গ্রামকে শহর বানাচ্ছেন স্যার এনামুল ইসলাম

প্রকাশিত: ২:০৭ অপরাহ্ণ, মে ১, ২০২১

গ্রামকে শহর বানাচ্ছেন স্যার এনামুল ইসলাম

 আহমেদ বকুল 

বাংলাদেশের একটি গ্রাম শহরে রূপান্তরিত হয় দেশের মডেল হতে চলেছে। গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছেন সিলেটের একজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী-ধনাঢ্য ব্যবসায়ী-দরদী মনের মানুষ, স্যার এনামুল ইসলাম। গ্রামের মানুষ গ্রামে থেকে শহরের সকল সুযোগ-সুবিধা ভোগ করার মানষে বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছেন তিনি। এনাম শুধু স্বপ্নবাজ নয় তিনি স্বপ্নের বাস্তবায়ন কারী। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্য পূরণে তিনি কয়েক ধাপ এগিয়ে চলেছেন। একজন আলোকিত মানুষ। মানুষের অকৃত্রিম বন্ধু,সমাজ হিতৈষী, দেশ প্রেমিক ব্যক্তিত্ব স্যার এনামুল ইসলাম এর স্বপ্ন হলো গ্রামকে শহর করা। সেই উদ্দেশ্য নিয়ে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও এ তার পিতার নামে গড়ে তুলছেন ‘হাজী মোঃ আব্দুল মছাব্বির সিটি’। এই সিটিতে আধুনিক জীবন যাত্রার সকল সুযোগ সুবিধা থাকছে। এই সিটির কাজ ইতিমধ্যে ৬০ পারসেন্ট কমপ্লিট হয়েছে। সিটিতে রয়েছে আধুনিক সুযোগ সুবিধা সম্বলিত ব্যবস্থা। ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের জন্য নির্মাণ করা হয়েছে হাজী আব্দুল জলিল গ্রান্ড মসজিদ, স্যার এনামুল ইসলাম ইসলামিক রিচার্স সেন্টার, জাহানারা সেন্টার, রয়েছে পাঠাগার, বিবাহ হলরুম, অফিস কক্ষ, শিক্ষার্থীদের মনোরম ক্লাসরুম কনফারেন্স হল, সিকি সুমিট, গ্র্যান্ড সুপার মার্কেট, ফাইভ স্টার মানের হোটেল, স্যার এনামুল ইসলাম কনভেনশন সেন্টার, স্যার এনামুল ইসলাম ফাউন্ডেশন হসপিটাল, ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হসপিটাল ফার্মেসী, স্যার এনামুল ইসলাম ইনস্টিটিউশন অব নার্সিং মেডিকেল টেকনোলজি, স্যার এনামুল ইসলাম ইনস্টিটিউশন অব নার্সিং এন্ড মেডিকেল টেকনোলজি, ইটমাম এন্ড ইনকিয়াড নিকেতন, ইত্তেদা এন্ড কায়নাত নিকেতন, আজিজ সলিমুল্লাহ প্যান্থ হাউস, হাজী আব্দুল মোছাব্বির নিকেতন, স্যার এনামুল ইসলাম গ্রামার স্কুল এন্ড কলেজ সহ আধুনিক জীবনযাত্রা সকল উপকরণ। এই সিটি নির্মাণে ব্যয় করা হচ্ছে,পনের হাজার কোটি টাকা প্রায়। চাকরিজীবী নিয়োগ করা হবে সাড়ে তিন থেকে চার হাজার। ইতিমধ্যে সাড়ে তিনশ জন কর্মী নিয়োগ দেয়া হয়েছে। স্যার এনাম যুক্তরাজ্যে বসবাস করলেও দেশের প্রতি রয়েছে তাঁর অকৃত্রিম টান। স্বদেশের মাটি ও মানুষ থাকে সব সময় তাড়িত করে। জাতির পিতার কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার কাঁধে আরো কিছু দায়িত্ব তুলে দিয়েছেন। আর সে দায়িত্ব হলো, দেশের জন্য ভালো কিছু করা। যে কাজে সমাজ রাষ্ট্র উপকৃত হয়। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত গরীব অসহায় মানুষদের জন্য এনামের মন কাঁদে। তাঁদের জন্য একটা কিছু করতে পারলে নিজেকে অনেকটা তৃপ্ত মনে হয়। তাঁর এই বিশাল কর্মযজ্ঞের অন্যতম কারণ হলো,সকল শ্রেণী-পেশার মানুষ যেন এই সিটি থেকে নানাবিধ সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই সিটির থেকে আয়ের সকল অর্থ মানব কল্যাণ এবং আল্লাহর রাস্তায় ব্যায় করা হবে। স্যার এনাম জীবনে অনেক প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠে নিজেকে একজন সফল মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মানুষের দরদি বন্ধু এনাম ১৯৬৭ সালে শিল্পনগরী