খালেকুজ্জামান চৌধুরী আর নেই

প্রকাশিত: ৯:৩১ পূর্বাহ্ণ, জুন ২১, ২০১৮

খালেকুজ্জামান চৌধুরী আর নেই

 

গত মঙ্গলবার রাত দশটায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য, ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতি জনাব খালেকুজ্জামান চৌধুরী শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলায়হি রাজেউন। তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ কিডনীর সমস্যায় ভুগছিলেন।

জাতীয় পার্টির শোক
জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড: টি.আই.এম. ফজলে রাব্বি চৌধুরী ও মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দার এক শোক বার্তায় মরহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা করে এবং শোক সন্তপ্ত পরিবারবর্গের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন তাঁর মৃত্যুতে দেশ একজন মহান দেশপ্রেমিক নেতা ও মুক্তিযোদ্ধাকে হারাল। আমরা দলের একজন নিবেদিত প্রান সংগ্রামী নেতা ও সহকর্মীকে হারালাম।

আজ বুধবার যাত্রাবাড়ী ধলপুর নারিকেল বাগান জামে মসজিদে বাদ জোহর মরহুমের জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব সাবেক মন্ত্রী মোস্তফা জামাল হায়দার, ঢাকা-৪ আসনের এম.পি. সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য এস.এম.এম. আলম, আহসান হাবিব লিংকন, এডভোকেট মাওলানা রহুল আমিন, যুগ্ম মহাসচিব এ.এস.এম. শামিম ও জাতীয় পর্টি, আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সর্বদলীয় নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মুসল্লি মরহুমের জানাজায় শরিক হন।

১৯৫৩ইং ২৫ শে ডিসেম্বর ধলপুর জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ গেনডারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়ার সময় শিক্ষা কমিশন বিরোধী আন্দোলনের অংশ গ্রহনের মধ্যে দিয়ে পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৬৮ সালে এস.এস.সি পাশ করে জগন্নাথ মহা বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শুরু করেন। যা এখন (জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়) নামে পরিচিতি এবং তিনি ১৯৬৯ এর গণ আন্দোলনের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেন। ১৯৭০ সালে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থীর পক্ষ সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেন। তিনি ১৯৭০ সালে জগন্নাথ কলেজ থেকে এস.এইচ.সি পাশ করে ঐ কলেজে বিএ ভর্তি হন। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় ঢাকা মহানগর ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে মুক্তিযোদ্ধাদের সুসংগঠিত করে সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনে জাসদ প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটি সম্পাদক মন্ডলি সদস্য এবং ঢাকা মহানগর জাসদকে সুসংগঠিত করেন। ১৯৭৯ সালে জাতীয় নিবাচনে জাসদের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা ৪ ডেমরা গুলশান আসনে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৮২ সাল পর্যন্ত জাসদ ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাসদ ভিক্তির পর জনদলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন। পরবর্তী সময়ে জাতীয় পার্টির বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৮ সালে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ৫১ নং ওয়ার্ড থেকে কমিশনার নির্বাচিত হন এবং ডেপুটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ সালে পুনরায় ৫১ নং ওয়ার্ডে কমিশনার হন। প্রায় দশ বছর এই দায়িত্ব সফল ভাবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯/০৬/২০১৮ইং তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে। এর আগ পর্যন্ত জাতীয় পার্টি (কাজী জাফর) প্রেসিডিয়াম সদস্য ও মহানগর জাতীয় পার্টির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
তার বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করেন। ডেপুটি মেয়র দায়িত্ব থাকা অবস্থায় ডেমরা থানায় মুক্তিযোদ্ধা কার্যালয় জমি প্রদান করেন। সাবেক ডেমরা থানার এলাকায় বর্নমালা উচ্চ বিদ্যালয়, দনিয়া একে উচ্চ বিদ্যালয় ও দনিয়া বিশ^বিদ্যালয় কলেজ সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং মসজিদ, মাদ্রাসা, কমিউনিটি সেন্টার এবং খেলার মাঠ তার অবদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।