গুচ্ছ গীতি কবিতা

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, আগস্ট ৮, ২০২৩

গুচ্ছ গীতি কবিতা

প্রণব কুমার সত্যব্রত

 

 

এক

যদি বলি এ হৃদয় থেকে যে হৃদয়ে ঈশ্বর থাকে

যদি বলি আমার হাতে হাত রাখো, তুমি রাখবে তো?

বিশ্বাস করো ওগো প্রিয় বুকে জমেছে  নিকোটিন

তবু রোজরোজ সিগারেট টানি চার ডোজ প্রতিদিন।

জানি নিঃশ্বাসের নেই কোনো বিশ্বাস

তারপর স্বর্গ নরকে বসবাস,সে খানে আমার হবেতো?

পৃথিবীটা ঘুরছে বলছে কোন কান্ডজ্ঞানহীন বিজ্ঞানী

আমার পাশে ঘোরোনাতো, তুমি আমার পৃথিবী!

উত্তর থেকে দক্ষিন বলয়,ধ্বংসের মুখে যাবে একদিন

তুমি আমি ঠিক রয়ে যাবো ছাইপোষা বেদুয়িন।

যদি বলি অনুপমা আমার কথা শুনবে তো?

শুধু এই হাতে হাত রাখো।

 

দুই

সাগর থমকে গেছে ওরুপের ঝলক দেখে

নদী তার পথ বদলেছে সেরুপের আবেশেতে

এই শরীরের প্রাণ বুঝি যায়  ওই তনুর বাহার দেখে।।

মনতে পারছিনা হায়,তুমি কি মানবী?

স্বর্গের উর্বসী নাকি স্বাক্ষাত দেবী

অনুপমা তুলনা হয়না,অতুলনীয় বর্ণনা বটে।।

জানিজানি চাঁদ ঈর্ষা করে তোমার ওই রুপ দেখে

কোঁকড়ানো কালো কেশ দেখে মেঘেরাও মান করে

হাতেহাত রাখো যদি রাখবো হৃদয় পটে।।

 

তিন

তুমি শুধু তুমি আমার সকল গানের সুর

তোমার জন্য আমার বীণা বাজে সুমধুর।

তুমি আমার সকল গানে সকল সাধনায়

তুমি আমার ধ্যানের দেবী অপরুপ প্রতিমায়।।

চিনেছি তোমায় অনেক আগে মন হারানো খেয়ালে

হৃদয়ের ঘটে মনোময় পটে রেখেছি ওগো স্বর্ণ মন্দিরে

তুমি যে আমার, আমার ওগো আবদ্ধ ওই কায়ায়

তোমার টানে বারেবারে আসি তোমারি মায়ায়।।

যাতনা ভুলেছি বারবার আমি তোমারি বাসনাতে

তোমার বিরহ তোমারি প্রেম পেয়েছি একি সাথে

দুঃখ দিয়োছো আমায় তুমি, নিয়েছি আর্শীরবাদে

বিন্দু মাত্র খেয়াল করিনি মন ভাঙ্গীনি তাতে

তুমি ওগো তুমি আমার,সুরের অমৃত ধারায়।।

 

চার

বাজেনা বাজেনা এই বাঁশিতে আর সুর বাজেনা

এতোযে বেসেছি ভালো বিধাতা জানে

অবশেষে কেনো সে আমার হলোনা??

ওই মুখে চাঁদের কিরণ লাগে

এতো স্নিগ্ধতা দেখিনি আগে

অনুপমা তুমি বুঝলেনা

ভালোবাসা মিথ্যে তবে ছলোনা।।

তবলার লহড়িতে তুলি তান

এ কথা কি জানো প্রিয়া তুমি মোর প্রাণ?

মরুরো প্রান্তে কাঁদে আবাবিল পাখিরা

বোঝনা গো তুমি আমার এ কলিজা।।

তুমি ওগো তুমি মোর গান আর কবিতায়

এ কবির ভাবনায় থাকো যে সারাবেলায়

ছলনাময়ী তুমি এক ললনা

ছিলে তো দেবী তুমি ওগো অনন্যা।।

 

 পাঁচ

যদি চাঁদ বলে তুমি সুন্দর নাও

আমি মানবোনা

যদি ফুলে বলে তুমি রুপবতী নাও

আমি মানবোনা।।

রুপের দারুন মায়ায় আমারে জড়ালে

রাঙ্গিয়ে দিলে মন বসন্তের আবেশে

হেসোনা হেসোনা তুমি ওগো অনন্যা

যদি ফুল বলে তুমি রুপবতী নও

আমি মানবোনা।।

যে সুখে মরে প্রেম জানো কি তুমি

পিপাসায় কাতর, আমি মরুভূমি

তিয়াসার জল তুমি ওগো ললনা

যদি ফুল বলে তুমি রুপবতী নও

আমি মানবোনা।।

 

 প্রণব কুমার সত্যব্রত একজন বহুভাষী কবি,লেখক,গীতিকার,সুরকার,সংগঠক ও গবেষক।

তিনি ১৯৯৮ সালে ২০ অক্টোবর কুড়িগ্রাম জেলার সোনাবর গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।তার পিতার নাম রাজকিশোর রায় মাতা ধনমালা রায় তিনি পরিবারের বড় সন্তান।কবি প্রণব কুমার সত্যব্রত মূলত ছোটবেলা থেকে ভাবুক ছিলেন,তিনি প্রথম শ্রেনী থেকে ছড়া ও কবিতা লেখার চেষ্টা করতেন।বিশেষ করে কাজী নজরুলের জীবনী ও রবি ঠাকুরের জীবনী তার মায়ের কাছে শুনে কবি এবং কবিতার প্রতি ভালোলাগা সৃষ্টি হয়।তিনি এ পর্যন্ত পাঁচটি গ্রন্থ প্রকাশ করেছেন।তার প্রকাশিত ও অপ্রকাশিত গানের সংখ্যা ৫০০ অধিক।আধুনিক,পপ,রক এবং লোক গান নিয়মিত লিখে যাচ্ছেন।সাহিত্য সাধনার পাশাপাশি তিনি সরকারি চাকুরিতে কর্মরত আছেন।তিনি সাহিত্যে “জয়গান পুরস্কার” “সেরা পুস্তক পুরস্কার” “পল্লীকবি জসীম উদ্দীন স্মৃতি পদক” লাভ করেন।