খেলা দেখতে গিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা

প্রকাশিত: ১১:২৬ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ২১, ২০২৩

খেলা দেখতে গিয়ে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে কারা

জীবন তাপস তন্ময় 

ভারতের পরাজয়ে যারা খুশি হয়েছেন এই দেশে, বেশিরিভাগই রাজনৈতিক কর্মী । বিএনপি জামাত সমর্থক। তারা মনে করে ভারত সবসময়ই আওয়ামী লীগের পক্ষে। তাই তারা ভারতের পরাজয়ে পৈশাচিক উল্লাস করছে। অথচ এইসব কাণ্ডজ্ঞানহীনরা ভাবে না, ভারতের জন্যই আমরা মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ সহজ হয়েছিল। এটা বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন ছিল। সবসময়ই ভারত আমাদের পাশে আছে। প্রতিবেশী রাষ্ট্র। প্রতিবেশীর প্রতি আলাদা একটা মায়া থাকে। ভারত কখনই খারাপ প্রতিবেশী না। এটা প্রমাণিত। যে দলই সরকারে আসে, বাংলাদেশের পাশে তাকে। ভূ-রাজনৈতিক ব্যাপার অবশ্যই জড়িত। স্বার্থ জড়িত। এটা যেমন ভারতের, তেমনি আমাদেরও। স্বার্থহীন কোন সম্পর্কই স্থায়িত্ব পায় না। স্বার্থ ছাড়া কেউ কাউকে ভালোবাসে না। ব্যতিক্রম উদাহরণ হতে পারে না। ভারতের সব সরকারই কেন আওয়ামী লীগকে পছন্দ জানেন? বিকল্প যে দলগুলো আছে, বিএনপি জামাত বা অন্যান্য, সবাই আমেরিকা পাকিস্তানের দালাল। নিজের দেশকে ওরা আমেরিকা পাকিস্তানের প্রেসক্রিপশনে চালাতে চায়। দেশের প্রতি ওদের কোন মায়া নেই। অন্যের ক্রীড়ানক হয়েও ওরা নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়। স্বার্থ থাকবেই। কিন্তু সেটা যদি দেশের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে সেটা ক্ষতিকর। বিএনপি জামাত বা রাজাকার দেশদ্রোহীরা এটাই করছে মূলত। আওয়ামী লীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে ওরা নিজের দেশকে অন্যের ক্রীড়ানক বানাতে চায়। আর তথাকথিত বুদ্ধিজীবীরা যারা এই দলে আছে, সবাই আমেরিকার দালালি করে নিজের স্বার্থ চরিতার্থ করতে চায়। আমি বলেছি স্বার্থ থাকবেই। এটা খারাপ নয়। কিন্তু নিজের ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে যদি দেশকে হুমকির মুখে ফেলা হয়, সেটাই অন্যায়। সেটাই দেশদ্রোহীতা। আপনার আমার আশেপাশেই এমন অগণিত দেশদ্রোহী রয়েছে। এদের থেকে সাবধান।
যারা রাজনৈতিক কারণ ছাড়া অস্ট্রেলিয়ার পক্ষ নিয়েছেন, ভারতের পরাজয়ে খুশি হয়ে নয়, নিজের পছন্দের দল অস্ট্রেলিয়ার জয়ে আনন্দ উল্লাস করছেন, সেটা করতেই পারেন। স্বাভাবিক। এখানে আমার কিছু বলার নেই। আমি দোষও দেখি না। খেলাকে খেলা হিসেবেই দেখা উচিত মনে করে তারা অস্ট্রেলিয়াকে সাপোর্ট করেছেন, করতেই পারেন। অধিকার নিশ্চয়ই আছে। তবে অন্যের পরাজয়ে যারা পৈশাচিক উল্লাস করে, তারা অমানবিক অসুন্দর চরিত্রের। প্রতিপক্ষকে হারিয়েও সৌজন্যের স্বাক্ষর রাখে প্রায় সব বিজয়ী দল। নিজেদের জয়কে যেমন উদযাপন করার অধিকার রাখে, তেমনি পরাজিতের কষ্টটাও ছুঁয়ে যায় মানবিক পরায়ণতায়। এটাই সৌন্দর্য। হারজিত থাকবেই। তবুও এগিয়ে যেতে হয়। এই বিশ্বকাপ ভারত যদি ফাইনালে জয়লাভ করতো, তাহলে পূর্ববর্তী যে উজ্জ্বলতম সাফল্য স্বাক্ষর রেখেছে, এটা আরও বড় হয়ে চোখে পড়তো। একটা খেলায় পরাজয়ে বাকিসব খেলার জয়ের যে গল্পটা, এটা মুছে ফেলা যায় না। উচিত নয়। খেলা অনিশ্চিত বিষয়। যারা ফাইনালে কোয়ালিফাই করেছে, তারা অবশ্যই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েই এসেছে। কে কখন তাদের সেরাটা দিয়ে জ্বলে ওঠে, বলা যায় না। অস্ট্রেলিয়া সেই শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে। মনোবল হারায়নি। এই গ্যালারিতে অগণিত দর্শক, সবাই ছিল ভারতের সাপোর্টার। হয়তো নগণ্য কিছু সাপোর্টার ছিল অস্ট্রেলিয়ার। তবুও ওরা মনোবল হারায়নি। সবসময়ই মনে রেখেছে, গ্যালারিতে উপস্থিত না থেকেও একটা দেশ তাদের পাশে আছে। এই অনুভূতিটাই ওদের মনোবল হারাতে দেয়নি। ওরা নিজেদের মেলে ধরেছে লড়াইয়ে। প্রমাণ পেয়েছে সাফল্যে। এটাই জরুরি।
এই খেলা উপলক্ষে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী এসেছেন ভারতে। দুই প্রধানমন্ত্রী মিলিত হয়েছেন। শুধু কি তাই? যারা খেলায় অংশগ্রহণ করেছে, সব দেশের খেলা সম্পর্কিত নীতিনির্ধারণী দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হয়েছেন, এই যে একটা মিলনমেলা, এটাই খেলার সৌন্দর্য। পারস্পরিক সাংস্কৃতিক মনোভাব মিথস্ক্রিয়া, এটা মানবিক বিশ্ব বিনির্মাণে মহৌষধ হিসেবে কাজ করবে। এই ক্রিকেটে এটাই বড় অর্জন বড় সৌন্দর্য। একটা দেশ যখন জয়লাভ করে, তখন সে দেশের সকল মানুষই খুশি হয়। তেমনই একই দেশ যদি পরাজিত হয়, সবাই কষ্ট পায়। এই যে দেশপ্রেম, এটা বজায় থাকুক রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও। বজায় থাকুক সবখানেই। এমনটাই প্রত্যাশা।