গ্রীষ্মের দিনগুলোও হোক সুখময়

প্রকাশিত: ১:৩৮ পূর্বাহ্ণ, মে ১০, ২০১৮

গ্রীষ্মের দিনগুলোও হোক সুখময়

 শেলী সেনগুপ্তা
নতুন বছরের আগমন ঘটেছে, তাকে বরণ করেও নেয়া হয়েছে সাদরে। নতুন বছর আমাদের জন্য অনেক আনন্দ নিয়ে আসে, তবে সাথে করে কিছু অনুষঙ্গও নিয়ে আসে, যা চাইলেও এড়ানো যায় না। যেমন কালবৈশাখি ঝড়। বৈশাখমাসের সাথে এর সুগভীর ভালোবাসার সম্পর্ক। দামাল ছেলের মতো প্রকৃতির কোলে ঝাঁপিয়ে পড়ে সব কিছু তছনছ করে দিতে চায়। আর থাকে সাথে নানাধরনের অসুখবিসুখ। রাজধানীর প্রায় ঘরে ঘরে অসুখবিসুখ অনাকাঙ্ক্ষিত অতিথির মতো হাজির হয়। আমরা জানি সময়টা গরমের। বাইরে তীব্র রোদ,গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহ। এসময় নানা ধরনের অসুখবিসুখ মানুষকে বিপর্যস্ত করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য শরীরে পানিশূন্যতা, জ্বর, হিটস্ট্রোক, পেটের অসুখ, ত্বকের অসুখ ইত্যাদি।
নববর্ষ বরণ করার আনন্দকে উপভোগ করার জন্য শারীরিক সুস্থতা অপরিহার্য। অথচ এসময়ই মানুষ বেশি বেশি অসুস্থ হয়। একটু সচেতন হলে এসময়ও সুস্থ থাকা সম্ভব। গ্রীষ্ম আসে প্রচন্ড দাবদাহ নিয়ে। এসময় বাইরে যাওয়ার সময় ছাতা এবং সানগ্লাস সাথে রাখা জরুরী, তাছাড়া সাথে বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিও থাকা দরকার। মানুষ বুঝতেও পারে না তীব্র গরমে শরীর থেকে কত দ্রুত পানি বের হয়ে যায়, পানিশূন্যতা শরীরকে দুর্বল করে তোলে। রক্তচাপ কমে যায়, মানুষ অজ্ঞান হয়ে যেতে পারে এবং কিডনিও আক্রান্ত হতে পারে। এর একমাত্র প্রতিকার নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে প্রচুর পানি পান করা। শরীরকে কোনভাবেই পানিশূন্য হতে না দেয়া।
গ্রীষ্মকালে আবহাওয়ার চরম ভাবের কারনে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা অনেকাংশে কমে যায়, এবং নানা ধরনের ভাইরাস আক্রমন করে। তাই ভাইরাস জ্বরের প্রকোপ থাকে বেশি।
এসময় প্রচন্ড গরমে হিটস্ট্রোকও হয়। এটি একটি ভয়ংকর সমস্যা, রোগীর রক্তচাপ কমে যায়,নাড়ির স্পন্দন ক্ষীণ ও দুর্বল হয়ে যায়। সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে।
পেটের অসুখ যেন এ সময়ের একটি স্বাভাবিক বিষয়। তাছাড়া অতিরিক্ত গরমে এবং সূর্যের অতিবেগুনী রশ্মীর কারণে কারো কারো ত্বকে এলার্জি দেখা দেয়। শরীরে ঘাম জমে নানা ফাংগাল ইনফেকশনও হতে পারে।
যা কিছুই হোক, সবার উপরে সুস্থতা। তাই ঋতুর সাথে তাল মিলিয়ে নিজেকে এবং নিজের পরিবারকে সুথ রাখতে হবে। গরম কাল আসার আগেই পরিবারের সবার জন্য ছাতা কিনে রাখতে হবে, বাইরে যাওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা ব্যবহার করতে হবে। সাথে থাকবে রোদ চশমা ও পানির বোতল।
