ঘুরে এলাম মহাশূন্যের তীর্থস্থান নাসা

প্রকাশিত: ১২:০০ অপরাহ্ণ, ফেব্রুয়ারি ৬, ২০২১

ঘুরে এলাম   মহাশূন্যের তীর্থস্থান  নাসা

সৌমিত্র দেব

স্পেস সেন্টার নাসা! অনেক আগেই এর সম্পর্কে পড়েছি। কিন্তু কখনো চর্মচক্ষে সেটা দেখতে পাব, রকেটের ভেতর ঘুরে বেড়াব, আপন খোয়ালে পরিদর্শন করতে পারব পুরো এলাকা,এ কথা স্বপ্নেও ভাবি নি। সুযোগটা  এলো , যখন আমি উত্তর আমারিকান সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনে অংশ নিতে হিউস্টন শহরে গেলাম ।   বিজ্ঞানের ছাত্র নই, সে কারণে নাসায় যা দেখেছি তার সম্পর্কে পুঙ্খানুপুঙ্খ বর্ণনা দেওয়া আমার পক্ষে অসম্ভব। আন্তরিকতার অভাব না থাকলেও মহাশূন্য অভিযানের সেই তীর্থে নিজেকে একজন অর্বাচীন হিসেবেই আবিষ্কার করেছি।

যেভাবে জাগিল সাধ
জর্জ বুশ এয়ারপোর্ট থেকে আমাদের সাদরে অভ্যর্থনা জানিয়ে নিজ বাড়িতে নিয়ে গেলেন প্রবাসী বাংলাদেশী ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান চৌধুরী। তার স্ত্রী সৈয়দা কুসুম কলি সাহিত্য সম্মেলনের অন্যতম উদ্যোক্তা। হিউস্টন শহরে তাদের প্রাসাদোপম বাড়িতে আন্তরিক অতিথেয়তার পথশ্রমের ক্লান্তি দূর হয়ে গেল। আমনিুর-কুসুম দম্পতির দুটি মাত্র সন্তান। এক ছেলে ও এক মেয়ে। ছেলে বড় মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ে। মেয়ে ছোট। তাদের কাছেই প্রথম জানলাম হিউস্টন শহর ও শহরের আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলো সম্পর্কে । শহর থেকে কিছু দূরেই গ্যালভেস্টন সমুদ্র সৈকত। আছে বিশাল বিশাল খামারবাড়ি। প্রেসিডেন্ট বুশের বাবা সিনিয়র জর্জ বুশরও একটা খামারবাড়ি আছে। আছে প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে নির্মিত বাংলাদেশ আমেরিকান সেন্টার। আর আছে নাসা। ওদের কাছে জানা গেল এই নাসাতেই নাকি শাহরুখ খানের অভিনীত স্বদেশ ছবির একটা অংশের শুটিং হয়েছে। মার্কিনীরা মহাশূন্যে যেসব অভিযান চালাচ্ছে তার নেপথ্যে আছে এই স্পেস সেন্টার। নাসার এত কাছে এসে তা না দেখার কোনো মানে হয় না।

সময় বড় কম
সাহিত্য সম্মেলন চলাকালে আমরা পরিচিত হলাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন, হিউস্টনের চেয়ারপারসন অধ্যাপিকা সেলিনাকে রহমানের সঙ্গে। তার স্বামী হাসান রহমান নাসার একজন কর্মকর্তা। তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পাস করে ভাগ্যান্বেষণে আমেরিকায় পাড়ি জমিয়েছেন। প্রথম দিকে খুব সম্মানজনক জীবিকা জোটেনি। পড়তে চেয়েছিলেন অর্থনীতি নিয়ে। কিন্তু দেখলেন এর বাজার মূল্য কম। শুরু করলেন ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়া। এক পর্যায়ে শিক্ষাজীবন শেষে কাজ পেলেন হিউস্টনের এই স্পেস সেন্টার নাসায়। বর্তমানে তিনি সেখানকার সায়েন্স কন্ট্রোল সেন্টারের ম্যানেজার। তার এই বিভাগে ডিজানিংসহ স্পেস থেকে শাটল পর্যন্ত সবকিছু বাঙালিরাই নিয়ন্ত্রণ করে। অন্যান্য বাঙালি যেসব কর্মকর্তা সেখানে কাজ করেন তাদের মধ্যে আছেন ডেরা আর্কাইভস লিডার আফজাল আহমেদ, সিস্টেম অ্যাডমিনিস্ট্রেটর মোহাম্মদ প্রদানসহ আরো অনেক বাঙালি। এরা শুধু বাঙালি নয়, একদম বাংলাদেশী। হাসান রহমানের বাড়ি পাবনা, তবে বড় হয়েছেন খুলনায়। তিনি বলেন, নাসার হেড কোয়ার্টার ওয়াশিংটন ডিসিতে। বিভিন্ন প্রদেশে রয়েছে আটটি শাখা। হিউস্টন থেকে মূলত স্পেসের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। হাসান রহমান আমাদের দাওয়াত করেন তার বাড়িতে। সেখান থেকেই নাসায় নিয়ে যাবেন। আমিনুর রহমান চৌধুরীর বাড়ি থেকে নাসা বেশ দূরের পথ। তার ওপর তার ব্যবসায়িক ব্যস্ততা বেশি।
কিন্তু সম্মেলন শেষ হওয়ার পর পরই আমাদের ডাক এলো নিউইয়র্ক থেকে। সেখানকার কবি-সাহিত্যিকরা ছাড়াও আত্মীয়-পরিজন-বন্ধু-বান্ধবরা ঘন ঘন ফোন করছেন। ভাবলাম সেখান থেকে ফিরেই নাসায় যাব। কিন্তু বন্ধু-বান্ধবের টানাহ্যাঁচড়ায় সেখানে থাকতে হলো পাক্কা ১০ দিন। ফেরার আগে নিউইয়র্কের বন্ধু সীতেশ ধর বলে দেন, হিউস্টনে নাসা দেখতে যেন ভুল না করি।

