিড়িক লেগেছে। ভাগ মিলখা ভাগ এবং মেরি কম-এর সাফল্যের পর এই ট্রেন্ডটা যেন আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলিউডপাড়ায়। বিশেষ করে ক্রিকেটারদের জীবনী নিয়ে ছবি তৈরির সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে।

ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন খ্যাতিমান ক্রিকেটারকে নিয়ে বায়োপিক (জীবনভিত্তিক সিনেমা) তৈরির কাজ চলছে। কোন কোন সিনেমার কাজ শেষ পর্যায়ে। যেসব ক্রিকেট লিজেন্ডদের নিয়ে বায়োপিক তৈরির কাজ চলছে তাদের মধ্যে বর্তমান ভারতীয় ওয়ানডে ক্রিকেট দলের অধিনায়ক মহেন্দ্র সিং ধোনি উল্লেখযোগ্য। সিনেমার নাম এমএস ধোনি : দ্য আনটোল্ড স্টোরি। ধোনিকে নিয়ে যখন সিনেমা তখন তা যে বেশ ইন্টারেস্টিং হবে তা ধরেই নেওয়া যায়। আর পরিচালক যখন অ্যা ওয়েনেস ডে, স্পেশাল টুয়েনটি সিক্স, দি রয়েল বেঙ্গল টাইগার, বেবি খ্যাত নিরাজ পান্ডে তখন একটু নড়েচড়ে বসতেই হয়। সিনেমায় ধোনি চরিত্রে অভিনয় করেছেন হালের বলিউড ক্রেজ সুশান্ত সিং রাজপুত।

সমালোচকদের দৃষ্টিতে সুশান্ত ধোনি চরিত্রটি অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ফুটিয়ে তুলেছেন। ধোনির স্ত্রী সাক্ষীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন কমেডি ফিল্ম ফাগলি খ্যাত কিয়ারা আদভানি এবং ধোনির বাবা পান সিংয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন শক্তিমান অভিনেতা অনুপম খের। এ ছাড়া যুবরাজ সিং, জহির খান, বিরাট কোহলি, সুরেশ রায়নার চরিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বলিউডের কয়েকজন জাদরেল অভিনেতাকে দিয়ে।

সিনেমাটি বানানোর পরিকল্পনা করার পর তা নিয়ে ধোনি-ভক্তদের যেমন উন্মাদনার শেষ নেই, তেমনি সিনেমাটি নিয়ে গুজবের ডালপালা মেলেছে অনেক বেশি। সম্প্রতি এতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে বড় বড় কোম্পানিগুলোর অর্থ বিনিয়োগের খবর। ইন্ডিয়াটিভির এক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ফক্স স্টার নিজেই সিনেমাটিতে ৩০ কোটি রুপি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী।

এ ছাড়া মাহেন্দ্র সিং ধোনি পেপসি, রিবক, বুস্ট, টিভিএসসহ যেসব কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্ব্যাসেডর তারাও বিনিয়োগের জন্য জোর তদবির চালিয়ে যাচ্ছে।

কর্মজীবনের একটা সময় খড়গপুরে কাটিয়েছেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের অন্যতম সফল অধিনায়ক ধোনি। এ রেলশহরে রয়েছে ধোনির জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। মিশে রয়েছে নানা উত্থান পতনের স্মৃতি। ফলে যে শহরের আলো-হাওয়া ভারতীয় ক্রিকেটকে উপহার দিয়েছে এক জীবন্ত কিংবদন্তিকে, শুটিংয়ের জন্য সেই শহরকে বেছে নিয়েছেন পরিচালক নিরাজ পান্ডে।

সিনেমাটি তৈরির কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৪ সালের শেষের দিকে। বর্তমানে কাজও প্রায় শেষের দিকে। রিলিজের সম্ভাব্য দিন ধার্য করা হয়েছে এ বছরের ২ সেপ্টম্বর। প্রকাশ করা হয়েছে এর ফার্স্ট লুক পোস্টার। পোস্টারের একটি অংশে ছোট্ট দুই লাইনের যে ইংরেজি বাক্যটি রয়েছে, তার বাংলা অর্থ এ রকম- ‘মানুষটিকে আপনারা চেনেন তবে তার পথ চলাকে নয়।’

কথাটি কিন্তু পনের আনায় সত্য। ক্রিকেটার ধোনিকে আমরা চিনি কিন্তু রাচির নিভৃত পল্লিতে জন্মানো কিংবা খড়গপুর স্টেশনের টিকিট চেকার ধোনিকে আমরা কতটুকু চিনি। কতটাইবা জানি শূন্য থেকে উঠে এসে তার এই আকাশ ছোঁয়ার গল্পকে। যে ধোনি কি না এক সময় প্রথম বিভাগ ফুটবল খেলতেন সেই ধোনিই আজ দক্ষ হাতে ভারতীয় ক্রিকেটকে শাসন করছেন, সেই ধোনির উত্থানের গল্প সেলুলয়েডের পর্দায় দেখতে হলে অপেক্ষা করতে হবে সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় দিন পর্যন্ত।

ছড়িয়ে দিন