ঘোষণার দুই মাসেও আসেনি প্রজ্ঞাপন : ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

প্রকাশিত: ১:২২ অপরাহ্ণ, জুন ১৫, ২০১৮

ঘোষণার দুই মাসেও আসেনি প্রজ্ঞাপন : ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি

স্টাফ রিপোর্টার
সরকারি চাকুরিতে বিদ্যমান কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের দাবি জানিয়ে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন চালাচ্ছে শিক্ষার্থীরা। গত মে মাসের ৮, ৯, ১০, ১১ তারিখে এ আন্দোলন প্রকোপ আকার ধারণ করলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারি চাকুরি ব্যবস্থায় কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার প্রায় ২ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি।
এব্যাপারে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা গণমাধ্যমকে বলেন, এখনো পর্যন্ত এ বিষয়ে তারা কোনো লিখিত নির্দেশনা পাননি। এমনকি এ বিষয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বে যে কমিটি গঠনের কথা হয়েছিল তাও গঠন করা হয়নি। আগামীকাল থেকে ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হবে। আর আজকের মধ্যে প্রজ্ঞাপন আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই। তাই আন্দোলনকারীদের ঈদের ছুটি শেষ হওয়ার আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এদিকে দফায় দফায় বৈঠক ও আশ্বাসের পরও প্রজ্ঞাপন জারি না হওয়ায় আন্দোলনকারীদের মনে ক্ষোভের সঞ্চার হচ্ছে। তারা ইতিমধ্যেই ঈদের আগে প্রজ্ঞাপন না হলে ঈদের পরে কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুশিয়ারি দিয়েছে।
শিক্ষার্থীরা বলেছে, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে তিনবার আন্দোলন স্থগিত করা হয়েছে। কিন্তু এরপরও জারি হয়নি প্রজ্ঞাপন। তারা ঈদের আগ পর্যন্ত অপেক্ষা করেছে। কিন্তু আজকে সরকারি কার্যদিবসের শেষ দিবসেও প্রজ্ঞাপন আসেনি। তাই ঈদের পর সারাদেশের সকল শিক্ষার্থীকে নিয়ে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে তারা দাবি আদায় করবে।
গত ১১ই মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতীয় সংসদের এক অধিবেশনে কোটা ব্যবস্থা বাতিলের ঘোষণা দেন। এসময় তিনি ক্ষুদ্র জাতিসত্তা ও প্রতিবন্ধীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থার কথা বলেছিলেন। এ বিষয়ে মন্ত্রী পরিষদ সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠনের কথা ছিল। তাদের দ্বারাই বিষয়টি সুস্পষ্ট হওয়ার কথা। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কোটা ব্যবস্থা বিলুপ্ত হবে নাকি সংস্কার হবে তা সুস্পষ্ট হয়নি।
এব্যাপারে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নুরুল হক নুরু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আশ্বাসে আমরা তিন তিন বার আন্দোলন স্থগিত করেছি। আমরা কেবলমাত্র প্রধানমন্ত্রীর কথার উপর ভরসা করে আন্দোলন স্থগিত করেছি। কিন্তু ২ মাস পার হয়ে গেলেও এখন আশার আলো মেলেনি। জারি হয়নি প্রজ্ঞাপন। প্রশাসন কেবল আমাদের সান্তনার জন্য প্রজ্ঞাপনের কথা বলছে। তাদের কথায় ও কাজে কোনো মিল নেই। মূলত প্রশাসনকে ব্যবহার করে আমাদের আন্দোলনকে দমানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। সরকারের উপর শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ বাড়ছে। তাই যৌক্তিক দাবি আদায়ে আবারো শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসবে। এছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।
এব্যাপারে কোটা আন্দোলনের আরেক সমন্বয়ক মুহম্মদ রাশেদ খান বলেন, আমাদের সরকারের পক্ষ থেকে তিনবার আশ্বাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু আমরা সরাকারের আশ্বাসে আশ্বস্ত হয়ে আন্দোলন থেকে সরে আসলেও সরকার আমাদের কোনো কথাই রাখেনি। আমরা এখন আর কোনো আশ্বাসে বিশ্বাসী নই। ঈদের আমরা কঠোর আন্দোলনে নামবো এবং প্রজ্ঞাপন নিয়েই মাঠ ছাড়বো। সারা বাংলায় আন্দোলনের দাবানল ছড়িয়ে পড়বে। তবুও প্রজ্ঞাপন ছাড়া বাংলার ছাত্রসমাজ রাজপথ ছাড়বে না।
এব্যাপারে কোটা আন্দোলনের অন্য আরেক সমন্বয়ক ফারুক হাসান বলেন, ঈদের পরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
এব্যাপারে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ হাসান শাওন বলেন, কোটা ব্যবস্থা সংস্কারের জন্য সরকারকে অনেক সময় দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার ৬২ দিন পার হয়েছে। কিন্তু এখনো প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ঈদের পর আমরা সারা বাংলার ছাত্রসমাজ নিয়ে একযোগে রাজপথে আন্দোলনে নামবো। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা রাজপথ ছাড়বো না।
এদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সূত্র মতে, প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে লিখিত নির্দেশনা না পেলে তারা প্রজ্ঞাপন জারি করতে পারবে না। কোটা সংস্কারের ব্যাপারে একটি কমিটি করার প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় থেকে নির্দেশনা পেলেই প্রজ্ঞাপন জারি হবে বলে জানায় সূত্রটি।