নাসায় যাওয়ার সুযোগ
হিউস্টনে সবাই প্রাইভেট গাড়ির ওপর নির্ভরশীল। আমিনুর রহমান সাহেব যেহেতু তার ব্যবসার কাজে খুব সকালে বেরিয়ে যান সেখানে আমি নাসায় যাব কার সঙ্গে। মুশকিল আসান করলেন আবু নাসের। তার ডাকনাম টিংকু বলে তাকে আমি টিংকু ভাই নামেই ডাকি। বাংলাদেশে এক সময় আমলা ছিলেন। ভালো কবিতা আবৃত্তি করেন। তিনি নিজে থেকেই প্রস্তাব করলেন তার সঙ্গে করে আমাকে নাসায় নিয়ে যাবেন । আমি সানন্দে রাজি হয়ে গেলাম। হিউস্টনের প্রশস্ত পথ একেবারে জনবিরল। হয় সেখানে গাড়ির মিছিল দেখা যাবে, না হলে খাঁ খাঁ শূন্যতা । কোনো মানুষকে কোথাও হাঁটতে দেখা যায় না। রাস্তার দু’ধারে মাইলের পর মাইল জমি পতিত পড়ে আছে। টিংকু ভাই বললেন, এক সময় টেক্সাসই ছিল আমেরিকার শস্যভাণ্ডার। এখন মেক্সিকো থেকে বেশির ভাগ শস্য আসে। হিউস্টনের এসব পতিত জমিতে তেলের খনির সন্ধান পাওয়া গেছে। হিউস্টন শহরের মাঝখানে বেশ কিছু এলাকা শুধু ফ্লাইওভারের ওপরে ফ্লাইওভার। সেসব আঁকাবাঁকা ফ্লাইওভারের পথ পেরিয়ে এক সময় হাজির হলাম নাসার দ্বারপ্রান্তে। টিকিট বিক্রি থেকে শুরু করে সিকিউরিটির দায়িত্ব পর্যন্ত অনেককিছুই দেখলাম আফ্রিকান ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত ছেলেমেয়েরা করছে। ভেতরে ঢুকে দেখলাম বিশাল এলাকাজুড়ে ঘুরে পোশাক, মূর্তি, নানা রকম মহাশূন্যযানের ছবি ও মডেল। ঘুরে ঘুরে দেখলাম সেসব। মাঝে মধ্যেই জ্বলে উঠল আমার ক্যামেরার ফ্লাশ। ডামি নভোযানের ভেতর ঢুকে কোনো কোনো যন্ত্রপাতি আনাড়ির মতো নাড়াচড়াও করেছি। টিংকু ভাই আমাকে সব বুঝিয়ে দিয়েছেন।

