গণজাগরণ মঞ্চের বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

প্রকাশিত: ৬:২১ অপরাহ্ণ, জানুয়ারি ১৫, ২০১৬

গণজাগরণ মঞ্চের বাংলাদেশে অবস্থিত পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাওয়ের আল্টিমেটাম

এসবিএন ডেস্ক: পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদের উদ্যোগ নিতে সময় বেঁধে দিয়ে গণজাগরণ মঞ্চ বলেছে, এর মধ্যে সরকার কোনো তৎপরতা না নিলে ঢাকায় দেশটির হাই কমিশন ঘেরাও করবে তারা। একই সঙ্গে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়াই বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমি রহমানকে ইসলামাবাদ থেকে ফিরিয়ে নিতে বলার পর পাকিস্তানকে সমুচিত জবাব না দেওয়ায় সরকারের সমালোচনাও করেছেন মঞ্চের নেতারা।

আজ শুক্রবার বিকালে শাহবাগের জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক বিক্ষোভ সমাবেশে মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকার বলেন, আমরা সরকারকে বলেছিলাম- যতদিন পর্যন্ত পাকিস্তান ক্ষমা না চাইবে, তাদের সাথে আমাদের কোনো রকম সম্পর্ক রাখার দরকার নেই। কিন্তু তারা জনগণের কথা শোনেননি। তাই আমরা আগামী ২০ জানুয়ারী পাকিস্তানি দূতাবাস ঘেরাও করবো। এদিন বিকেল ৩টায় গুলশান-২ এর গোল চত্বরে জমায়েত হয়ে সেখান থেকে পাকিস্তান দূতাবাস ঘেরাও করব। তবে ২০ জানুয়ারীর মধ্যে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আশ্বস্ত করার মতো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে ঘেরাও কর্মসূচি পুনর্বিবেচনা করা হবে বলে জানান তিনি।

ইমরান বলেন, পাকিস্তান যেভাবে বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে বহিষ্কার করেছে, তা পুরোপুরি শিষ্টাচার বহির্ভূত। এর কোনো ব্যাখ্যা পাকিস্তান অদ্যবধি দিতে পারেনি।

গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র বলেন, আমরা পাকিস্তানকে উপযুক্ত জবাব দিতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়েছিলাম। সরকার এর মধ্যে পাকিস্তানের এই ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে কোনো রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। এটা জাতির জন্য বড়ই লজ্জার।

তিনি বলেন, পাকিস্তানি কূটনীতিক ফারিনা এর আগে বাংলাদেশে পাকিস্তানের দূতাবাসকে জঙ্গিবাদের কাজে ব্যবহার করছিল, তাকে প্রমাণসহ বহিষ্কার করা হয়েছিল। যেহেতু আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী কূটনীতিকের অপরাধের বিচার তার নিজ দেশের করার কথা, সেখানে বাংলাদেশ সরকারের উচিত ছিল- ফারিনার উপযুক্ত বিচারের জন্য পাকিস্তানকে চাপ প্রয়োগ করা। কিন্তু সরকার তা করেনি।

এ ছাড়াও বিক্ষোভ সমাবেশে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রদের তাণ্ডবে পাকিস্তানের ইন্ধন রয়েছে বলে অভিযোগ করেন গণজাগরণ মঞ্চের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাদ্রাসার ছাত্র হত্যাকে কেন্দ্র করে যে হামলা হলো তাতে পরিষ্কারভাবে বোঝা যায় যে এটি খুবই পরিকল্পিতভাবে ঘটানো হয়েছে। এই হত্যাকে কারণ দেখিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রগতিশীল সংগঠন এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের ওপর যে হামলা হলো তাতে বোঝা যায় কারা এটা ঘটিয়েছে।

ইমরান আরো বলেন, এ রকম বিভিন্ন হামলার ইন্ধন দেওয়া হয় পাকিস্তান থেকে। এই উপমহাদেশের জঙ্গিবাদের কেন্দ্র যেমন পাকিস্তান, তেমনি বাংলাদেশে জঙ্গিবাদী কার্যক্রমের অন্যতম কেন্দ্র হলো পাকিস্তানি দূতাবাস।

এ সময় পাকিস্তানের কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানাতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সবাইকে রাজপথে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পাকিস্তানের ধৃষ্টতার বিরুদ্ধে সরকার যখন উপযুক্ত পদক্ষেপ নিচ্ছে না, সাধারণ জনতাকেই রাজপথে নেমে এসে হায়েনাদের ঔদ্ধত্যের দাঁতভাঙা সমুচিত জবাব দিতে হবে।

বাংলাদেশি কূটনীতিক মৌসুমী রহমানকে ‘বহিষ্কারের’ পর সরকার উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেওয়ায় তার প্রতিবাদ জানাতে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এই সমাবেশ করে গণজাগরণ মঞ্চ। সমাবেশ শেষে মঞ্চের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা শাহবাগ থেকে একটি মশাল মিছিল বের করেন। মিছিলটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি ঘুরে পুনরায় শাহবাগে এসে শেষ হয়।

Calendar

May 2021
S M T W T F S
 1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031  

http://jugapath.com