ফেঞ্চুগঞ্জের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা হাজী মোঃ আব্দুল মছব্বির, দাদা আবদুল জলিল, উনার পিতা সৈয়দুল্লা খান, সৈয়দুল্লাহ খানের পিতা মোহাম্মদ আলী খান। ১৯৭৯ সালে সিলেটের দক্ষিণ ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত ব্রাহ্মণ গ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক স্তর শেষ করেন। ১৯৮৪ সালে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত কাসেম আলী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৬ সালে সিলেট এম সি কলেজ (সিলেট বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ) থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। অতঃপর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান । সেখানের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে BSC ও MBA ডিগ্রি অর্জন করেন। কর্মজীবনে তিনি একজন প্রসিদ্ধ ব্যবসায়ী। ব্যক্তি জীবনে তিনি চার সন্তানের জনক। সংসার জীবনে সহধর্মিণী সৈয়দা সাজিয়া ইসলাম তাঁর সকল মহতী কর্মকাণ্ডে উৎসাহ দিয়ে আসছেন। এনামুল ইসলাম ব্যবসার পাশাপাশি মানবতার কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সদস্য। ১৯৮৪ সালে তিনি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সিলেট এমসি কলেজ শাখার সদস্য হন। পরবর্তীতে জননেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ১৯৮৭ সালে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগ ম্যানচেস্টার শাখার সাধারন সম্পাদকের দায়িত্ব নেন এবং পরের বার নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক এরপর প্রেসিডেন্ট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। বিদেশের সোনালী জীবনের হাতছানি কে পিছনে ফেলে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম কারিগর হিসেবে নিজেকে নিবেদিত করেছেন। তিনি এদেশের জনমানবের সেবা করতে বদ্ধপরিকর। যার নজির ‘হাজী মোঃ আব্দুল মছাব্বির সিটি’র মাধ্যমে একটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরের মাধ্যমে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে যাচ্ছেন! মানুষের অধিকতর সেবা করার জন্য তিনি সিলেট- ৩ আসনের উপনির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী। তিনি মনে করেন দায়িত্ব পেলে দায়িত্ব পালনের দায়িত্ব আরো বেশি বেড়ে যায়। তিনি তাঁর জীবনের সকল অর্জনের পুরোটাই এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে চান। ইতিমধ্যে তিনি গৃহহীনদের জন্য ১০০ টি পাকা ঘর নির্মাণ করে দেয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন। ভবিষ্যতে এধারা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান। এনাম বলেন, মানুষ পৃথিবীতে আসার পিছনে কিছু কারণ রয়েছে। মহান আল্লাহ পাক কোন কারণ ছাড়া কাউকে সৃষ্টি করেননি। মানুষকেই আবিষ্কার করতে হবে তিনি কি কারনে এসেছেন। পৃথিবীর বুকে স্বাক্ষর রেখে যেতে পারলে মানব জনম সার্থক। নয়তো জিন্দেগি বৃথা। আমি আমার জীবনকে মানবকল্যাণে নিয়োজিত করেছি মহান আল্লাহ পাককে রাজি খুশি করার জন্য। জননেত্রী শেখ হাসিনা যদি আমাকে উপযুক্ত মনে করেন আর আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রদান করেন তবে আমি প্রতিদ্বন্দিতা করব। আমার নির্বাচনী এলাকার মানুষ যদি আমাকে চায়; তাঁদের সমর্থন ব্যক্ত করে,যদি মনে করে আমি মানুষের জন্য কিছু করতে পারবো- তাহলে আমি আশাবাদী-মানুষের আশা পূরণে নিশ্চয় সফল হব।

 আহমেদ বকুল ঃ সভাপতি সিলেট মিডিয়া