খুব মনে পড়ে চন্দন

প্রকাশিত: ১০:১৪ অপরাহ্ণ, আগস্ট ১৫, ২০১৮

খুব মনে পড়ে চন্দন

মাসুদুল হাসান রনি
প্রতি বছর এদিনটি এসে মন ভারাক্রান্ত করে ফেলে।লিখতে গিয়ে তালগোল পাকিয়ে ফেলি।কি লিখব ভেবে পাইনা।
ভাবছি তোমার কি পরিচয় লিখব ?
ছড়াকার , শিশু সাহিত্যিক , গীতিকার , নাট্যকার, সম্পাদক, সাংবাদিক !
না কিছুই মনপুত হচ্ছে না । আমার বন্ধু চন্দন ,সে আজ সব পরিচয়ের উদ্ধে উঠে গেছে । চলে গেছে না ফেরার দেশে ।দেখতে দেখতে চারটা বছর পেরিয়ে গেছে।
আজো তার দুস্টুমি, সেন্স অফ হিউমার, হাসি আমাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে ।আমাদের সম্পর্ক প্রায় ৩০বছরের ।১৯৮৪ সাল থেকে আমাদের বন্ধুত্ব । দুজনেই তখন স্কুলে পড়ি । বিভিন্ন পত্রিকায় আমাদের লেখা ছাপা হয় । দৈনিক বাংলা’র সাত ভাই চম্পায় তখন নিয়মিত ছড়া লিখি ।একবার আমার চন্দনের ছড়া পাশাপাশি ছাপা হল । কিন্তু দুজনের নামের শেষাংশ ছেটে দিয়ে । চন্দন মাইন্ড করে সরাসরি সাত ভাই চম্পার সম্পাদক আফলাতুন ভাইয়ের রুমে চলে আসে ।আমি আগে থেকেই বসা ছিলাম ।দুজন তখনো কেউ কাউকে চিনি না। আফলাতুন ভাই সেদিন আমাদের দুজন কে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন । সেই থেকে আমাদের শুরু । মৃত্যুর আগেরদিন পযন্ত সেই সম্পর্ক ছিল অটুট ।
পত্রিকা সম্পাদনা,লেখালেখি ইত্যাদী নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও চন্দন ঠিকই আড্ডার সময় বের করে নিত।আড্ডা মাতিয়ে রাখায় চন্দনের জুড়িমেলা ভার ছিল।
চন্দন বাংলা ভিশন ছেড়ে বনানীতে বৈশাখী এবং গুলশানে মানব কন্ঠে যাওয়ায় ভাবতাম আমাদের যোগাযোগটা বুঝি আর আগের মতন হবে না! কিন্তু চন্দন সব আশংকা উড়িয়ে দিয়ে ঠিকই সন্ধ্যায় অফিস শেষে বনানী, গুলশান থেকে চলে আসত একুশে টিভির নীচে । লম্বা সময় ধরে আমরা আড্ডা দিতাম। কখনো সাথে থাকত এনটিভির সিনিয়র সাংবাদিক দিদার চৌধুরী , কখনো আরটিভির পাভেল বা অন্য কেউ।
২০১২/১৩ এর দিকে অসুস্থ হবার পর এদিকে আসা কমিয়ে দেয়ায় আমাদের দেখা সাক্ষাত কম হত। কিন্তু প্রায় কথা হত ফোনে । ফেসবুকে । হাজার হাজার স্মৃতি আমাদের । কোন টা রেখে কোনটা বলি ।
ওর সাথে এতো স্মৃতি বলে,লিখে শেষ করা যাবে না।
আমি চন্দনের লেখা ২টি নাটক বানিয়েছিলাম । ‘দ্যা মিলিওনিয়ার বয়েজ’ এবং মুখোশ । ও তখন বাংলা ভিশনে চাকুরী করে । আমরা কতদিন স্ক্রীপ্ট নিয়ে কথা বলেছি বাংলা ভিশনের সামনের পার্কে বসে । কত শত সিগারেট পুড়ে শেষ করেছি, কত শত কাপ চা নিমিষেই পান করেছি, তার কোন ইয়াত্তা নেই ।
ইত্তেফাক,সাপ্তাহিক রোববারে নীরু ভাইয়ের রুমের আড্ডা। আমাদের প্রিয় সেই নীরু ভাই মারা গেছেন মন্ট্রিয়েল শহরে।আমি এখন সেই শহরে।আর দিদার ভাই এখন নিউইয়র্কে।শুধু তুমি নেই চন্দন!
মনে পড়ে আমাদের কতদুপুর কেটেছে রামকষ্ণ মিশন রোডের দেশবন্ধু হোটেলের পরোটা ভাজি খেয়ে।কিশোর তারকালোক, রহস্যপত্রিকা আফিসে ম্যারাথন আড্ডার কথা ভুলি কি করে?
চন্দনের অনেক স্বপ্ন ছিল । অনেক বিষয় শেয়ার করত । কিন্তু শেষদিকের অনেক ঘটনাই আমি জানি না।আমাদের দুজনের ব্যস্ততাই তখন দুরত্বটা তৈরী করেছিল।
যেখানে থাকো বন্ধু ভালো থেকো।