ছুঁয়েছি চাঁদের মাটি
ইনডোর ছেড়ে এরপর আমরা ঢুকলাম নাসার ভেতরের প্রশস্ত এবং সংরক্ষিত এলাকায়। আমাদের ভালোভাবে তল্লাশি চালিয়ে ভেতরে ঢোকানো হলো। এমনকি এক জায়গায় তুলে নেওয়া হলো ছবি। তারপর বাসে করে নিয়ে যাওয়া হলো ভেতরে। সেখানে চাঁদে অভিযানের ওপর প্রামাণ্যচিত্র দেখানো হলো। আরেক জায়গায় দেখানো হলো মহাশূন্য অভিযানের প্রথম দিককার নায়কদের ছবি ও ইতিহাস । রাশান ও চাইনিজ দুজন অভিযাত্রী সেখানে বীরের মর্যাদা পাচ্ছেন। চাঁদে পাওয়া বিভিন্ন নিদর্শন সেখানে সংরক্ষণ করা আছে। কাচের ভেতর সযত্নে রাখা চাঁদের মাটি। স্পর্শ করলাম। অগ্রজ এক বাঙালি লেখক এর নাম রেখেছেন চন্দ্রশিলা। ফেরার পথে পেলাম একটি প্যাকেটে আমার আর টিংকু ভাইয়ের দুটো ছবি ও ছবি সংবলিত একটি চাবির রিং। বিনিময় মূল্য ২০ ডলার। বাংলাদেশী টাকায় ডলারের রূপান্তর ঘটালে কোনো কিছু কেনা সম্ভব নয়। দুজনে দুই কাপ কোন্ড কফি কিনে চুমুক দিলাম। আমেরিকান ডলার খরচ করছেন আমেরিকান রোজগেরে টিংকু ভাই। খরচের ভার আমার ওপর চাপলে রীতিমতো নাভিশ্বাস উঠত।

আমি যেন এক নভোচারী
নাসার ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় চন্দ্রবিজয়ী তিন নভোচারীর ছবি। হিউস্টনের সঙ্গে ওই নভোচারীদের নিবিড় সম্পর্ক। চাঁদে অবতরণকালে তারা প্রথম যে শব্দটি উচ্চারণ করে পৃথিবীতে পাঠায় তা হলো ‘হিউস্টন’। হিউস্টনের নাসা থেকেই তাদের নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছিল। চাঁদের বুকে থেকে পৃথিবীতে যোগাযোগ করেছিল এই হিউস্টনের মাধ্যমেই। তিন নভোচারী নিল আর্মস্ট্রং, এডউইন অলড্রিন ও মাইকেল কলিন্সের বাঁধানো ছবির পাশে দাঁড়িয়ে ছবি তুললাম। ভাবখানা আমি যেন তাদের মতো একজন নভোচারী। কিন্তু প্রকৃত নভোচারী নির্বাচনে নাসা অত্যন্ত কঠোর। নভোচারী হতে ইচ্ছুকদের অবশ্যই জেট বিমান চালনায় দক্ষ হতে হবে। তাকে নানা ধরে নর কাজ ও বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, পুষ্টিকর খাবার আর গভীর ঘুম তার জন্য জরুরি। নাসা তাদের প্রশিক্ষণের জন্য মহাশূন্যের আবহ তৈরি করা পরিবেশের থ্রিডি গিয়ার ব্যবহার করে। মহাশূন্যে যাত্রার কর্মসূচিতে আগ্রহী নভোচারীকে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সঙ্গে নির্বাচন করা হয়। তাকে একই সঙ্গে শিক্ষাগত ও শারীরিকভাবে যোগ্যতাসম্পন্ন হতে হয়।
মহাশূন্যের জীবনাচার
নাসার একটা ডামি রকেটের ভেতরে ডামি নভোচারীদের মাধ্যমে মহাশূন্যের জীবনাচার দেখানো হয়েছে। নভোচারীদের মাধ্যম মহাশূন্যের জীবনাচার দেখানো হয়েছে। নভোচারীদের রুটিনের মধ্যে আছে আড়াই ঘণ্টা ব্যায়াম। তবে সেটা খাদ্য গ্রহণের ঠিক আগে পরে গলে চলবে না। মহাশূন্যে নভোচারীরা নভোযানের বাইরে সর্বোচ্চ ৭ ঘণ্টা পর্যন্ত হেঁটে বেড়াতে পারেন। মাধ্যাকার্ষণের বাইরে থাকার কারণে তাদের আচমকা নিচে পড়ার আশঙ্কা নেই। তাদের বিশেষ পোশাকে পর্যাপ্ত পরিমাণ ডায়াপার থাকায় নভোযানের বারে স্পেসওয়াক করতে কোনো সমস্যা হয় না। কিন্তু নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই তাকে আবার নভোযানে ফিরে এসে কমপক্ষে এক ঘণ্টার জন্য স্বাভাবিক হওয়ার কসরত করতে হয়। মহাশূন্যে অবস্থানকালেও তাদের পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকে। তারা তাদের অভিজ্ঞতার কথা জানান এবং তাদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারটাও বেশ মজার। অভিযানের প্রথম দিকে তারা পেস্ট করা খাবার খেয়েই কোনো রকমে ক্ষুধা মেটাতেন। ব্যাপারটা অনেকটা এ রকম, একটা টিউবে করে খাবার দেওয়া হতো। আর নভোচারীরা সেটা থেকে পেস্টের মতো টিপে খাবার বের করতেন। এখন আর এত কষ্ট করতে হয় না। নভোযানে পর্যাপ্ত পরিমাণ খাবারের ব্যবস্থা থাকে। তবে নভোচারীরা খাওয়ার কিছুক্ষণ আগে নিজেদের হাতেই সেটা তৈরি করেন। মহাশূন্যে পাঠানোর জন্য এসব খাবারকে বিশেষ উপায়ে পানি শূন্য করা হয়। খাবর তৈরির সময় নভোচারীরা এর মধ্যে পরিমাণ মতো পানি মিশিয়ে নেন। নভোযানের ফুয়েল সেলে প্রচুর পানি থাকায় খাবারগুলোর ওজন কমানোর জন্য এই পানিশূন্য করার ব্যবস্থা। খাবারের জন্য প্রয়োজনীয় ছুরি, কাটা চামচ, কাঁচিসহ কাসুন্দি, ঝলসস সবকিছুই তাদের সঙ্গে থাকে। মহাশূন্যে তারা এখন তিন বেলাই পছন্দসই খাবার খেতে পারেন। মহাশূন্যে মলমূত্র ত্যাগের জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা। পৃথিবীর মতো মহাশূন্যে তারা টয়লেট ব্যবহার করতে পারেন না। তাদের টয়লেট বিশেষভাবে তৈরি। এর নিচের দিকে থাকে বড় ধরনের একটি টিউব। আর সে টিউবে থাকে বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা। নভোচারীদের বর্জ্যগুলো ওই টিউবের অপর প্রান্তে রাখা একটি ট্যাঙ্কে জমা হয়। আছ স্নানের ব্যবস্থাও। তবে মধ্যাকর্ষণ না থাকায় নোংরা পানি ও সাবান নিচের দিকে না নেমে চারপাশে ভেসে থাকে। এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তারা আর্দ্র এক ধরনের স্পঞ্জ দিয়ে নিজেদের পরিষ্কার করেন। মহাশূন্য পর্যাপ্ত ঘুমের কথা থাকলেও উত্তেজনায় ঘুম আসে না। সে কারণে তাদের ঘুমের বড়ি খেতে হয়।