এসময় শিশুরা ক্লান্ত থাকে, তাই রাস্তার রঙ্গীন সরবত দেখলে পান করার ইচ্ছে জেগে ওঠে, নিজেদের নিবৃত্ত করতে পারে না। শিশুদের বাইরের খাবার থেকে দূরে রাখতে হবে এবং ঘরে তৈরি খাবারের প্রতি আকৃষ্ট করতে হবে। বিষয়টির দিকে পিতামাতার সাথে সাথে শিক্ষকদেরও খেয়াল রাখতে হবে।
আজকাল রাজধানীর বিভিন্ন পরিবহনে কাটা ফল বিক্রির হিরিক পড়েছে। বিশেষ করে গরমকালে কাঁচা আমের ভর্তা, শশা, রঙ্গীন সরবত এমনকী বোতলজাত পানীয়ও। অত্যন্ত আকর্ষনীয়ভাবে উপস্থাপন করে ফলে ক্রেতারা সহজেই আকৃষ্ট হয়। একটু সচেতন দৃষ্টি ছড়িয়ে দিলে দেখা যাবে এগুলো মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত নয়। এই খাবার দীর্ঘসময় খোলা রেখে বিক্রি করে তাতে ধুলাবালির আস্তর পড়ে যায় , তাছাড়া অনেক্ষণ আগে কাটা ফলে নানা ক্ষতিকর ভাইরাস জন্মে। এসব জিভে জল আনা খাদ্য পরিত্যাগ করতে পারলে অনেক ধরণের অসুস্থতা থেকে মুক্ত থাকা যায়।
সুস্থ থাকার জন্য যে সবার আগে দরকার খাদ্য গ্রহণ করার আগে হাত ধোয়া। বিশুদ্ধ পানিতে হাত ধুয়ে খাবার খেতে হবে। নিয়মিত সাবান দিয়ে স্নান করতে হবে।
এসময় গুরুপাক খাদ্য পরিহার করে হালকা তেল মশলা দিয়ে রান্না করা খাবার খাওয়া দরকার।
প্রত্যেকের নিজস্ব বাসস্থানসহ চারপাশের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।
প্রকৃতি মানুষের প্রকৃত বন্ধু। তাই গ্রীষ্মের দাবদাহ থেকে মানুষকে মুক্ত রাখার জন্য এসময় প্রচুর পরিমাণে তরমুজ ,বাঙ্গী ইত্যাদি পাওয়া যায়। এগুলো শরীরে পানিশূন্যতা দূর করে। প্রতিটি ঋতুতে পাওয়া ফল গ্রহণ করলে শরীরে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা জন্মে।
নতুন বছর আমাদের জন্য অনেক নতুন সম্ভার নিয়ে এসেছে। তাকে গ্রহণ করে সুখি হতে হবে। সুখি হবার জন্য সুন্দর একটা মন দরকার। মন যেহেতু শরীর বাইরে নয় তাই শরীর ভালো থাকাটাও মন ভাল থাকার মধ্যে পড়ে। তাই সেভাবেই নিজেকে প্রস্তুত করতে হবে। সুস্থ দেহের মতো সুস্থ মনের চর্চা করতে হবে। পরিপূর্ণ বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ ও হালকা ব্যায়াম অথবা খোলা বাতাসে হেঁটে বেড়াতে হবে। সৌভাগ্যের বিষয় হলো আজকাল ঢাকার প্রায় প্রতিটি এলাকায় সুন্দর পার্কের ব্যবস্থ আছে, যেখানে স্বাস্থ্যসন্ধানী প্রভাতী ও বৈকালিক ভ্রমণ করতে পারে।
মানুষের অসুখ-বিসুখ থাকবেই, তবে স্বাস্থ্যসচেতন হয়ে স্বাস্থ্যকর জীবন যাপন করলে, সুস্থ দেহ ও সুস্থ মনের অধিকারী হওয়া যায়।
ঢাকায় বসবাসকারী প্রতিটি মানুষের জীবনে ঋতুবৈচিত্র নিয়ে আসুক আনন্দময় সম্ভার, প্রতিদিন হোক সুখের দিন।