খোদ নির্বাচন কমিশনারদের মধ্য থেকেই আপত্তি উঠেছিল

প্রকাশিত: ১২:৪৮ পূর্বাহ্ণ, মে ২৮, ২০১৮

খোদ নির্বাচন কমিশনারদের মধ্য থেকেই আপত্তি উঠেছিল

খোদ নির্বাচন কমিশনারদের মধ্য থেকেই আপত্তি উঠেছিল ।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রচারে সংসদ সদস্যদের সুযোগ দিতে বিধি সংশোধনে নির্বাচন কমিশনারেরা এক মত ছিলেন না ।পাঁচ সদস্যের নির্বাচন কমিশনে একজন নির্বাচন কমিশনার এ বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ ও দিয়েছিলেন। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতের ভিত্তিতে প্রস্তাবটি কমিশনের অনুমোদন পায়

নির্বাচন কমিশন সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, সিইসি ও চার কমিশনারের মধ্যে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার সাংসদদের প্রচারের সুযোগ দেওয়া নিয়ে নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন।

মাহবুব তালুকদার তার অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেছিলেন, এমপিদের প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ তৈরির (লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড) প্রচেষ্টা নস্যাৎ হবে। এটা করা হলে নির্বাচন কমিশন সব মহলে নিন্দিত হবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার কমিশন স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আচরণ বিধিমালার-২০১৬ সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার পর নির্বাচন পর্যবেক্ষকরাও একই শঙ্কার কথা বলেছেন।

বিলুপ্ত স্থানীয় সরকার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেন, খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে অনিয়ম ঠেকাতে নীরব ভূমিকার জন্য ইসির ভাবমূর্তি সঙ্কট দেখা দিয়েছে । বিধি সংশোধনে তা আরও ঘনীভূত হবে।

কমিশন সভায় ওই ‘নোট অব ডিসেন্ট’ পড়ে শুনিয়েছিলেন মাহবুব তালুকদার। সেখানে তিনি বলেন, “আমি সিটি করপোরেশন নির্বাচনে এমপিদের অংশগ্রহণে ভিন্নমত পোষণ করি। আমি মনে করি, এমপিদের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রচারে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হলে ক্ষমতাসীন দল ও বিরোধী দলের মধ্যে ভারসাম্য নষ্ট হবে। এতে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরির উদ্যোগ নস্যাৎ হবে।”

কাজী রকিব উদ্দীনের বিগত কমিশন যে এমপিদের সিটি নির্বচনে প্রচারের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে বিভিন্ন মহলের সমালোচনার মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছিল, সে বিষয়টিও উল্লেখ করেন মাহবুব তালুকদার।

তিনি তার নোটে লিখেছেন, “সংসদ সদস্যদের অতিগুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়া ঠিক হবে না। দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় এমপিরা স্থানীয় পর্যায়ে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এ দেশে বাস্তবতা হচ্ছে এমপিরা নিজেদের এলাকায় সর্বেসর্বা। এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা নিরপেক্ষভাবে নির্বাচনের দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।

“একটি রাজনৈতিক দলের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে তড়িঘড়ি করে আইন ও বিধিমালা পরিবর্তন করে যেভাবে মাননীয় এমপিদের অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির তালিকা থেকে বাদ দেয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা অভিনব। নির্বাচন কমিশনের নিজস্ব প্রয়োজন অনুযায়ী বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আমরা সর্বমহলে নিন্দিত হয়ে পড়ব। আজ পর্যন্ত এই সংশোধনের পক্ষে কেউ অভিমত প্রকাশ করেছেন বলে আমার জানা নেই।”

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের উপস্থিতিতে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।

বর্তমান আচরণ বিধিতে সংসদ সদস্যদের প্রচারে নামার সুযোগ না থাকায় আওয়ামী লীগ এই আচরণ বিধি সংশোধনের দাবি তুলেছিল।

ক্ষমতাসীনরা বলছিল, তাদের সংসদ সদস্যরা সিটি নির্বাচনে প্রচারের সুযোগ না পেলেও বিএনপি সংসদে না থাকায় সে দলের নেতারা প্রচারে নামতে পারছে, এতে সবার সমান সুযোগ থাকছে না।

অপরদিকে এই উদ্যোগের বিরোধিতা করে বিএনপি নেতারা বলেছিলেন, ক্ষমতাসীনদের ‘খুশি করতেই’ নির্বাচন আচরণবিধি সংশোধন করছে ‘সরকারের আজ্ঞাবাহী’ নির্বাচন কমিশন।

আচরণবিধি সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়ার পর প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদার পদত্যাগের দাবি তুলেছে দলটি।