 

লুনার মডিউল
অ্যাপোলো মহাকাশযানের একটি অংশ লুনার মডিউল। কক্ষপথ থেকে চন্দ্রপৃষ্ঠে অবতরণের কাজে সহায়তা করার জন্য তৈরি হয়েছিল এই মডিউল। দুজন ক্রু বহনের উপযোগী করে বানানো হয়েছিল এটি। মডিউলটির উচ্চতা ৬.৪ মিটার, প্রস্থ ৪.৩ মিটার। উড্ডয়ন আর অবতরণÑদুটি অংশ নিয়ে গঠিত এই মডিউল। চারটি পায়ার ওপর স্থাপন করা হয় এ মডিউল। সবগুলো অংশের সম্মিলিত ওজন ১৫৮ হাজার ২৬৪ কিলোগ্রাম। ’৬২ সালে এই মডিউলটির নকশা এবং নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা ব্যবস্থা তৈরি করেছিল এমআইটি ইন্সট্রমেন্টেশন ল্যাবরেটরি। প্রথম লুনার মডিউলটি উড্ডয়ন বা উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল ’৬৮ সালের ২২ জানুয়ারি। এটি ছিল মনুষ্যবিহীন।

চন্দ্রশিলা
প্রায় ৩৮২ কেজি ওজনের পাথরসহ অ্যাপোলো মহাকাশযানের চন্দ্র অভিযানের সময় সংগৃহীত নমুনাগুলোই চন্দ্রশিলা। এই চন্দ্রশিলা সংগ্রহের কাজে ব্যবহার করা হয়েছে হাতুড়ি, আঁচড়া এবং কোর টিউব। চন্দ্রপৃষ্ঠ থেকে সংগৃহীত পাথরগুলোর বয়স পৃথিবীর বুকে জন্ম নেওয়া পাথরগুলোর চেয়ে ঢের বেশি।
ধারণা করা হয়, চাঁদের এই পাথরগুলোর জন্ম হয়েছিল আমাদের এই সৌরজগতের জন্মের প্রায় কাছাকাছি সময়ে। তবে এই পাথরগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর সাধারণ পাথরের প্রকৃতিগত বড় ধরনের কোনো তফাৎ নেই। চাঁদ থেকে আনা পাথরগুলো এখন অমূল্য রতœ। ’৯৩ সালে ০.২ কিলোগ্রাম ওজনের চাঁদের পাথরের ক্ষুদ্র তিনটি অংশ বিক্রি হয়েছিল ৪ লাখ ৪২ হাজার ৫০০ মার্কিন ডলারে। দুটি জিনিসই আছে নাসা জাদুঘরে।

 

৪.৪.২০০৫

ছড়িয়ে দিন