গাজীপুরে অভিযোগের তীর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে

প্রকাশিত: ৮:৫৪ পূর্বাহ্ণ, জুন ২৫, ২০১৮

গাজীপুরে অভিযোগের তীর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে

গাজীপুরে অভিযোগের তীর এখন নির্বাচন কমিশনের দিকে । ভোটগ্রহণের তিন দিন আগে অর্থাৎ শনিবার মধ্যরাতের মধ্যে সব বহিরাগতদের গাজীপুর সিটি করপোরেশন এলাকা ছাড়ার নির্দেশনা মানেন নি অনেকেই ।

প্রশাসনের সেই নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের সমর্থনে প্রচার চালিয়েছেন খুলনার নতুন মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক,আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল,বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলাম প্রমুখ ।

এমন কি ইসির নির্দেশনা উপেক্ষার এই ঘটনাগুলোর পাশাপাশি গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার হারুন-অর রশীদের ভূমিকা নিয়ে বিএনপি প্রশ্ন তুললেও কোনো ক্ষেত্রেই পদক্ষেপ নেয় নি ইসি ।

মঙ্গলবার গাজীপুর সিটি নির্বাচনে ভোটগ্রহণ হবে। তার আগে রোববার ছিল প্রচারের শেষ দিন। এ দিন প্রচারের সঙ্গে সঙ্গে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে সরগরম ছিল গাজীপুর ।
খুলনায় বিজয়ী মেয়র তালুকদার খালেক গাজীপুরবাসীর উদ্দেশে বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উন্নয়নের রোল মডেল। গাজীপুর পিছিয়ে থাকতে পারে না। তার প্রার্থীকে ভোট দিলে প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে আপনাদের জন্য প্রকল্প নিয়ে, টাকা নিয়ে আসতে পারবেন। আপনাদের সমস্যা সমাধান করতে পারবেন।এরপর দুপুরে ছয়দানা এলাকায় সংবাদ সম্মেলন করতে আসেন ক্ষমতাসীন দলের কেন্দ্রীয় নেতা নওফেল। বহিরাগতদের বিষয়ে নির্দেশনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে তিনি বলেন, আমরা জানতাম, ২৪ তারিখ রাত ১২টা পর্যন্ত আমি এখানে প্রচার চালানো যাবে। নির্বাচন কমিশনের এই নির্দেশনার বিষয়ে জানতাম না। আপনারা যেহেতু নজরে এনেছেন, এখন আর মতবিনিময় সভা চালু রাখা হবে না।

এরপর বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি আতিকুলকে নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর। বহিরাগতদের বিষয়টি আলোচনায় আসার পর আতিকসহ কয়েকজন মঞ্চ থেকে নেমে যান।

গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব কুমার দেবনাথ সাংবাদিকদের জানান, এ বিষয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে গত ১২ জুন।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার বহিরাগতদের অবস্থানের বিষয়টি তুলে ধরে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আওয়ামী লীগ আচরণবিধির কোনো তোয়াক্কা করছে না। নির্বাচন কমিশন বহিরাগতদের নির্বাচনী এলাকায় অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পক্ষে খুলনার বিতর্কিত ভোটের মেয়রসহ কেন্দ্রীয় নেতাদেরকেও আজকেও প্রচারণা করতে দেখা গেছে।

ইসি কর্মকর্তদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বহিরাগতদের এলাকা ছাড়ার বিষয়টি আচরণবিধি ও নির্বাচন বিধিতে না থাকলেও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা পরিপত্রে উল্লেখ করা থাকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্রে বলা হয়েছিল, এলাকার বাসিন্দা নয় বা ভোটার না, তাদের ২৩ জুন রাত ১২টার পূর্বেই নির্বাচনী এলাকা ত্যাগ করতে হবে।

তার আগে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে গিয়ে গাজীপুরের নির্বাচন নিয়ে তাদের নানা অভিযোগ প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও অন্য নির্বাচন কমিশনারদের জানিয়ে আসেন।

বিএনপির প্রতিনিধি দলের প্রধান আবদুল মঈন খান সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন কমিশন ‘ভালো নির্দেশনা’ দিলেও স্থানীয় প্রশাসন উল্টো কাজ করছে।

এক্ষেত্রে গাজীপুরের পুলিশ সুপার হারুনের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, একজন মানুষের কারণে পুরো নির্বাচন আজ প্রশ্নের সম্মুখীন হয়ে পড়বে। সেই মানুষকে প্রত্যাহার করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের আছে, সেই ক্ষমতা আপনারা ব্যবহার করুন। আমরা সেই অনুরোধ করেছি।

গাজীপুরে বসে সংবাদ সম্মেলন করে ধানের শীষের প্রার্থী হাসান সরকারও পুলিশি হয়রানির অভিযোগ তুলে বলেন, আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীকে পুলিশের গাড়িতে দেখা যাচ্ছে। খুলনার কারচুপির অভিজ্ঞতা সম্পন্ন পুলিশ সদস্যদের ইতোমধ্যে গাজীপুরের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের জন্য আনা হয়েছে।”

নয়া পল্টনে বিএনপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, গাজীপুরে আমি গতকাল গিয়েছিলাম। আমি যেটা প্রত্যক্ষ করেছি, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আসলে নেতা-কর্মীরা নির্বাচনটা পরিচালনা করছে না, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে এটা পরিচালনা করছেন ওখানকার এসপি। তার অধীনে যে পুলিশ ফোর্স, ডিবি আছে, তারা এটা পরিচালনা করছে।